লাইব্রেরিতে ঢুকে মারধর

রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাবি

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০৯
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলার আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত মামলাটি আমলে না নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর মতিহার আমলি আদালতে আহত শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা এম এস আসাদ উজ জামান মামলার আবেদন করেন। মামলায় নয়জনের পাশাপাশি আরও ১৭ থেকে ১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মাহিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— এজিএস সালমান সাব্বির, রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাকসুর সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান ও নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে ছুরি, লোহার রড, বেল্ট ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা মাহিনকে ধাওয়া করে ঘিরে ফেলেন। এ সময় সালাউদ্দিন আম্মার রড দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করেন। সালমান সাব্বিরও মাথায় আঘাত করলে তার বাম চোখে গুরুতর জখম হয়। পরে অন্য আসামিরা তার বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, চারজন আসামি মাহিনকে মাটিতে ফেলে তার বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে চাইলে অভিযুক্তরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হযরত আলী বলেন, আদালত মামলাটি সরাসরি গ্রহণ করেননি। তদন্তের জন্য বিষয়টি পিবিআইকে পাঠিয়েছেন। বাদী মাহিনের বাবা আবেগের বশবর্তী হয়ে মামলাটি করেছেন। মাহিন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে এক শিক্ষার্থীর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে রাকসু কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে রাকসু নেতাকর্মী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত