জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কার্যালয়ের জন্য প্রেস ক্লাব ‘দখলের চেষ্টা’ জুলাইযোদ্ধাদের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এই প্রেস ক্লাব ভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠনের কার্যালয়ের জন্য প্রেস ক্লাব দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র অভিযোগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে প্রেস ক্লাব ফটকে তালা ঝুলানোর ঘটনাও ঘটেছে। পরে সাংবাদিকরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে ৩২ জন আহত হন। তারা পরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামে সংগঠনটি করেন। এই সংগঠন ৫ আগস্টের পর থেকে প্রেস ক্লাব ভবন দখল করে নিজেদের কার্যালয় খোলার চেষ্টা করছে।

প্রেস ক্লাবের বিষয়ে তারা জানান, গোদাগাড়ীর সাংবাদিকদের একাংশ ২০০৪ সালে ‘উপজেলা প্রেস ক্লাব, গোদাগাড়ী’ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৯ সালে উপজেলার ডাইংপাড়া মোড়ে এককক্ষের প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন এই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির তোতা। জুলাইযোদ্ধাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। এটি সামনে এনে প্রেস ক্লাবটি দখলের চেষ্টা চলছিল। সম্প্রতি প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি করা হলেও সেই চেষ্টা থামেনি।

বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধার সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এতে বলা হয়, প্রেস ক্লাবের ব্যানারে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়ার দাবিও জানানো হয় এতে।

ইউএনওর কাছে এই অভিযোগ দেওয়ার পরই মুরশালিনের নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ফটকে তালা ঝুলানো হয়। এরপর প্রেস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি সাইফুল ইসলাম গোদাগাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে সাংবাদিকরা তালা ভেঙে কার্যালয়ে ঢোকেন।

এ বিষয়ে মো. মুরশালিন বলেন, ‘ওখানে সব আওয়ামী লীগের দোসররা থাকত। ৫ তারিখের পর বন্ধ করা হয়েছিল। আমার মতে, ভালো হবে একটু বসে সমাধানটা করে নেওয়া। আমরা ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি যা করবেন তাই হবে।’

তবে সংগঠনের সভাপতি এবং গোদাগাড়ী পৌর যুবদল নেতা সাবিয়ার রহমান মিল্টন বলেন, জুলাইয়ের আহতরা সংগঠনটি করেছি। সংগঠনের কয়েকজন আগের দুই ইউএনওর সময় থেকেই প্রেস ক্লাবটি নিয়ে কার্যালয় খুলতে চাইছিল। ইউএনওদের জানানোও হয়, কিন্তু আমি সমর্থন করিনি। আর তালা দেওয়ার বিষয়টি জানতাম না।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটি আমরা কষ্ট করে তিলে তিলে নির্মাণ করেছি। যাকে নিয়ে আপত্তি তাকে বাদ দিয়ে কমিটিও করা হয়েছে। এখানে সাংবাদিকতার চর্চা হয়। তারপরও দখলের চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ কোনো দায়িত্ব নিতে চায়নি। ইউএনওর কাছে গিয়েছিলাম। তিনিও এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে তালা দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। আবার প্রেস ক্লাব নিয়ে ইউএনওর কাছেও অভিযোগ গেছে। বিষয়টা পুলিশ হ্যান্ডেল করতে চাচ্ছে না। এটা ইউএনও দেখবেন।’

ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘ওইভাবে কেউ দখল নেয়নি। প্রেস ক্লাবে তালা দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা আবার তালা ভেঙে ঢুকেছেন। কার কী সমস্যা সেটা দু’পক্ষের কথা শুনলে বোঝা যাবে। বক্তব্য শুনে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত