কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানে অন্য কারও সঙ্গে অবনতি নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অন্য দেশের প্রেক্ষাপটে কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘জিরো-সাম গেম’ বা শূন্য-সমষ্টির খেলা নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করি। কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানে এই নয় যে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কূটনীতিতে আমরা আন্দাজের ভিত্তিতে কাজ করি না, বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তিতে কাজ করি না। কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের প্রেক্ষাপটে জিরো-সাম গেম নয়। অর্থাৎ একজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন—আমরা কখনোই তা করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান, আমরা আশা করব সেই সফরও অত্যন্ত ভালো হবে।’

পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের তো শুধু একটি দেশের সঙ্গে নয়, বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এটি স্ত্রী আর সতিনের মধ্যে মারামারির মতো বিষয় নয়। এটি স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের স্বার্থ রয়েছে, আমরা সেখানেই যাব।’

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের (ব্রিকস সম্মেলন) বিষয়ে আপনারা বলেছেন। আমরা সেটি এখন পর্যালোচনা করছি, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তারপর আপনাদের তাৎক্ষণিকভাবে জানাব।’

অন্যান্য সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একাধিক আমন্ত্রণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি অনুযায়ী তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিউইয়র্কে যাবেন। সবকিছু আমাদের সম্মিলিতভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। আজ আমরা কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে কথা বলিনি। কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আজ প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছে। এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি। সে জন্য আমাদের সামনে সময় আছে। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের ব্যাপারে তো আমরা আগেও বলেছি। এ বিষয়ে আমরা দুজনই একমত।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত