গ্যাস সংকটে রাজধানীতে জ্বলছে না চুলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২২: ৪৬
গ্যাস সংকটে রাজধানীতে জ্বলছে না চুলা। ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন ধরেই সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জ্বলছে না চুলা। ভোগান্তিতে পড়েছে আবাসিক গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, পুরানো ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকছে না। বাসিন্দারা জানান, সারা দিন গ্যাস থাকে না, রাতে আসে। কয়েক ঘণ্টা থাকে। তবে রাতে গ্যাস এলেও চাপ থাকে খুবই কম। এতে ঠিক মতো রান্না করা যায় না।

অনেকে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে এখন রান্নার কাজ সারছেন। অনেকে গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে পরদিনের রান্না করে রাখছেন।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুন নাহার স্ট্রিমকে বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস পাই না। রাতে যে গ্যাস আসে, তাতে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি।

পুরানো ঢাকায় ব্যাচেলর থাকেন মোহাম্মদ তুহিন। আগে বাসায় রান্না হলেও, এখন পারছেন না। তিনি বলেন, দিনের বেলা বাসায় বুয়া এসে রান্না করে যেত। এখন সারা দিন গ্যাস থাকে না। বুয়া রাতে আসে না। ফলে বাসায় রান্না একেবারে বন্ধ। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার খাচ্ছি।

মিরপুরের বাসিন্দা সামছুন নাহার বলেন, রাত ৯টার আগে গ্যাস আসে না। যে গ্যাস আসে, তাতে ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা লাগে। এভাবে তো রান্না করা সম্ভব না। তাই সিলিন্ডার নিতে হয়েছে। সিলিন্ডারের প্রচুর দাম।

কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘বাসায় ছোট সন্তান আছে। তাদের জন্য সময় মতো খাবার প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু লাইনের গ্যাসে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ, বাধ্য হয়ে অন্য উপায় বের করতে হয়েছে।’

গ্যাস সংকটে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিণীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকটের জন্য গণপরিবহন চাপের মুখে পড়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই মুহূর্তে আমরা তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছি না। এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। তবে আমাদের টিম কাজ করছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত