রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৪২
সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস। সংগৃহীত ছবি
সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস। সংগৃহীত ছবি

রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় নতুন করে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেওয়া সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে আটক করেছে ডিবি।

শনিবার বিকেলে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক দিন ধরে বিনয় চন্দ্র ও পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আসতে বলা হচ্ছিল। তবে তাঁরা এতে সাড়া দেননি। পরে দুজনকে আটক করে কার্যালয়ে আনা হয়।

ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, চার হত্যাকাণ্ডে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা তাঁদের বাসায় গিয়ে বলে এসেছিলাম, আপনারা একটু আসেন; আপনাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। কিন্তু তাঁরা আসেননি। তাঁরা বারবার বলেছেন, আমরা কেন যাব। তাদের জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তাঁরা এখন আমাদের কাছে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তাঁদের হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। বাড়ির সঙ্গে বাড়ি, তাঁর ছেলে ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছে। আমরা তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ করব, তারপর সিদ্ধান্ত।’

এদিকে শনিবার চার হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ‘খবরের কাগজ’-এর রংপুর জেলা প্রতিনিধি সেলিম সরকার। তাঁর অভিযোগ, বিকেলে তিন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তাঁর মোটরসাইকেল আটকে চাবি নিয়ে নেন। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে তাঁকে হেনস্তা করা হয়।

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তাঁর ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।’

সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মাছুয়াপাড়ায় গত সপ্তাহে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আসায় শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। মামলার তদন্ত এখন ডিবি করছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত