আদালতে প্রশ্ন

সুব্রত বাইনের মেয়ে বলেই কি জুলাই আন্দোলনের মামলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১৮: ১২
আদালত প্রাঙ্গণে সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ভাটারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক নারীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিথীর দাবি, জুলাইয়ে তিনি চাকরির কারণে সিলেটে ছিলেন। শুধু বাবার পরিচয়ের কারণেই তাকে রাজনৈতিক এসব মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে সোহেলী তামান্না নামের এক নারীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়।

গত ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই আমিনুর রহমান বিথীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। শনিবার আসামির উপস্থিতিতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের পক্ষে কথা বলেন খাদিজা ইয়াসমিন বিথী। বারবার মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন। আমার বাচ্চা আছে। বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে চলি। এত টাকা কই পাব?’

জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে শুনানিতে বিথী বলেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগের সঙ্গে জড়িত থাকব কীভাবে? শুধুমাত্র বাবার কারণে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের একটা মেয়ে বাচ্চা আছে। এর আগে আমি একটি মামলায় জামিন পাই। পরে আবার সাজানো মামলা দেয়।’

আন্দোলনের সময় নিজের অবস্থান এবং গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বারবার এত মামলা দেওয়ার কারণ কী জানি না। আমি সেদিন আমার বাবাকে দেখতে গেছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। মেয়ে হিসেবে বাবাকে দেখতে যেতেই পারি। আমি জুলাইয়ের সময় পার্ট টাইম জবের জন্য সিলেট ছিলাম।’

এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে আদালতকে জানানো হয়।

ভাটারায় করা এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, চব্বিশের সরকার পতনের দিন বেলা ১১টায় ভাটারায় রাস্তার ওপর সোহেলী তামান্নাসহ আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়াভাবে গুলি বর্ষণ চলে। আসামিদের ছোড়া গুলিতে সোহেলী তামান্না গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চিকিৎসা শেষে পরবর্তীতে ভাটারা থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন তামান্না। সেই মামলাতেই শনিবার বিথীকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত।

সম্পর্কিত