ট্রাইব্যুনালে ‘১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের’ গুজব, সেই যুবলীগ নেতার জামিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ২৩: ৫২
যুবলীগ নেতা এম এইচ পাটোয়ারী বাবু। সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলা ঘিরে ‘১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন’ হয়েছে বলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা এমএইচ পাটোয়ারী বাবুকে জামিন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।

ফেসবুকে অপপ্রচারের দায়ে এই ওই নেতাকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। ওই সাজাতেই বৃহস্পতিবার (২১ মে) চেম্বার-১ আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক তাকে জামিনের আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত অবমাননার মূল বিষয়টি আগামী ২৪ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদেশের পর পাটোয়ারী বাবুর পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল হাই স্ট্রিমকে বলেন, মামলাটিতে জামিন হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। জামিন মঞ্জুর হওয়ায় উনার মুক্তি পেতে কোনো বাধা নেই এবং পরবর্তী শুনানিতে মামলার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে ‘আদালত অবমাননার’ দায়ে এমএইচ পাটোয়ারী বাবুকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই সাজা ঘোষণা করে। দণ্ডিত পাটোয়ারী বাবু ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেছিল, ‘আসামির অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাজা না দিলে ভুল বার্তা যাবে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ আছি এবং আমাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশি-বিদেশি কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না।’

সেদিন শুনানিতে প্রথমে বাবুর স্ত্রী ইসমাত জেরিনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চান। পরে বাবু নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি পড়ে শোনান। এ সময় তিনি দাবি করেন, অন্য একটি আইডি থেকে লেখাটি কপি করে নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন। ভবিষ্যতে এমন পোস্ট না দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনিও ক্ষমা চান।

আসামির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান এবং অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল প্রথমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটরদের বিশেষ অনুরোধে সাজা কমিয়ে প্রথমে তিন মাস এবং শেষ পর্যন্ত দুই মাস নির্ধারণ করা হয়। তবে তার স্ত্রী ইসমাত জেরিনকে ‘মানবিক বিবেচনায়’ ক্ষমা করে ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে বাবু দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালে ১২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

পোস্টে তিনি ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি জুড়ে দেন।

বিষয়টি নজরে আসার পর ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল ও সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সঙ্গে ওই পোস্টে যারা লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করেছেন, তাদের নাম-পরিচয় আদালতে জমা দেওয়ার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরোয়ানার পর বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহার নেতৃত্বে পুলিশ মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বাবুর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে পায়নি। তবে তার স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়।

ডিবি ও মিরপুর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় ৮ এপ্রিল বাবুর স্ত্রী ইসমাত জেরিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তিনি চার দিনের মধ্যে স্বামীকে আদালতে উপস্থিত করার অঙ্গীকার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ এপ্রিল দুপুরে সস্ত্রীক ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন পাটোয়ারী বাবু। পরদিন শুনানিতে তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত