ভারতে ‘ককরোচ জনতা পা‌র্টি’ নিয়ে তোলপাড়, তারা কারা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ২৩: ২৪
ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ছবি।

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্যে দেশটিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে বিদ্রূপাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। এক সপ্তাহে এই আন্দোলন সামাজিক মাধ্যমে কোটি মানুষের সমর্থন পেয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুকরণে সিজেপি ইতিমধ্যে অনলাইনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

গত সপ্তাহে এক মামলার শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সাংবাদিকতা বা সমাজকর্মী হওয়ার চেষ্টা করছে এমন বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। যদিও পরে তিনি বলেন, এই কথা কেবল জাল সনদধারী ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সিজেপি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকেও (৮৭ লাখ) ছাড়িয়ে গেছে সিজেপি। তবে আইনি দাবির মুখে সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই দলের অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ভারতে দেখা যাচ্ছে না।

সিজেপির সমর্থকরা ‘ম্যায় ভি তেলাপোকা’ (আমিও তেলাপোকা) হ্যাশট্যাগে নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করছেন এবং অনেক তরুণ তেলাপোকার বেশে রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্যপদের অদ্ভুত শর্ত

এই আন্দোলনের মূল কারিগর বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও সাবেক রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক। তিনি জানান, শুরুতে স্রেফ কৌতুক হিসেবে শুরু হলেও এটি এখন বড় আকার নিয়েছে।

এই আন্দোলনের মূল কারিগর অভিজিৎ দীপক। ছবি: সংগৃহীত
এই আন্দোলনের মূল কারিগর অভিজিৎ দীপক। ছবি: সংগৃহীত

সিজেপির সদস্য হওয়ার জন্য কিছু বিদ্রূপাত্মক শর্ত দেওয়া হয়েছে; যেমন—বেকার হওয়া, অলস হওয়া এবং সারা দিন অনলাইনে পড়ে থাকার পাশাপাশি পেশাদার কায়দায় আক্ষেপ করার ক্ষমতা। দলের ওয়েবসাইট বলছে, ‘সবকিছু ঠিক আছে’ এমন ভান করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষের কণ্ঠস্বর তারা।

বিদ্রূপের আড়ালে রাজনৈতিক দাবি

যদিও এই আন্দোলন হাস্যরস এবং বিদ্রূপের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে এর আড়ালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি রয়েছে। তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো—বিচারপতিরা অবসরের পর বা পদত্যাগ করে সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিতে পারবেন না। বর্তমানে ভারতে অনেক বিচারপতিকে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় যেতে বা আরএসএসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকার অসংগতি দূর করার দাবি তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগীরা তালিকায় কোটি কোটি ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং বেছে বেছে মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।

দলটির দাবির তালিকায় রয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সংস্কার। সিজেপির মতে, বর্তমান মিডিয়া পুরোপুরি সরকারি প্রোপাগান্ডা মেশিনে পরিণত হয়েছে এবং যেকোনো সংকটের জন্য উল্টো বিরোধী দলকেই দায়ী করে।

তেলাপোকা জনতা পার্টির ইশতেহার।
তেলাপোকা জনতা পার্টির ইশতেহার।

ভারতের অভিজ্ঞ রাজনীতিক অখিলেশ যাদব, মহুয়া মৈত্র এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও এই প্রতীকী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিজেপির এই উত্থান মূলত ভারতের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিফলন। ভারতের অর্ধেক জনসংখ্যাই ৩০ বছরের নিচে হলেও মূলধারার রাজনীতিতে তাঁদের প্রতিনিধি কম।

বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যে তরুণদের হতাশা এই আন্দোলনের ভাষায় নিজেদের খুঁজে পেয়েছে। যদিও এটি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবে সিজেপি ইতিমধ্যেই প্রথাগত রাজনীতির ব্যাকরণকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত