জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

মস্তিষ্কের চিকিৎসা করতেন এইচএসসি পাস নুরুল, ৬ মাসের জেল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৩
রাজশাহীতে চিকিৎসা-প্রতারক নুরুল ইসলামকে জেলখানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী শহরের বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। তবে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের লোকজন তাঁকে চেনেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে। বাদলে ফেলেছেন নামও। এখন তিনি ডা. মো. রফিকুল হাসান। নিজের নামের পাশে লিখতেন এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন) ও এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন) ডিগ্রি। মস্তিষ্ক (ব্রেন), মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), পক্ষাঘাতের (প্যারালাইসিস) মতো জটিল রোগের চিকিৎসা করতেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলে নুরুল ইসলাম। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সেখানেই অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে এই চিকিৎসা-প্রতারককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাফিউল্লাহ নেওয়াজ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে নুরুল ইসলাম কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে অভিযানে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকেও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেনে-শুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ জরিমানা করা হয়।

বাগমারার আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে আটক করা হয় প্রতারক নুরুল ইসলামকে। সংগৃহীত ছবি
বাগমারার আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে আটক করা হয় প্রতারক নুরুল ইসলামকে। সংগৃহীত ছবি

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনের একটি নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতেন। আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার করতেন তিনি। হাসপাতালের ভেতরে ও চেম্বারের সাইনবোর্ডে লেখা এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন)।

এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবেও উল্লেখ করা ছিল। সাইনবোর্ডে আরও উল্লেখ ছিল তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা দেন। কিন্তু তদন্তে এ সব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে প্রমাণিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক নুরুল ইসলাম ভবানীগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলঅ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার ক্লিনিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি। তাঁর দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, ‘জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভুয়া ডাক্তার, অননুমোদিত ক্লিনিক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত