চিপসের প্যাকেটের সঙ্গে বাঁধা বাজারের ব্যাগ, বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরণের পর ওই এলাকাটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। সংগৃহীত ছবি

বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি বাড়ির পাশে রাখা রেখে যাওয়া বাজারের ব্যাগে বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ৭টা দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের উত্তর দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিস্ফোরণের ধরন নিশ্চিত হতে ঢাকার বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা চেয়েছে তারা।

আহতরা হলেন গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৪০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) ও নাতি ফাহিম (১৫)। বিস্ফোররে পর তাঁদের প্রথমে বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া নাতি ফাহিমকে সকালে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন হনুফা বেগম। তাদের সঙ্গে ইতি আক্তারও ছিলেন। পথে হানুফার ছেলে জামাল ও কামালের বাড়ির কাছে নির্মাণসামগ্রীর পাশে রাখা একটি বাজারের ব্যাগে বোমাসদৃশ বস্তুটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনজনের শরীরে আগুন ধরে গেলে প্রাণ বাঁচাতে তারা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন।

শাহ আলমের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, ‘বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আমার মা, বোন ও ভাগনের শরীরে আগুন ধরে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। ততক্ষণে তাঁদের শরীরের কাপড় পুড়ে যায়। তবে বোমাসদৃশ বস্তুটি সেখানে কীভাবে এল, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’

হাসপাতালে ইতি আক্তার বলে, প্রথমে দেখি রাস্তায় বাদাম পড়ে আছে। তারপর দেখি একটা রশির সঙ্গে লাল রঙের তিন প্যাকেটে চিপস ঝোলানো। এর সোজা নিচে একটা নতুন বাজারের ব্যাগের সঙ্গে রশি দিয়ে এগুলো বাঁধা। এটা দেখার জন্য এগিয়ে যাওয়ার সময় কাদায় পা ফসকে ব্যাগে হাত পড়তেই বিস্ফোরণ হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের নার্স লিংকন দত্ত বলেন, ফাহিমের মুখ, হাত ও পা দগ্ধ হয়েছে। হনুফা বেগমের কোমর ও বুকের অংশ পুড়ে গেছে। তারা সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণসামগ্রীর বালুর বস্তার মধ্যে থাকা বোমাসদৃশ বস্তুটি বিস্ফোরিত হয়েছে। এলাকাটি নিরাপত্তার মধ্যে রেখে বিস্ফোরণের উৎস ও কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরিশালের পুলিশ সুপার (এসপি) এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিস্ফোরিত বস্তুটি ককটেল, নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকার বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা বিকেলের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত