সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ

সম্প্রতি বাংলাদেশে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বা বাধ্যতামূলক শ্রমের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের খবরের পরই বিষয়টি সামনে আসে। এখন প্রশ্ন হলো, জোরপূর্বক শ্রম আসলে কী, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর চিত্র কেমন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের নীতি কতটা যৌক্তিক?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম হলো—কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, শাস্তির ভয় দেখিয়ে বা বলপ্রয়োগ করে শ্রম দিতে বাধ্য করা। এর ব্যাপক অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো পরিস্থিতির মুখে ফেলা যাবে না, যেখানে সে কাজ করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের সংবিধান, দণ্ডবিধি (পেনাল কোড) এবং শ্রম আইনে জোরপূর্বক শ্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আইএলও-এর এ সংক্রান্ত দুটি কনভেনশনেই বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে।
সরাসরি জোরপূর্বক শ্রমের যে চিত্র আমরা মিয়ানমার বা বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দেখি, বাংলাদেশে সে রকম পরিস্থিতি নেই। তবে এখানে ‘জোরপূর্বক শ্রম-সাদৃশ্য’ কিছু কাজের চর্চা বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, ইটের ভাটায় সর্দারদের মাধ্যমে আগাম টাকা বা দাদন দিয়ে শ্রমিকদের আটকে রাখার যে প্রথা, তা একধরনের বাধ্যতামূলক শ্রমের সমতুল্য।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক আরোপের কথা বলছে, তার পেছনের কারণ কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটা কোনো জোরপূর্বক শ্রম নয়। তারা মূলত সেই দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখান থেকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক বা অন্যান্য পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, ওইসব নির্দিষ্ট দেশে কাঁচামাল উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার রয়েছে। আর সেই কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হচ্ছে বলেই তারা অতিরিক্ত শুল্ক বসাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানটি একদিকে অবাস্তব এবং অন্যদিকে চরম অনৈতিক। প্রথমত, অন্য কোনো দেশে যদি জোরপূর্বক শ্রম থাকে, সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার জোরালো অবস্থান বাংলাদেশের নেই। এ ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য আইএলও, ডব্লিউটিও বা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। তারা যদি কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে তা মেনে চলবে। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না আসা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিকভাবে এমন শর্ত চাপিয়ে দেওয়াটা একটি দুর্বল দেশের ওপর শক্তিশালী দেশের অযাচিত চাপ প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।
দ্বিতীয়ত, জোরপূর্বক শ্রম চরম পর্যায়ের একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো একটি বিষয়কে শুল্কের শর্ত হিসেবে দাঁড় করানো যায় না। কেউ যদি বলে, "যেহেতু পণ্যটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তাই ১০ শতাংশ বেশি শুল্ক দিতে হবে"—এর অর্থ দাঁড়ায়, শুল্ক দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকেও ‘জায়েজ’ বা বৈধ করা যায়। কিন্তু যৌক্তিক কথা হলো, মানবাধিকার কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য হতে পারে না।
বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি দুর্বল পক্ষ। আমাদের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল; অথচ এর কাঁচামাল আমাদের আমদানি করতে হয়। চামড়ার মতো নিজস্ব কাঁচামাল থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে তা নষ্ট হয়। আমরা এমন একটি ভঙ্গুর শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যার সুতা থেকে শুরু করে সব কাঁচামাল অন্যের কাছ থেকে আনতে হয়। এই দুর্বল অবস্থানে থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কোথায় জোরপূর্বক শ্রম হচ্ছে, তা শতভাগ তদারকি করা বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বাস্তবসম্মতও নয়।
তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এসব চাপের বাইরে আমাদের নিজেদের শ্রমখাতের দিকেও তাকাতে হবে। আমাদের সামগ্রিক শিল্পখাতে এমন একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা দাঁড় করানো হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে জোরপূর্বক শ্রমেরই নামান্তর। যেমন, একজন শ্রমিকের মূল বেতন (বেসিক) ধরা হলো ৮,০০০ টাকা। বর্তমান বাজারে এই টাকায় জীবনধারণ অসম্ভব। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। ৮ ঘণ্টার পর অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) জন্য তাকে কিছুটা বেশি মজুরির প্রলোভন দেখানো হয়। আইএলও কনভেনশন-১০৫ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যম, জরিমানার ভয় বা শাস্তি হিসেবে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি মজুরির কম রেখে অতিরিক্তি শ্রম আদায় করার পন্থাও সাধারণভাবে আইনের পরিপন্থী।
শুধু শিল্পখাতে নয়, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদেরও (সিকিউরিটি গার্ড) দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে, যাদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে কাঠামোগত সংস্কারে হাত দিতে হবে। প্রথমত, একটি 'জাতীয় ন্যূনতম মজুরি মানদণ্ড' নির্ধারণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা পর্যালোচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম চালু করতে হবে, যেন বেঁচে থাকার জন্য শ্রমিকদের অমানবিক শর্তে কাজ করতে না হয়। তৃতীয়ত, সব শ্রমিকের জন্য একটি ডাটাবেজ তৈরি এবং কর্মক্ষেত্রে যেকোনো অবিচারের অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে বিতর্কিত উৎস থেকে কাঁচামাল আসা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে বর্তমান আলোচনাটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। এটি আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। একটি আন্তঃদেশীয় ইস্যু হিসেবে অন্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের ঘরও গোছাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে উপায়ে শুল্কের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলছে, তা কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নয়, বরং এটি মানবাধিকারেরই এক নতুন ধরনের লঙ্ঘন। আমাদের নিজেদের তাগিদেই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, কারও অনৈতিক চাপের কাছে মাথানত করে নয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বা বাধ্যতামূলক শ্রমের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের খবরের পরই বিষয়টি সামনে আসে। এখন প্রশ্ন হলো, জোরপূর্বক শ্রম আসলে কী, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর চিত্র কেমন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের নীতি কতটা যৌক্তিক?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম হলো—কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, শাস্তির ভয় দেখিয়ে বা বলপ্রয়োগ করে শ্রম দিতে বাধ্য করা। এর ব্যাপক অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো পরিস্থিতির মুখে ফেলা যাবে না, যেখানে সে কাজ করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের সংবিধান, দণ্ডবিধি (পেনাল কোড) এবং শ্রম আইনে জোরপূর্বক শ্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আইএলও-এর এ সংক্রান্ত দুটি কনভেনশনেই বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে।
সরাসরি জোরপূর্বক শ্রমের যে চিত্র আমরা মিয়ানমার বা বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দেখি, বাংলাদেশে সে রকম পরিস্থিতি নেই। তবে এখানে ‘জোরপূর্বক শ্রম-সাদৃশ্য’ কিছু কাজের চর্চা বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, ইটের ভাটায় সর্দারদের মাধ্যমে আগাম টাকা বা দাদন দিয়ে শ্রমিকদের আটকে রাখার যে প্রথা, তা একধরনের বাধ্যতামূলক শ্রমের সমতুল্য।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক আরোপের কথা বলছে, তার পেছনের কারণ কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটা কোনো জোরপূর্বক শ্রম নয়। তারা মূলত সেই দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখান থেকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক বা অন্যান্য পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, ওইসব নির্দিষ্ট দেশে কাঁচামাল উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার রয়েছে। আর সেই কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হচ্ছে বলেই তারা অতিরিক্ত শুল্ক বসাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানটি একদিকে অবাস্তব এবং অন্যদিকে চরম অনৈতিক। প্রথমত, অন্য কোনো দেশে যদি জোরপূর্বক শ্রম থাকে, সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার জোরালো অবস্থান বাংলাদেশের নেই। এ ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য আইএলও, ডব্লিউটিও বা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। তারা যদি কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে তা মেনে চলবে। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না আসা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিকভাবে এমন শর্ত চাপিয়ে দেওয়াটা একটি দুর্বল দেশের ওপর শক্তিশালী দেশের অযাচিত চাপ প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।
দ্বিতীয়ত, জোরপূর্বক শ্রম চরম পর্যায়ের একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো একটি বিষয়কে শুল্কের শর্ত হিসেবে দাঁড় করানো যায় না। কেউ যদি বলে, "যেহেতু পণ্যটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তাই ১০ শতাংশ বেশি শুল্ক দিতে হবে"—এর অর্থ দাঁড়ায়, শুল্ক দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকেও ‘জায়েজ’ বা বৈধ করা যায়। কিন্তু যৌক্তিক কথা হলো, মানবাধিকার কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য হতে পারে না।
বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি দুর্বল পক্ষ। আমাদের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল; অথচ এর কাঁচামাল আমাদের আমদানি করতে হয়। চামড়ার মতো নিজস্ব কাঁচামাল থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে তা নষ্ট হয়। আমরা এমন একটি ভঙ্গুর শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যার সুতা থেকে শুরু করে সব কাঁচামাল অন্যের কাছ থেকে আনতে হয়। এই দুর্বল অবস্থানে থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কোথায় জোরপূর্বক শ্রম হচ্ছে, তা শতভাগ তদারকি করা বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বাস্তবসম্মতও নয়।
তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এসব চাপের বাইরে আমাদের নিজেদের শ্রমখাতের দিকেও তাকাতে হবে। আমাদের সামগ্রিক শিল্পখাতে এমন একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা দাঁড় করানো হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে জোরপূর্বক শ্রমেরই নামান্তর। যেমন, একজন শ্রমিকের মূল বেতন (বেসিক) ধরা হলো ৮,০০০ টাকা। বর্তমান বাজারে এই টাকায় জীবনধারণ অসম্ভব। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। ৮ ঘণ্টার পর অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) জন্য তাকে কিছুটা বেশি মজুরির প্রলোভন দেখানো হয়। আইএলও কনভেনশন-১০৫ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যম, জরিমানার ভয় বা শাস্তি হিসেবে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি মজুরির কম রেখে অতিরিক্তি শ্রম আদায় করার পন্থাও সাধারণভাবে আইনের পরিপন্থী।
শুধু শিল্পখাতে নয়, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদেরও (সিকিউরিটি গার্ড) দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে, যাদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে কাঠামোগত সংস্কারে হাত দিতে হবে। প্রথমত, একটি 'জাতীয় ন্যূনতম মজুরি মানদণ্ড' নির্ধারণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা পর্যালোচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম চালু করতে হবে, যেন বেঁচে থাকার জন্য শ্রমিকদের অমানবিক শর্তে কাজ করতে না হয়। তৃতীয়ত, সব শ্রমিকের জন্য একটি ডাটাবেজ তৈরি এবং কর্মক্ষেত্রে যেকোনো অবিচারের অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে বিতর্কিত উৎস থেকে কাঁচামাল আসা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে বর্তমান আলোচনাটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। এটি আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। একটি আন্তঃদেশীয় ইস্যু হিসেবে অন্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের ঘরও গোছাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে উপায়ে শুল্কের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলছে, তা কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নয়, বরং এটি মানবাধিকারেরই এক নতুন ধরনের লঙ্ঘন। আমাদের নিজেদের তাগিদেই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, কারও অনৈতিক চাপের কাছে মাথানত করে নয়।
.png)

বিউটি রানি পাল জানতেনও না, স্কুল প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়ানোর একটা রিল তাঁকে রাতারাতি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেবে। কিন্তু এই আকস্মিকতাই আসলে সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা উন্মোচন করে দেয়—নারীর জন্য ‘স্বাভাবিক’ থাকাটাও নিরাপদ নয়। বরং প্রতিটি মুহূর্তই পরীক্ষা।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের ইতিহাসে বড় বড় আন্দোলনের পেছনে সাধারণত বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট’ (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ সেই প্রচলিত ধারাকে ভেঙে দিয়েছে। এই আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, তীব্র এবং অরাজনৈতিক।
৫ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে যখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর উপস্থিতি এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী রূপ দেখা দিচ্ছে, তখন আমাদের দেশে নারীর সামান্য আনন্দ-আয়োজন যেন ডিজিটাল স্পেসের এক নতুন ট্রায়ালরুম।
১৯ ঘণ্টা আগে
বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের সকাল শুরু হয় টুথপেস্ট দিয়ে। তাতেই যদি থাকে ক্ষতিকর উপাদান, তবে আমাদের সুরক্ষা কোথায়? সম্প্রতি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য।
১ দিন আগে