জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ দীর্ঘ সময় সুন্দরবনের বাঘ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করছেন। সম্প্রতি সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে বাঘ আটকে পড়ার ঘটনা এবং বাঘের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মাইদুল ইসলাম

স্ট্রিম: সম্প্রতি সুন্দরবনে ফাঁদে বাঘ আটকে পড়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এম এ আজিজ: বাঘের ফাঁদে পড়ার বিষয়টি নতুন কোনো ঘটনা নয়। আগেও এমনটি ঘটেছে। আমার জানা মতে, এটিসহ অন্তত তিনটি ঘটনা নিশ্চিতভাবে ফাঁদে পড়ে বাঘের পা বা হাত হারানোর তথ্য রয়েছে। একটি সম্ভবত ২০০৭ কিংবা ২০০৯ সালের, আরেকটি ২০১৪ সালের এবং সম্প্রতি যেটি হয়েছে, তা থেকে বাঘটি উদ্ধার পেয়েছে। এবারের ঘটনাটিতেও পুরুষ বাঘটির বাম হাত আটকে পড়েছিল। ২০১৪ সালের ঘটনাটিতেও বাঘটির বাম হাত আটকা পড়েছিল।
স্ট্রিম: ফাঁদ তো বাঘের জন্য দেওয়া হয় না। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাঘের চলাচলের পথে দেওয়া প্রাণীটির জন্য ‘নন-টারগেট’ বা উদ্দেশ্যহীন হুমকি হয়ে দাঁড়ায়…
এম এ আজিজ: সুন্দরবনে হরিণ শিকারিরা বা যারা বাঘ চোরাশিকার করে, তারা মূলত দুটি কারণে এসব করে। ডাকাত বা দস্যুদের সঙ্গে এই অপকর্মের একটা যোগসাজশ আছে। হরিণ শিকারিরা বা যারা বাঘ মারে, তারা অনেক সময় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাঘ দেখলে গুলি করে। কারণ তাদের কাছে অস্ত্র থাকে। দ্বিতীয়ত, বনের ভেতরে খাবারের সংকট থাকায় তারা হরিণ শিকার করে।
তবে এদের (দস্যু/শিকারি) সহযোগিতায় স্থানীয় কিছু চোরাশিকারি আছেন। তারা বনের বাঘ মারে নিরাপত্তার জন্য; হরিণ মারে খাওয়ার জন্য। আবার লোকালয়ে থাকা চোরাশিকারির সহযোগী বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এগুলো পাচার হয়। ফলে গোড়ার দিকে যদি যান, দেখবেন ডাকাতদের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক আছে। কারণ ডাকাতরা সুন্দরবনে এখন জেঁকে বসেছে। এদের আশ্রয়েই এসব অপকর্ম হচ্ছে।
স্ট্রিম: বাঘের সংখ্যার ওপর এই শিকার বা ফাঁদের প্রভাব কতটুকু?
এম এ আজিজ: ২০০৪-০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, সে সময় সুন্দরবনে ৩০০ থেকে ৫০০ বাঘ ছিল। কিন্তু আমরা ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেখেছি, এই সময়ে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে দেদারছে বাঘ ও হরিণ শিকার হয়েছে। ফলে তার প্রকোপ আমরা ২০১৫ সালের জরিপে এসে দেখলাম— বাঘ মাত্র ১০৬টি। এরপর সরকার দস্যুতা বন্ধে কিছু পদক্ষেপ নেয়, অনেকে আত্মসমর্পণ করে। ফলে সুন্দরবন ভালোর দিকে যাচ্ছিল এবং ২০১৮ সালের জরিপে আমরা একটা ইতিবাচক ধারা দেখতে পেয়েছিলাম।
এখন একটা বড় ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। আমরা জানি না সামনের জরিপে কী হবে? তবে নিসন্দেহে এটা খুব খারাপ খবর। সরকার যদি উদ্যোগী না হয়, তাহলে আমাদের বাঘ এবং সুন্দরবনের জন্য সামনে আরও খারাপ অবস্থা তৈরি হবে এবং অহরহ নেতিবাচক খবর পেতে থাকব।
স্ট্রিম: বাঘ ও হরিণ রক্ষায় এখন করণীয় কী?
এম এ আজিজ: প্রথমত, আমাদের বন বিভাগের সক্ষমতার যে ঘাটতি, তা দূর করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—যেমন র্যাব থেকে শুরু করে কোস্টগার্ড, পুলিশ—যারা আছে, তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, সুন্দরবন এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য আমাদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হলো ‘রি-অ্যাকটিভ মেজার’। বছরে এক বা দুটি বাঘ আক্রান্ত হবে, তারপর আমরা ব্যবস্থা নেব— এমনটা ভাবা যাবে না। বরং এই ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঘ ফাঁদে পড়ার পর উদ্ধারের জন্য জনবল ঠিক করার চেয়ে এটি যাতে কেউ না দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। উল্টো হলে তা হবে অনেকটা ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়া’র মতো।
এক্ষেত্রে আমার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ হলো— প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সুন্দরবন থেকে ডাকাত বা দস্যু নির্মূল করতে হবে। আমি ২০১৪ সালেও বলেছিলাম, ডাকাত নির্মূল করতে হলে অবিলম্বে একটি ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করা উচিত এবং এরপর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা জরুরি। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে, যেসব ফাঁদ দিয়ে বাঘ বা হরিণ ধরা হচ্ছে, এর সঙ্গে জড়িতদের বন্যপ্রাণী ও দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটা যদি আমরা বন্ধ না করতে পারি, তাহলে সামনে আমাদের জন্য খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

স্ট্রিম: সম্প্রতি সুন্দরবনে ফাঁদে বাঘ আটকে পড়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এম এ আজিজ: বাঘের ফাঁদে পড়ার বিষয়টি নতুন কোনো ঘটনা নয়। আগেও এমনটি ঘটেছে। আমার জানা মতে, এটিসহ অন্তত তিনটি ঘটনা নিশ্চিতভাবে ফাঁদে পড়ে বাঘের পা বা হাত হারানোর তথ্য রয়েছে। একটি সম্ভবত ২০০৭ কিংবা ২০০৯ সালের, আরেকটি ২০১৪ সালের এবং সম্প্রতি যেটি হয়েছে, তা থেকে বাঘটি উদ্ধার পেয়েছে। এবারের ঘটনাটিতেও পুরুষ বাঘটির বাম হাত আটকে পড়েছিল। ২০১৪ সালের ঘটনাটিতেও বাঘটির বাম হাত আটকা পড়েছিল।
স্ট্রিম: ফাঁদ তো বাঘের জন্য দেওয়া হয় না। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাঘের চলাচলের পথে দেওয়া প্রাণীটির জন্য ‘নন-টারগেট’ বা উদ্দেশ্যহীন হুমকি হয়ে দাঁড়ায়…
এম এ আজিজ: সুন্দরবনে হরিণ শিকারিরা বা যারা বাঘ চোরাশিকার করে, তারা মূলত দুটি কারণে এসব করে। ডাকাত বা দস্যুদের সঙ্গে এই অপকর্মের একটা যোগসাজশ আছে। হরিণ শিকারিরা বা যারা বাঘ মারে, তারা অনেক সময় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাঘ দেখলে গুলি করে। কারণ তাদের কাছে অস্ত্র থাকে। দ্বিতীয়ত, বনের ভেতরে খাবারের সংকট থাকায় তারা হরিণ শিকার করে।
তবে এদের (দস্যু/শিকারি) সহযোগিতায় স্থানীয় কিছু চোরাশিকারি আছেন। তারা বনের বাঘ মারে নিরাপত্তার জন্য; হরিণ মারে খাওয়ার জন্য। আবার লোকালয়ে থাকা চোরাশিকারির সহযোগী বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এগুলো পাচার হয়। ফলে গোড়ার দিকে যদি যান, দেখবেন ডাকাতদের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক আছে। কারণ ডাকাতরা সুন্দরবনে এখন জেঁকে বসেছে। এদের আশ্রয়েই এসব অপকর্ম হচ্ছে।
স্ট্রিম: বাঘের সংখ্যার ওপর এই শিকার বা ফাঁদের প্রভাব কতটুকু?
এম এ আজিজ: ২০০৪-০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, সে সময় সুন্দরবনে ৩০০ থেকে ৫০০ বাঘ ছিল। কিন্তু আমরা ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেখেছি, এই সময়ে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে দেদারছে বাঘ ও হরিণ শিকার হয়েছে। ফলে তার প্রকোপ আমরা ২০১৫ সালের জরিপে এসে দেখলাম— বাঘ মাত্র ১০৬টি। এরপর সরকার দস্যুতা বন্ধে কিছু পদক্ষেপ নেয়, অনেকে আত্মসমর্পণ করে। ফলে সুন্দরবন ভালোর দিকে যাচ্ছিল এবং ২০১৮ সালের জরিপে আমরা একটা ইতিবাচক ধারা দেখতে পেয়েছিলাম।
এখন একটা বড় ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। আমরা জানি না সামনের জরিপে কী হবে? তবে নিসন্দেহে এটা খুব খারাপ খবর। সরকার যদি উদ্যোগী না হয়, তাহলে আমাদের বাঘ এবং সুন্দরবনের জন্য সামনে আরও খারাপ অবস্থা তৈরি হবে এবং অহরহ নেতিবাচক খবর পেতে থাকব।
স্ট্রিম: বাঘ ও হরিণ রক্ষায় এখন করণীয় কী?
এম এ আজিজ: প্রথমত, আমাদের বন বিভাগের সক্ষমতার যে ঘাটতি, তা দূর করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—যেমন র্যাব থেকে শুরু করে কোস্টগার্ড, পুলিশ—যারা আছে, তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, সুন্দরবন এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য আমাদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হলো ‘রি-অ্যাকটিভ মেজার’। বছরে এক বা দুটি বাঘ আক্রান্ত হবে, তারপর আমরা ব্যবস্থা নেব— এমনটা ভাবা যাবে না। বরং এই ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঘ ফাঁদে পড়ার পর উদ্ধারের জন্য জনবল ঠিক করার চেয়ে এটি যাতে কেউ না দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। উল্টো হলে তা হবে অনেকটা ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়া’র মতো।
এক্ষেত্রে আমার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ হলো— প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সুন্দরবন থেকে ডাকাত বা দস্যু নির্মূল করতে হবে। আমি ২০১৪ সালেও বলেছিলাম, ডাকাত নির্মূল করতে হলে অবিলম্বে একটি ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করা উচিত এবং এরপর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা জরুরি। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে, যেসব ফাঁদ দিয়ে বাঘ বা হরিণ ধরা হচ্ছে, এর সঙ্গে জড়িতদের বন্যপ্রাণী ও দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটা যদি আমরা বন্ধ না করতে পারি, তাহলে সামনে আমাদের জন্য খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন জেলার খবরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে স্তূপ করা চামড়া, ক্লান্ত মুখের ব্যবসায়ী, আর লোকসানের হিসাব মেলাতে গিয়ে মাথায় হাত দেওয়া মৌসুমি বিক্রেতা। এই দৃশ্য বাংলাদেশে নতুন নয়, প্রতি বছরের। কিন্তু একটি সম্ভাবনাময় খাতের কেন এই বেহাল অবস্থা, এর জন্য দায়ী কারা?
১৮ ঘণ্টা আগে
‘পদ্মা ব্যারেজ’ মেগা প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে গঙ্গার পানি বিষয়ক বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি দুর্বল হতে পারে—এমন যুক্তি গ্রহণ করা কঠিন। আন্তর্জাতিক আন্তঃসীমান্ত নদীনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বৈধ অধিকার সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকবে।
২০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম শুধু ব্যক্তি নয়, একটি যুগের প্রতিনিধিত্ব করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই ধরনেরই একজন নেতা। তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল। তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ছিল এক অর্থে অস্বাভাবিক। তাঁর মৃত্যু মর্মান্তিক।
২১ ঘণ্টা আগে
মানুষের স্মৃতিতে জিয়াউর রহমান এমন এক শাসক, যিনি উন্নয়নের ভাষাকে শহরের মসনদ থেকে নামিয়ে খাল, মাঠ ও ইউনিয়ন পরিষদের উঠোনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। খাল কাটা কর্মসূচি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও গ্রাম সরকার; এসব ধারণা আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁর সেই উন্নয়ন-দর্শন আজকের
১ দিন আগে