পণ্যবাজারের নেতিবাচক প্রবণতা রোধ করুন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৫১
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

মানুষ যখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যায় জেরবার, তখন নতুন করে কিছু নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির খবর উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হবে। কিছু পণ্যের দাম বাড়তির দিকেই ছিল। সেগুলোর দাম কমে আসেনি। তবে স্ট্রিম ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে কিছু গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম হ্রাসের খবর রয়েছে। পেঁয়াজ ও আলুর দামে বৃদ্ধির প্রবণতা নেই। আলুর দাম দীর্ঘদিন ধরে কম। এটা সংকট বলেই বর্ণিত হচ্ছে। আলুচাষিরা এতে নিরুৎসাহিত হলে সামনে দেখা দিতে পারে বিপদ। চালের পরই অনেকে আলুকে গুরুত্বপূর্ণ ফসল বলে বর্ণনা করেন। স্ট্রিম প্রতিবেদক জানিয়েছেন, চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এটা অবশ্যই স্বস্তির খবর।

আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম হয়তো আরও কমবে। মাঝে বৃষ্টিজনিত সংকটে কাঁচামরিচের দাম বাড়লে সেটি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয়। বর্ষায় এ অভিজ্ঞতা পুরোনো। ডিমের দাম হ্রাসেও এ পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল নিকট অতীতে। সহজ ও সুষম পুষ্টির এ উৎসটি যেন দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে না যায়, সেটা যেভাবে হোক নিশ্চিত করতে হবে। গরু-ছাগলের মাংস অনেক দিন ধরেই এমনকি মধ্যবিত্তের কাছেও একপ্রকার বিলাসদ্রব্য। এ অবস্থায় ব্রয়লার আর ‘সোনালি’ নামে পরিচিত মুরগির দাম সহনীয় থাকা জরুরি। ইলিশের কথা বাদ দিলেও বলতে হয়, মাছের বাজার কিছুটা অস্থির। এর মধ্যে চিনি ও আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধি এবং সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার ঘটনা স্বভাবতই বেশি আলোচিত হচ্ছে। চিনি ও আটা-ময়দার প্যাকেটের গায়ে নতুন ‘এমআরপি’ ছাপা হয়েছে বলেও একটি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে।

সয়াবিনসহ ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বেশি দিন হয়নি। এরই মধ্যে নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ‘আয়োজন’ চলছে কিনা, সেই প্রশ্ন জেগেছে ভোক্তাদের মধ্যে। চিনির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্যটি পেতে ক্রেতাদের ভোগান্তি হচ্ছে বলেও খবরে প্রকাশ। চিনির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর কেন এ অস্থিরতা, তার ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলছেন চলমান জ্বালানি সংকটের কথা। চিনির পাশাপাশি আটা-ময়দা উৎপাদনকারী শিল্পগুলোও গ্যাসভিত্তিক। গ্যাসের ঘাটতিতে সেগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না বলে খবর রয়েছে। এতে সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় পণ্যগুলোর দাম বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সেটি ঘটতে শুরু করেছে কিনা, কে জানে! চিনি ও আটা-ময়দা উৎপাদনকারী বড় কোনো প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়াতেও সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল সংবাদমাধ্যমের খবরে সামনে আসা শঙ্কার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা। দেরিতে হলেও বিষয়টিতে প্রবেশ করে সংকটের কারণ অনুসন্ধান জরুরি। সরকার বলছে, গ্যাস সংকট সাময়িক। এটা কাটিয়ে পূর্বাবস্থায় আসা কঠিন কিছু নয়। সরকার চাইছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ কমিয়ে হলেও শিল্পে গ্যাস জোগাতে। এ অবস্থায় চিনি ও আটা-ময়দা উৎপাদনকারীদের বুঝিয়ে বলা দরকার, তারা যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় চলে না যান। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর তো কিছুটা সংযম দেখাতে পারারও কথা।

জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসার খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে পণ্যবাজারে যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়ার শঙ্কাই বেশি। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে এটা রয়েছে উচ্চমাত্রায়। তাতে আয় বাড়াতে অসমর্থ দেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন-পরিস্থিতি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। এ অবস্থায় ‘সঙ্গত’ কারণেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সেটা জরুরি ভিত্তিতে দেখতে হবে সরকারকে। আর কারণ অসঙ্গত হলে তো তার দিক থেকে আমরা দেখতে চাইব কঠোর পদক্ষেপ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত