বার্নি স্যান্ডার্সের নিবন্ধ
লেখা:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের দেশের প্রতিটি পুরুষ, নারী ও শিশুর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে। এআই আমাদের অর্থনীতি, আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের মানসিক সুস্থতা, আমাদের পরিবেশ এবং আমাদের শিশু-সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষায় বড় করে তোলার প্রক্রিয়া—সবকিছুতেই অকল্পনীয় পরিবর্তন আনবে এবং ইতিমধ্যে আনতে শুরু করেছে।
শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হচ্ছে, এআই যখন মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে, তখন এটি সম্ভবত স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করতে পারে। তখন এটির ফলাফল হবে ভয়াবহ।
সুতরাং এআই বিশ্বকে বদলে দেবে কি না, এটি বড় প্রশ্ন নয়। বিশ্ব অবশ্যই বদলাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ভবিষ্যতের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কার কাছে থাকবে? কারা এর মাধ্যমে উপকৃত হবে, আর কারাই বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এআই কি শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জীবনকে আরও উন্নত করতে ব্যবহৃত হবে? এটি কি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে সমৃদ্ধ করবে? এটি কি আমাদের দারিদ্র্য দূর করতে, গড় আয়ু বাড়াতে এবং জলবায়ু সংকট সমাধানে সাহায্য করবে? নাকি মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে সেই গুটি কয়েক বিলিয়নিয়ারের মাধ্যমে যারা প্রায় কোনো গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ছাড়াই এআইয়ের প্রচার ও উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং যারা আজ যা আছে তার চেয়েও বেশি ধনী ও শক্তিশালী হতে চলেছে?
বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা যাক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আকাশ থেকে পড়েনি। জেনারেটিভ এআই টুলে ব্যবহৃত ডেটা এবং ভাষা হঠাৎ করে স্যাম অল্টম্যানের মাথায় বা ইলন মাস্কের কল্পনায় আসেনি। এআই তৈরি হয়েছে আমাদের সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে। আমাদের বই, গান, শিল্পকর্ম, সাংবাদিকতা, কম্পিউটার কোড, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ভিডিও, কথোপকথন, ছবি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলা সব চিন্তাভাবনার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এআই। এটি শুধু বার্নি স্যান্ডার্সের মতামত নয়। ওপেনএআইয়ের প্রধান অল্টম্যানের মতে, এআই মডেলগুলোকে আমাদের ‘সামষ্টিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান’ এবং ‘মানবতার শিক্ষার’ ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, প্রযুক্তি জগতের এই প্রভাবশালীরা অনুমতি ছাড়া, কোনো স্বীকৃতি ছাড়া এবং কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এই জ্ঞান (মানুষের সম্মিলিত জ্ঞান) তাদের এআই মডেলগুলোতে ব্যবহার করেছে। অন্য কথায়, বিশ্বের গুটি কয়েক ধনী মানুষ লাখ লাখ মানুষের সৃজনশীল কাজ—অর্থাৎ লেখক, শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকদের অবদান মূলত চুরি করেছে। এখন সময় এসেছে তা আমাদের নিজেদের করে নেওয়ার।
যেহেতু এআই মানুষের সামষ্টিক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এটি যে সম্পদ তৈরি করবে, তা অবশ্যই মানবতার উপকারে আসতে হবে। শুধু মাস্ক, অল্টম্যান, দারিও আমোদেই এবং অন্যান্য মোগলদের জন্য নয়, যাদের কোম্পানিগুলো এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা ওয়াল স্ট্রিটের মানি ম্যানেজারদের জন্য নয়, যারা এআইকে পরবর্তী বড় সম্পদ আহরণের যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
এই কারণেই আমি শিগগিরই ‘আমেরিকান এআই সোভারেন ওয়েলথ ফান্ড অ্যাক্ট’ (মার্কিন এআই সার্বভৌম সম্পদ তহবিল আইন) প্রবর্তন করতে যাচ্ছি। এই আইনটি আমাদের দেশের বড় বড় এআই কোম্পানিগুলোতে জনগণের সরাসরি মালিকানার অংশীদারিত্ব প্রদান করবে। কীভাবে? এটি একটি এককালীন ৫০ শতাংশ করের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল তৈরি করবে। তবে এটি ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, এক্সএআই এবং অন্যান্য কোম্পানির লাভের ওপর কর নয়, বরং এর চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান কিছুর মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। আর তা হলো কোম্পানির শেয়ার বা স্টক।
যদি এটি পাস হয়, তবে এই আইনটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে। প্রথমত, এটি এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে। এআইয়ের ভবিষ্যৎ এবং এটি মানবজীবনে যে পরিবর্তন আনবে, তা আর মুষ্টিমেয় কিছু বড় ধনকুবের দ্বারা নির্ধারিত হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার তার ভোটাধিকার এবং প্রতিটি কোম্পানির বোর্ডে সমান প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এমন সব সিদ্ধান্ত বন্ধ করার ক্ষমতা রাখবে যা নাগরিকদের ক্ষতি করে এবং এমন নীতি গ্রহণে চাপ দেবে যা তাদের সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, এই আইনটি গ্যারান্টি দেবে যে, এআই থেকে উৎপন্ন সম্ভাব্য ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আমাদের সবার জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবহৃত হবে—কেবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের আরও ধনী করার জন্য নয়। যদি বড় এআই কোম্পানিগুলো অনেক বিশ্লেষকের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে, তবে এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিলের মূল্যও বাড়বে। আর সেই সাথে আমেরিকান জনগণের সুবিধাও বাড়তে থাকবে।
এটি কোনো মৌলিক ধারণা নয়। বিশেষজ্ঞরা এটি প্রস্তাব করেছেন। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কিছু এআই কোম্পানিও এটিকে সমর্থন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ওপেনএআই সম্প্রতি একটি ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে যা প্রতিটি নাগরিককে—এমনকি যারা আর্থিক বাজারে বিনিয়োগ করেননি তাদেরও এআই-চালিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদারিত্ব প্রদান করবে। আমোদেইয়ের নেতৃত্বাধীন অ্যানথ্রোপিক একইভাবে ‘এআইয়ে অংশীদারিত্বসহ জাতীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ তৈরির প্রস্তাব করেছে। এক্সএআই পরিচালনাকারী মাস্ক লিখেছেন, ‘ফেডারেল সরকারের ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে সবার জন্য ‘‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’’ বা উচ্চ আয় নিশ্চিত করাই হলো এআইয়ের কারণে সৃষ্ট বেকারত্ব মোকাবিলা করার সর্বোত্তম উপায়।’
সারা বিশ্বে ডজন ডজন সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ জাতীয় সম্পদ থেকে উপকৃত হতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম তহবিলগুলোর মধ্যে অন্যতম নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলটি দেশের তেলের সম্পদ থেকে তৈরি করা হয়েছিল এবং বর্তমানে এর মূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। গুটি কয়েক তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের এই জাতীয় সম্পদের সব সুবিধা নিজেদের পকেটে ভরার সুযোগ না দিয়ে, নরওয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে এই সম্পদ তাদের সমস্ত মানুষের জীবনমান উন্নত করতে ব্যবহৃত হবে।
এই ধারণাটি ইতিপূর্বে আমাদের এখানেই বাস্তবায়িত হয়েছে। পঞ্চাশ বছর আগে আলাস্কা রাজ্যের তেলের রাজস্ব থেকে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল তৈরি করেছিল। দশকের পর দশক ধরে এটি আলাস্কার বাসিন্দাদের সরাসরি বার্ষিক লভ্যাংশ প্রদান করে আসছে। তাছাড়া, সারা দেশের রাজ্যগুলোতে পাবলিক পেনশন ফান্ডগুলো ইতিমধ্যেই আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে শত শত বিলিয়ন ডলার ধারণ করে আছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে একটি আমেরিকান সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছেন।
শুরুতে এই তহবিল থেকে উৎপন্ন বিলিয়ন বা ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকান জনগণকে সরাসরি অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হবে। এবং তহবিলটি যত বেশি সম্পদ তৈরি করবে, সেই আয় আমাদের দেশের প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশুর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আবাসনসহ একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো কোম্পানিতে সরকারের বড় অংশীদারিত্ব থাকা জটিল একটি বিষয়, বিশেষ করে সেই সব কোম্পানির ক্ষেত্রে যাদের ব্যবসার মাত্র একটি অংশ হলো এআই। আগামী সপ্তাহগুলোতে আমি যে আইনটি উত্থাপন করব, তাতে ব্যয়ের নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নের কৌশলসহ আরও বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
তবে নীতিটি সহজ: যখন একটি জনসম্পদ থেকে সম্পদ তৈরি হয়, তখন জনগণের সেই সম্পদে অংশ থাকা উচিত। এআই এমন এক জনসম্পদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে যা তেলের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান। আর তা হলো মানবজাতির পুঞ্জীভূত জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং শ্রম।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ এবং মানবতার ভাগ্য সিলিকন ভ্যালির বন্ধ দরজার আড়ালে নির্ধারিত হতে পারে না। এটি সেই বিলিয়নিয়ারদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না যারা কেবল তাদের ক্ষমতা এবং মুনাফা বাড়াতে চায়। এটি অবশ্যই শ্রমিক, বাবা-মা, শিক্ষক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং আমেরিকান জনগণের দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদেরই এটি নির্ধারণ করতে হবে।
(নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন মারুফ ইসলাম)

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের দেশের প্রতিটি পুরুষ, নারী ও শিশুর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে। এআই আমাদের অর্থনীতি, আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের মানসিক সুস্থতা, আমাদের পরিবেশ এবং আমাদের শিশু-সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষায় বড় করে তোলার প্রক্রিয়া—সবকিছুতেই অকল্পনীয় পরিবর্তন আনবে এবং ইতিমধ্যে আনতে শুরু করেছে।
শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হচ্ছে, এআই যখন মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে, তখন এটি সম্ভবত স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করতে পারে। তখন এটির ফলাফল হবে ভয়াবহ।
সুতরাং এআই বিশ্বকে বদলে দেবে কি না, এটি বড় প্রশ্ন নয়। বিশ্ব অবশ্যই বদলাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ভবিষ্যতের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কার কাছে থাকবে? কারা এর মাধ্যমে উপকৃত হবে, আর কারাই বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এআই কি শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জীবনকে আরও উন্নত করতে ব্যবহৃত হবে? এটি কি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে সমৃদ্ধ করবে? এটি কি আমাদের দারিদ্র্য দূর করতে, গড় আয়ু বাড়াতে এবং জলবায়ু সংকট সমাধানে সাহায্য করবে? নাকি মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে সেই গুটি কয়েক বিলিয়নিয়ারের মাধ্যমে যারা প্রায় কোনো গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ছাড়াই এআইয়ের প্রচার ও উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং যারা আজ যা আছে তার চেয়েও বেশি ধনী ও শক্তিশালী হতে চলেছে?
বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা যাক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আকাশ থেকে পড়েনি। জেনারেটিভ এআই টুলে ব্যবহৃত ডেটা এবং ভাষা হঠাৎ করে স্যাম অল্টম্যানের মাথায় বা ইলন মাস্কের কল্পনায় আসেনি। এআই তৈরি হয়েছে আমাদের সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে। আমাদের বই, গান, শিল্পকর্ম, সাংবাদিকতা, কম্পিউটার কোড, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ভিডিও, কথোপকথন, ছবি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলা সব চিন্তাভাবনার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এআই। এটি শুধু বার্নি স্যান্ডার্সের মতামত নয়। ওপেনএআইয়ের প্রধান অল্টম্যানের মতে, এআই মডেলগুলোকে আমাদের ‘সামষ্টিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান’ এবং ‘মানবতার শিক্ষার’ ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, প্রযুক্তি জগতের এই প্রভাবশালীরা অনুমতি ছাড়া, কোনো স্বীকৃতি ছাড়া এবং কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এই জ্ঞান (মানুষের সম্মিলিত জ্ঞান) তাদের এআই মডেলগুলোতে ব্যবহার করেছে। অন্য কথায়, বিশ্বের গুটি কয়েক ধনী মানুষ লাখ লাখ মানুষের সৃজনশীল কাজ—অর্থাৎ লেখক, শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকদের অবদান মূলত চুরি করেছে। এখন সময় এসেছে তা আমাদের নিজেদের করে নেওয়ার।
যেহেতু এআই মানুষের সামষ্টিক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এটি যে সম্পদ তৈরি করবে, তা অবশ্যই মানবতার উপকারে আসতে হবে। শুধু মাস্ক, অল্টম্যান, দারিও আমোদেই এবং অন্যান্য মোগলদের জন্য নয়, যাদের কোম্পানিগুলো এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা ওয়াল স্ট্রিটের মানি ম্যানেজারদের জন্য নয়, যারা এআইকে পরবর্তী বড় সম্পদ আহরণের যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
এই কারণেই আমি শিগগিরই ‘আমেরিকান এআই সোভারেন ওয়েলথ ফান্ড অ্যাক্ট’ (মার্কিন এআই সার্বভৌম সম্পদ তহবিল আইন) প্রবর্তন করতে যাচ্ছি। এই আইনটি আমাদের দেশের বড় বড় এআই কোম্পানিগুলোতে জনগণের সরাসরি মালিকানার অংশীদারিত্ব প্রদান করবে। কীভাবে? এটি একটি এককালীন ৫০ শতাংশ করের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল তৈরি করবে। তবে এটি ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, এক্সএআই এবং অন্যান্য কোম্পানির লাভের ওপর কর নয়, বরং এর চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান কিছুর মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। আর তা হলো কোম্পানির শেয়ার বা স্টক।
যদি এটি পাস হয়, তবে এই আইনটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে। প্রথমত, এটি এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে। এআইয়ের ভবিষ্যৎ এবং এটি মানবজীবনে যে পরিবর্তন আনবে, তা আর মুষ্টিমেয় কিছু বড় ধনকুবের দ্বারা নির্ধারিত হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার তার ভোটাধিকার এবং প্রতিটি কোম্পানির বোর্ডে সমান প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এমন সব সিদ্ধান্ত বন্ধ করার ক্ষমতা রাখবে যা নাগরিকদের ক্ষতি করে এবং এমন নীতি গ্রহণে চাপ দেবে যা তাদের সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, এই আইনটি গ্যারান্টি দেবে যে, এআই থেকে উৎপন্ন সম্ভাব্য ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আমাদের সবার জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবহৃত হবে—কেবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের আরও ধনী করার জন্য নয়। যদি বড় এআই কোম্পানিগুলো অনেক বিশ্লেষকের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে, তবে এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিলের মূল্যও বাড়বে। আর সেই সাথে আমেরিকান জনগণের সুবিধাও বাড়তে থাকবে।
এটি কোনো মৌলিক ধারণা নয়। বিশেষজ্ঞরা এটি প্রস্তাব করেছেন। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কিছু এআই কোম্পানিও এটিকে সমর্থন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ওপেনএআই সম্প্রতি একটি ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে যা প্রতিটি নাগরিককে—এমনকি যারা আর্থিক বাজারে বিনিয়োগ করেননি তাদেরও এআই-চালিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদারিত্ব প্রদান করবে। আমোদেইয়ের নেতৃত্বাধীন অ্যানথ্রোপিক একইভাবে ‘এআইয়ে অংশীদারিত্বসহ জাতীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ তৈরির প্রস্তাব করেছে। এক্সএআই পরিচালনাকারী মাস্ক লিখেছেন, ‘ফেডারেল সরকারের ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে সবার জন্য ‘‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’’ বা উচ্চ আয় নিশ্চিত করাই হলো এআইয়ের কারণে সৃষ্ট বেকারত্ব মোকাবিলা করার সর্বোত্তম উপায়।’
সারা বিশ্বে ডজন ডজন সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ জাতীয় সম্পদ থেকে উপকৃত হতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম তহবিলগুলোর মধ্যে অন্যতম নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলটি দেশের তেলের সম্পদ থেকে তৈরি করা হয়েছিল এবং বর্তমানে এর মূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। গুটি কয়েক তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের এই জাতীয় সম্পদের সব সুবিধা নিজেদের পকেটে ভরার সুযোগ না দিয়ে, নরওয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে এই সম্পদ তাদের সমস্ত মানুষের জীবনমান উন্নত করতে ব্যবহৃত হবে।
এই ধারণাটি ইতিপূর্বে আমাদের এখানেই বাস্তবায়িত হয়েছে। পঞ্চাশ বছর আগে আলাস্কা রাজ্যের তেলের রাজস্ব থেকে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল তৈরি করেছিল। দশকের পর দশক ধরে এটি আলাস্কার বাসিন্দাদের সরাসরি বার্ষিক লভ্যাংশ প্রদান করে আসছে। তাছাড়া, সারা দেশের রাজ্যগুলোতে পাবলিক পেনশন ফান্ডগুলো ইতিমধ্যেই আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে শত শত বিলিয়ন ডলার ধারণ করে আছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে একটি আমেরিকান সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছেন।
শুরুতে এই তহবিল থেকে উৎপন্ন বিলিয়ন বা ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকান জনগণকে সরাসরি অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হবে। এবং তহবিলটি যত বেশি সম্পদ তৈরি করবে, সেই আয় আমাদের দেশের প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশুর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আবাসনসহ একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো কোম্পানিতে সরকারের বড় অংশীদারিত্ব থাকা জটিল একটি বিষয়, বিশেষ করে সেই সব কোম্পানির ক্ষেত্রে যাদের ব্যবসার মাত্র একটি অংশ হলো এআই। আগামী সপ্তাহগুলোতে আমি যে আইনটি উত্থাপন করব, তাতে ব্যয়ের নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নের কৌশলসহ আরও বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
তবে নীতিটি সহজ: যখন একটি জনসম্পদ থেকে সম্পদ তৈরি হয়, তখন জনগণের সেই সম্পদে অংশ থাকা উচিত। এআই এমন এক জনসম্পদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে যা তেলের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান। আর তা হলো মানবজাতির পুঞ্জীভূত জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং শ্রম।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ এবং মানবতার ভাগ্য সিলিকন ভ্যালির বন্ধ দরজার আড়ালে নির্ধারিত হতে পারে না। এটি সেই বিলিয়নিয়ারদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না যারা কেবল তাদের ক্ষমতা এবং মুনাফা বাড়াতে চায়। এটি অবশ্যই শ্রমিক, বাবা-মা, শিক্ষক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং আমেরিকান জনগণের দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদেরই এটি নির্ধারণ করতে হবে।
(নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন মারুফ ইসলাম)

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া বা ‘পুশইন’-কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুশইন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত একটি চিঠিরও জবাব দেয়নি।
৩ মিনিট আগে
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের ওপর একটি পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ কিছু উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
২ ঘণ্টা আগে
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের কর্মীদের কোনোভাবেই জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বা যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা না হয়। কর্মীদের শোভন কর্মপরিবেশ এবং জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তাদের পাঠাতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
‘সৃজনশীল অর্থনীতি’-এখানে কারখানা লাগে না, বিশাল জমি লাগে না। একটা ভালো আইডিয়া আর সেটাকে বাজারযোগ্য করার দক্ষতাই যথেষ্ট। জাতিসংঘের হিসাবে, এই খাত থেকে বিশ্বে প্রতি বছর আয় হয় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি, কর্মসংস্থান হয় পাঁচ কোটি মানুষের। আর এই পাঁচ কোটির প্রায় অর্ধেকই নারী।
৪ ঘণ্টা আগে