শোয়েব সাম্য সিদ্দিক

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জাল টাকার নীরব বিষক্রিয়ায় জর্জরিত। টাকা শুধু কেনাবেচার মাধ্যমই নয়; মানুষের ঘাম, রাষ্ট্রের আস্থা এবং বাজারের ভারসাম্যের চিহ্ন। যখন সেই চিহ্নকে আঘাত করে নকল নোট, তখন আঘাতটা শুধু টাকার ব্যাপার থাকে না, সমাজের বিশ্বাস আর নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
জাল টাকা আসলে একধরনের অর্থনৈতিক বিষ, যা আস্তে আস্তে মুদ্রার আসল মূল্য নষ্ট করে দেয়। বাজারে নকল নোটের চলাচল বাড়লে টাকার কেনার ক্ষমতা কমে যায় এবং দামবৃদ্ধির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে আর কম আয়ের মানুষজন বাস্তবিকই দারিদ্র্যের নতুন চক্রে আটকা পড়ে। এই অবস্থায় অর্থনীতির সার্বিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। পাশাপাশি সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায় রাজস্ব আর আর্থিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়, জাল টাকা শুধু অর্থনৈতিক ঝামেলা নয়, এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি। গোয়েন্দা সংস্থার খবরে উঠে এসেছে, বাইরের সূত্র ধরে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশের বাজারে জাল টাকা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলমান। তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
এই মুহূর্তে যখন জাতীয় নির্বাচন কাছে চলে এসেছে, তখন এই জাল টাকার স্রোত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে কারণ নির্বাচনের সময় টাকার লেনদেন বেড়ে যায়। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চায় অপরাধী মহল। তথ্য বলছে, শুধু দেশীয় চক্র নয়, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও এর সঙ্গে জড়িত।
গত কয়েক মাসে র্যাব, পুলিশ ও ডিবির হাতে বেশ কয়েকটি বড় জাল টাকার চক্র ধরা পড়েছে। চট্টগ্রামে ২০ কোটি টাকার জাল নোট, ঢাকায় জাল টাকা বানানোর কারখানা, রংপুরে জাল টাকা চালানোর ঘটনা—সবকিছুই প্রমাণ করে এই অপরাধ কতটা সংগঠিত আর প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছে। এমনকি এখন ইন্টারনেটেও জাল নোট বিক্রি চলছে। ফেসবুক আর টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে বিজ্ঞাপন, যেখানে লেখা থাকে ‘এ গ্রেডের প্রিন্ট’ অথবা ‘হুবহু আসল নোটের মতো’। এটা শুধু অপরাধ নয়, আমাদের সামাজিক বাস্তবতারও এক ভয়ংকর ছবি।
ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে বলতে পারি, জাল টাকার ব্যবসা এখন আর কয়েকজন প্রতারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে এক জটিল চক্রে, যেখানে প্রযুক্তি, অর্থ ও অপরাধ একসঙ্গে কাজ করছে। কেউ জাল টাকা তৈরি করছে, কেউ তা বাজারে ছড়াচ্ছে, কেউ আবার বিদেশি মুদ্রা পর্যন্ত নকল করছে। একজন নাগরিক হিসেবে দেখতে হচ্ছে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা কতটা ভয়াবহ। যারা ধরা পড়ে, তারা আবার জামিনে বেরিয়ে আসে এবং আগের মতোই অপরাধে ফিরে যায়। এ যেন আইনের চোখে ধুলো দিয়ে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আচরণও এই সমস্যাকে গভীর করছে। আমরা অনেক সময় টাকা হাতে নিলেও সেটি পরীক্ষা করি না। বিশেষ করে তাড়াহুড়োর সময় বা ছোটখাটো কেনাকাটায় নোট যাচাই করার অভ্যাস আমাদের নেই। এ ধরনের উদাসীনতাই জাল টাকা চক্রের বড় শক্তি। তারা জানে, মানুষ ব্যস্ত, সময় নিয়ে কেউ নোট দেখবে না। অথচ প্রতিটি নোটে যদি আমরা একটু মনোযোগ দিই, জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা বা রঙ পরিবর্তনশীল কালি যাচাই করি, তাহলে অনেক নকল নোট ধরা সম্ভব। একে সময়ের অপচয় না ভেবে, ভাবা যায় আত্মরক্ষার অভ্যাস।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে নাগরিকদের সতর্ক করছে, তবে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোতে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিয়মিতভাবে আধুনিক করতে হবে যাতে প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীরা নকল তৈরি করতে না পারে। জাল নোট প্রতিরোধে একটি সমন্বিত সেল গঠন করা উচিত, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে।
তবে মনে রাখা দরকার, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কেননা জাল টাকা একটি সামাজিক চ্যালেঞ্জও বটে। মানুষকে সচেতন না করলে, যত অভিযানই চালানো হোক না কেন, জাল টাকা আবার ফিরে আসবে। কারণ বাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো মানুষের আস্থা। যখন মানুষ নিজের হাতে ধরা নোটকেও বিশ্বাস করতে ভয় পায়, তখন অর্থনীতি অচল হয়ে যায়। এই ভয় দূর করা প্রয়োজন এবং তা সম্ভব কেবল নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমেই।
এক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো জাল টাকা সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ট্রান্সফার বা কার্ড ব্যবহারে জাল টাকার কোনো সুযোগ থাকে না। তাই নগদ অর্থের বদলে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে শুধু ঝুঁকি কমবে না, অর্থনীতি হবে আরও স্বচ্ছ ও ট্রেসযোগ্য। যেহেতু জাল টাকা মূলত নগদ লেনদেনের মাধ্যমেই ছড়ায়, সেহেতু নগদ নির্ভরতা কমালে অপরাধচক্রের অস্তিত্বও দুর্বল হবে।
জাল টাকার বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সন্দেহজনক কোনো নোট পাওয়া গেলে তা নিজের কাছে না রেখে পুলিশকে জানানো দরকার। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও জাল টাকা বিক্রির পেজ দেখলে রিপোর্ট করা জরুরি। কারণ প্রতিটি রিপোর্টই একটি প্রতারণার চক্রকে দুর্বল করে। আমরা যদি ভাবি ‘আমি না করলে অন্য কেউ করবে’, তাহলে এই সমস্যা কখনোই শেষ হবে না।
অর্থনীতির দৃষ্টিতে জাল টাকা একধরনের পরজীবী। এটি রাষ্ট্রের মুদ্রাব্যবস্থায় প্রবেশ করে ধীরে ধীরে রক্তশূন্য করে দেয়। বাজারে যখন জাল টাকার পরিমাণ বাড়ে, তখন আসল টাকার মূল্য কমে যায়। এতে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয় এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত ক্ষতি হয় গোটা জাতির। এই ক্ষতি শুধু টাকার নয়, এটি আস্থারও ক্ষয়।
তবুও আশার কথা হলো, এখন সমাজে সচেতনতা বাড়ছে। তরুণরা ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। ব্যাংকগুলো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে জাল টাকা ঠেকানো সম্ভব। তবে শর্ত একটাই, এই সচেতনতা আর তৎপরতা যেন শুধু কথায় না থেকে বাস্তবে কাজে আসে।
শেষ কথা হলো, জাল টাকা আঘাত করে মানুষের বিশ্বাস আর ন্যায়ের ওপর। একজন শ্রমিক সারাদিন খেটে যে টাকা হাতে পায়, সেই টাকাই যদি নকল হয়, তবে সেটা শুধু প্রতারণা নয়, এটা সমাজের প্রতি অবিচার। তাই আমাদের নাগরিক কর্তব্য জাল টাকার নীরব ঘাতককে রুখে দেওয়া। সচেতন নাগরিক, কঠোর আইন, আধুনিক প্রযুক্তি আর নৈতিক দায়বোধ একসঙ্গে কাজ করলে এই বিপদ ঠেকানো সম্ভব। অর্থনীতির ভিত রক্ষার এই লড়াই এখন সময়ের চাহিদা।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জাল টাকার নীরব বিষক্রিয়ায় জর্জরিত। টাকা শুধু কেনাবেচার মাধ্যমই নয়; মানুষের ঘাম, রাষ্ট্রের আস্থা এবং বাজারের ভারসাম্যের চিহ্ন। যখন সেই চিহ্নকে আঘাত করে নকল নোট, তখন আঘাতটা শুধু টাকার ব্যাপার থাকে না, সমাজের বিশ্বাস আর নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
জাল টাকা আসলে একধরনের অর্থনৈতিক বিষ, যা আস্তে আস্তে মুদ্রার আসল মূল্য নষ্ট করে দেয়। বাজারে নকল নোটের চলাচল বাড়লে টাকার কেনার ক্ষমতা কমে যায় এবং দামবৃদ্ধির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে আর কম আয়ের মানুষজন বাস্তবিকই দারিদ্র্যের নতুন চক্রে আটকা পড়ে। এই অবস্থায় অর্থনীতির সার্বিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। পাশাপাশি সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায় রাজস্ব আর আর্থিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়, জাল টাকা শুধু অর্থনৈতিক ঝামেলা নয়, এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি। গোয়েন্দা সংস্থার খবরে উঠে এসেছে, বাইরের সূত্র ধরে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশের বাজারে জাল টাকা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলমান। তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
এই মুহূর্তে যখন জাতীয় নির্বাচন কাছে চলে এসেছে, তখন এই জাল টাকার স্রোত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে কারণ নির্বাচনের সময় টাকার লেনদেন বেড়ে যায়। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চায় অপরাধী মহল। তথ্য বলছে, শুধু দেশীয় চক্র নয়, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও এর সঙ্গে জড়িত।
গত কয়েক মাসে র্যাব, পুলিশ ও ডিবির হাতে বেশ কয়েকটি বড় জাল টাকার চক্র ধরা পড়েছে। চট্টগ্রামে ২০ কোটি টাকার জাল নোট, ঢাকায় জাল টাকা বানানোর কারখানা, রংপুরে জাল টাকা চালানোর ঘটনা—সবকিছুই প্রমাণ করে এই অপরাধ কতটা সংগঠিত আর প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছে। এমনকি এখন ইন্টারনেটেও জাল নোট বিক্রি চলছে। ফেসবুক আর টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে বিজ্ঞাপন, যেখানে লেখা থাকে ‘এ গ্রেডের প্রিন্ট’ অথবা ‘হুবহু আসল নোটের মতো’। এটা শুধু অপরাধ নয়, আমাদের সামাজিক বাস্তবতারও এক ভয়ংকর ছবি।
ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে বলতে পারি, জাল টাকার ব্যবসা এখন আর কয়েকজন প্রতারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে এক জটিল চক্রে, যেখানে প্রযুক্তি, অর্থ ও অপরাধ একসঙ্গে কাজ করছে। কেউ জাল টাকা তৈরি করছে, কেউ তা বাজারে ছড়াচ্ছে, কেউ আবার বিদেশি মুদ্রা পর্যন্ত নকল করছে। একজন নাগরিক হিসেবে দেখতে হচ্ছে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা কতটা ভয়াবহ। যারা ধরা পড়ে, তারা আবার জামিনে বেরিয়ে আসে এবং আগের মতোই অপরাধে ফিরে যায়। এ যেন আইনের চোখে ধুলো দিয়ে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আচরণও এই সমস্যাকে গভীর করছে। আমরা অনেক সময় টাকা হাতে নিলেও সেটি পরীক্ষা করি না। বিশেষ করে তাড়াহুড়োর সময় বা ছোটখাটো কেনাকাটায় নোট যাচাই করার অভ্যাস আমাদের নেই। এ ধরনের উদাসীনতাই জাল টাকা চক্রের বড় শক্তি। তারা জানে, মানুষ ব্যস্ত, সময় নিয়ে কেউ নোট দেখবে না। অথচ প্রতিটি নোটে যদি আমরা একটু মনোযোগ দিই, জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা বা রঙ পরিবর্তনশীল কালি যাচাই করি, তাহলে অনেক নকল নোট ধরা সম্ভব। একে সময়ের অপচয় না ভেবে, ভাবা যায় আত্মরক্ষার অভ্যাস।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে নাগরিকদের সতর্ক করছে, তবে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোতে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিয়মিতভাবে আধুনিক করতে হবে যাতে প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীরা নকল তৈরি করতে না পারে। জাল নোট প্রতিরোধে একটি সমন্বিত সেল গঠন করা উচিত, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে।
তবে মনে রাখা দরকার, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কেননা জাল টাকা একটি সামাজিক চ্যালেঞ্জও বটে। মানুষকে সচেতন না করলে, যত অভিযানই চালানো হোক না কেন, জাল টাকা আবার ফিরে আসবে। কারণ বাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো মানুষের আস্থা। যখন মানুষ নিজের হাতে ধরা নোটকেও বিশ্বাস করতে ভয় পায়, তখন অর্থনীতি অচল হয়ে যায়। এই ভয় দূর করা প্রয়োজন এবং তা সম্ভব কেবল নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমেই।
এক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো জাল টাকা সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ট্রান্সফার বা কার্ড ব্যবহারে জাল টাকার কোনো সুযোগ থাকে না। তাই নগদ অর্থের বদলে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে শুধু ঝুঁকি কমবে না, অর্থনীতি হবে আরও স্বচ্ছ ও ট্রেসযোগ্য। যেহেতু জাল টাকা মূলত নগদ লেনদেনের মাধ্যমেই ছড়ায়, সেহেতু নগদ নির্ভরতা কমালে অপরাধচক্রের অস্তিত্বও দুর্বল হবে।
জাল টাকার বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সন্দেহজনক কোনো নোট পাওয়া গেলে তা নিজের কাছে না রেখে পুলিশকে জানানো দরকার। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও জাল টাকা বিক্রির পেজ দেখলে রিপোর্ট করা জরুরি। কারণ প্রতিটি রিপোর্টই একটি প্রতারণার চক্রকে দুর্বল করে। আমরা যদি ভাবি ‘আমি না করলে অন্য কেউ করবে’, তাহলে এই সমস্যা কখনোই শেষ হবে না।
অর্থনীতির দৃষ্টিতে জাল টাকা একধরনের পরজীবী। এটি রাষ্ট্রের মুদ্রাব্যবস্থায় প্রবেশ করে ধীরে ধীরে রক্তশূন্য করে দেয়। বাজারে যখন জাল টাকার পরিমাণ বাড়ে, তখন আসল টাকার মূল্য কমে যায়। এতে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয় এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত ক্ষতি হয় গোটা জাতির। এই ক্ষতি শুধু টাকার নয়, এটি আস্থারও ক্ষয়।
তবুও আশার কথা হলো, এখন সমাজে সচেতনতা বাড়ছে। তরুণরা ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। ব্যাংকগুলো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে জাল টাকা ঠেকানো সম্ভব। তবে শর্ত একটাই, এই সচেতনতা আর তৎপরতা যেন শুধু কথায় না থেকে বাস্তবে কাজে আসে।
শেষ কথা হলো, জাল টাকা আঘাত করে মানুষের বিশ্বাস আর ন্যায়ের ওপর। একজন শ্রমিক সারাদিন খেটে যে টাকা হাতে পায়, সেই টাকাই যদি নকল হয়, তবে সেটা শুধু প্রতারণা নয়, এটা সমাজের প্রতি অবিচার। তাই আমাদের নাগরিক কর্তব্য জাল টাকার নীরব ঘাতককে রুখে দেওয়া। সচেতন নাগরিক, কঠোর আইন, আধুনিক প্রযুক্তি আর নৈতিক দায়বোধ একসঙ্গে কাজ করলে এই বিপদ ঠেকানো সম্ভব। অর্থনীতির ভিত রক্ষার এই লড়াই এখন সময়ের চাহিদা।
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।
১২ আগস্ট ২০২৬