রাশেদ আলম ভূঁইয়া

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, নির্বাচনী আইনের সম্ভাব্য সংশোধন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ইতিমধ্যে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় নির্বাচনের পর একটি নতুন সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন সব সময়ই একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা। এটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিফলন নয়, বরং নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সদিচ্ছার একটি অগ্নিপরীক্ষা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে কেন এত দেরি হচ্ছে, সেটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। পূর্ববর্তী সরকার যখন জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন দিতে চেয়েছিল, তখন বড় রাজনৈতিক দল (বর্তমান ক্ষমতাসীন দল) তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে সেটি একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক প্র্যাকটিস হতে পারত। তবে যেহেতু তা হয়নি, এখন আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, বিশেষ করে ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করার যে প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স এখন ৩৫ থেকে ৪০ বছরের নিচে। তরুণ প্রজন্মের এই বিশাল অংশের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। রাজনীতিতে মেধা ও শিক্ষার অভাব থাকলে আমলাদের জন্য দুর্নীতি করা সহজ হয়ে যায়। তাই স্থানীয় বা জাতীয়—সব পর্যায়েই আমলাতন্ত্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি অপরিহার্য।
যদিও এর ফলে তৃণমূলের অনেক জনপ্রিয় কিন্তু কম শিক্ষিত নেতা বাদ পড়তে পারেন, তবুও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্যতার এই মানদণ্ডটি হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের চুড়ান্ত করা সুপারিশমালায় একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় সামনে এসেছে। সেটি হলো—তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বা সাইবার আইনের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আইসিটি আইনে মামলা দেওয়া খুবই সহজ একটি বিষয়। অতীতে আমরা এর যথেচ্ছ অপব্যবহার দেখেছি।
এই বিধানটি কার্যকর হলে যেকোনো জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে একটি ভুয়া মামলা দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করাই যথেষ্ট হবে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানোর ক্ষেত্রে বিএনপির খুব একটা দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। স্থানীয় কমিটিগুলোর পুনর্গঠন বা বাৎসরিক সভাগুলো নিয়মিত হয়নি। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে জাতীয় নির্বাচনে ‘উইনিং টিম’ বা বিজয়ী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যেহেতু তারা এখন নিরঙ্কুশ ক্ষমতায়, তাই প্রতিটি পদের বিপরীতে একাধিক বা অসংখ্য প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন। দলের এই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা বিএনপির জন্য অন্যতম বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াবে।
এর বাইরেও ক্ষমতাসীনদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনের আগে গণভোটসহ বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে তাদের সরে আসা বা ধীরগতির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হতে পারে, যা স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে বাধ্য।
আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে সংঘাত ও রক্তপাত বেশি হয়। এর মূল কারণ গ্রামীণ রাজনীতির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এই সংঘাত এড়াতে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু যখন ডিসি বা ইউএনও নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন নিরপেক্ষতা আশা করা কঠিন। ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রীরা যদি তাদের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চান এবং স্থানীয় প্রশাসন যদি তাদের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব।
বর্তমান সরকারের আমলে এটিই প্রথম বড় নির্বাচন। তারা যদি প্রশাসনকে ব্যবহার করে বা হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের গণতান্ত্রিক ক্রেডিবিলিটি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। তাই এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি এসিড টেস্ট।
নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হলেও প্রার্থীরা কে কোন দলের, তা সাধারণ মানুষের অজানা থাকে না। তাই প্রতীক না থাকলেও দলীয় প্রার্থীদের খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে এটি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্বাচন বেশ কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দলটির বিরুদ্ধে মামলা চলমান এবং তারা তাদের অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। ফলে নির্দলীয় ব্যানারেও আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সহজ হবে না। প্রতিপক্ষরা তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, যা থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
একটি সংঘাতহীন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
প্রথমত, নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর কোনো ডিসি, ইউএনও বা পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনে রদবদল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে তাদের তৃণমূলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বোপরি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা বা ‘পলিটিক্যাল অ্যাকোমোডেশন’ প্রয়োজন। জোরজবরদস্তি করে জনমত ছিনতাই করার অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধির কারণে আশা করা যায় এবার অনেক শিক্ষিত ও তরুণ প্রার্থী জনপ্রতিনিধিত্ব করতে এগিয়ে আসবেন। এই তরুণরা যদি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পরিপক্বতার পরিচয় দেন, তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং সরকার তাদের সদিচ্ছা প্রমাণ করে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে কি না।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, নির্বাচনী আইনের সম্ভাব্য সংশোধন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ইতিমধ্যে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় নির্বাচনের পর একটি নতুন সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন সব সময়ই একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা। এটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিফলন নয়, বরং নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সদিচ্ছার একটি অগ্নিপরীক্ষা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে কেন এত দেরি হচ্ছে, সেটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। পূর্ববর্তী সরকার যখন জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন দিতে চেয়েছিল, তখন বড় রাজনৈতিক দল (বর্তমান ক্ষমতাসীন দল) তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে সেটি একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক প্র্যাকটিস হতে পারত। তবে যেহেতু তা হয়নি, এখন আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, বিশেষ করে ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করার যে প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স এখন ৩৫ থেকে ৪০ বছরের নিচে। তরুণ প্রজন্মের এই বিশাল অংশের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। রাজনীতিতে মেধা ও শিক্ষার অভাব থাকলে আমলাদের জন্য দুর্নীতি করা সহজ হয়ে যায়। তাই স্থানীয় বা জাতীয়—সব পর্যায়েই আমলাতন্ত্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি অপরিহার্য।
যদিও এর ফলে তৃণমূলের অনেক জনপ্রিয় কিন্তু কম শিক্ষিত নেতা বাদ পড়তে পারেন, তবুও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্যতার এই মানদণ্ডটি হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের চুড়ান্ত করা সুপারিশমালায় একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় সামনে এসেছে। সেটি হলো—তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বা সাইবার আইনের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আইসিটি আইনে মামলা দেওয়া খুবই সহজ একটি বিষয়। অতীতে আমরা এর যথেচ্ছ অপব্যবহার দেখেছি।
এই বিধানটি কার্যকর হলে যেকোনো জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে একটি ভুয়া মামলা দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করাই যথেষ্ট হবে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানোর ক্ষেত্রে বিএনপির খুব একটা দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। স্থানীয় কমিটিগুলোর পুনর্গঠন বা বাৎসরিক সভাগুলো নিয়মিত হয়নি। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে জাতীয় নির্বাচনে ‘উইনিং টিম’ বা বিজয়ী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যেহেতু তারা এখন নিরঙ্কুশ ক্ষমতায়, তাই প্রতিটি পদের বিপরীতে একাধিক বা অসংখ্য প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন। দলের এই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা বিএনপির জন্য অন্যতম বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াবে।
এর বাইরেও ক্ষমতাসীনদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনের আগে গণভোটসহ বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে তাদের সরে আসা বা ধীরগতির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হতে পারে, যা স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে বাধ্য।
আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে সংঘাত ও রক্তপাত বেশি হয়। এর মূল কারণ গ্রামীণ রাজনীতির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এই সংঘাত এড়াতে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু যখন ডিসি বা ইউএনও নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন নিরপেক্ষতা আশা করা কঠিন। ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রীরা যদি তাদের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চান এবং স্থানীয় প্রশাসন যদি তাদের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব।
বর্তমান সরকারের আমলে এটিই প্রথম বড় নির্বাচন। তারা যদি প্রশাসনকে ব্যবহার করে বা হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের গণতান্ত্রিক ক্রেডিবিলিটি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। তাই এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি এসিড টেস্ট।
নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হলেও প্রার্থীরা কে কোন দলের, তা সাধারণ মানুষের অজানা থাকে না। তাই প্রতীক না থাকলেও দলীয় প্রার্থীদের খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে এটি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্বাচন বেশ কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দলটির বিরুদ্ধে মামলা চলমান এবং তারা তাদের অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। ফলে নির্দলীয় ব্যানারেও আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সহজ হবে না। প্রতিপক্ষরা তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, যা থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
একটি সংঘাতহীন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
প্রথমত, নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর কোনো ডিসি, ইউএনও বা পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনে রদবদল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে তাদের তৃণমূলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বোপরি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা বা ‘পলিটিক্যাল অ্যাকোমোডেশন’ প্রয়োজন। জোরজবরদস্তি করে জনমত ছিনতাই করার অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধির কারণে আশা করা যায় এবার অনেক শিক্ষিত ও তরুণ প্রার্থী জনপ্রতিনিধিত্ব করতে এগিয়ে আসবেন। এই তরুণরা যদি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পরিপক্বতার পরিচয় দেন, তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং সরকার তাদের সদিচ্ছা প্রমাণ করে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে কি না।
.png)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক নিঃসঙ্গ শেরপা তাজউদ্দীন আহমদ। যাঁর প্রজ্ঞা, পারদর্শিতা, দরকষাকষির ক্ষমতা, তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা এবং কুশলী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পথে পরিচালিত করেছিল।
১৮ মিনিট আগে
কল্পনা করুন, আপনি স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় হাঁটছেন কিংবা কোনো যানবাহনে করে কোথাও যাচ্ছেন। এমন সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আপনাকে থামালেন। তাঁর সন্দেহ, আপনার কাছে মাদক থাকতে পারে। শুরু হলো তল্লাশি। ব্যাগের প্রতিটি অংশ, পকেট, সবকিছু খুঁজে দেখা হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো মাদক পাওয়া গেল না।
১ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন মেজর পদবির সেনা অফিসারকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই মেজরের বিরুদ্ধে ১৯৮১ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে; যে ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমা
১৫ ঘণ্টা আগে
দেশে গ্যাস পরিস্থিতি কতটা খারাপ, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। এ খাতে আমরা ক্রমে আরও আমদানিনির্ভর হচ্ছি। বাড়ছে এলএনজি-নির্ভরতা। ইরান যুদ্ধে জ্বালানি খাত অস্থির হওয়ায় এলএনজির দামও অনেক বেড়ে যায়। জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ব্যয় বাড়ার এটা অন্যতম কারণ।
১৫ ঘণ্টা আগে