এম মাশরুর রিয়াজ

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল এক সংকটময় অর্থনীতি। এই সংকট ছিল বহুমাত্রিক। একদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সমস্ত সূচক ২০২২ সালের এপ্রিল-মে মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে নিম্নগামী ছিল। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সুশাসন নেমে এসেছিল একেবারে তলানিতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের চিরাচরিত কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো, যা বছরের পর বছর ধরে নীতিগত অবহেলার কারণে প্রকট আকার ধারণ করেছিল, বিশেষ করে ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এমন এক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চারটি প্রধান অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছিল।
সরকারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ছিল সামষ্টিক অর্থনীতির পতন রোধ করা। ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৮ মাসে টাকার মান ৪১ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, যা একসময় ৩৬-৩৭ বিলিয়ন ডলার ছিল (করোনা মহামারির সময়ের ৪৮ বিলিয়ন বাদ দিয়ে), তা কমে আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী ১৮-১৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সরকারিভাবে মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ বলা হলেও বাজারের প্রকৃত অবস্থা ছিল আরও ভয়াবহ এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন ছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং প্রাথমিক সাফল্যও পায়। টাকা ছাপানো বন্ধ করা এবং সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কঠোর করার মাধ্যমে তারা মূল্যস্ফীতিকে প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এটি এখনও সহনীয় মাত্রার অনেক উপরে, কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা গেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে টাকার মানে বড় কোনো পতন ঘটেনি এবং ২০২৫ সালের মে মাসে সম্পূর্ণ ভাসমান বিনিময় হার চালু করার পরেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে রিজার্ভের ক্ষেত্রে। নেট রিজার্ভ ১৮-১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ সফল বলে বিবেচিত হতে পারে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ছিল অর্থনৈতিক সুশাসন পুনরুদ্ধার করা, যা ব্যাংকিং খাত এবং সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের আগে রাজনৈতিক মদদে ব্যাংক লুটপাট এবং আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা ছিল একটি নিয়মিত ঘটনা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নেতৃত্ব এই লুটতরাজ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। তবে একে আংশিক সাফল্যই বলতে হবে। কারণ, খেলাপি ঋণ (এনপিএল) আদায় বা পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো জটিল কাজগুলোতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। একইভাবে, সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব কমলেও, এই খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। তাই সুশাসনের পথে যাত্রা শুরু হলেও গন্তব্য এখনও বহু দূর।
সরকারের তৃতীয় অগ্রাধিকার ছিল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোকে, যেমন—বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) পুনরায় সচল করা। এই ক্ষেত্রে সাফল্য প্রায় শূন্য। সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ উভয়ই ছিল হতাশাজনক। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৪ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। সম্প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দ্বিগুণ হওয়ার খবর প্রচারিত হলেও, ৩০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের দুই-তৃতীয়াংশই হলো বিদ্যমান কোম্পানির পুনঃবিনিয়োগ বা আন্তঃকোম্পানি ঋণ। নতুন ‘গ্রিনফিল্ড’ বিনিয়োগ প্রায় আসেনি বললেই চলে, যা নতুন কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান সুদের হার এবং চাহিদা হ্রাসের কারণে রক্তক্ষরণ করছে, কিন্তু তাদের জন্য কোনো কার্যকর নীতি-সহায়তা দেখা যায়নি। ফলস্বরূপ, গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কম।
চতুর্থ অগ্রাধিকার ছিল প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা। এই ক্ষেত্রটি সবচেয়ে হতাশাজনক। গত ১৫ মাসে অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও, সেগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো সংগঠিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, বাণিজ্য সহজীকরণ, এবং ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য নীতি সংস্কারের মতো বিষয়গুলো বহু আগে থেকেই বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দ্বারা চিহ্নিত ছিল। এই অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো সাংবিধানিক বা বিচারিক সংস্কারের মতো রাজনৈতিকভাবে জটিল ছিল না। এমনকি আমলাতন্ত্রও এক্ষেত্রে বাধা হতো বলে মনে হয় না। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এই সুযোগটি কাজে লাগানো হয়নি, যা একটি বড় ব্যর্থতা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই মিশ্র পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক প্রভাব পড়বে ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের ওপর। বিশেষ করে নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের মতো বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই অত্যন্ত কৌশলী ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আরেকটি আশু চ্যালেঞ্জ হলো, সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। ফলে প্রথমেই বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের সফল হতে হবে।
উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে অর্থনৈতিক কাঠামো নতুন সরকার পাবে, সেখানে কিছু প্রাথমিক সাফল্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সংকট রয়ে গেছে। ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি বা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় কিছুটা উন্নতি হলেও মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের কাছাকাছি। সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে হলে এটিকে কমিয়ে আনা জরুরি। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে তা মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং টাকার অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত করে। রিজার্ভের ক্ষেত্রে নেট রিজার্ভ আগের চেয়ে (১৮ বিলিয়ন ডলার) ভালো অবস্থায় এলেও, আমরা যদি ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে যেতে চাই, তবে আমদানির যে চাহিদা তৈরি হবে, তার জন্য বর্তমান ২৮ বিলিয়ন ডলারের গ্রস রিজার্ভ যথেষ্ট নয়।
ব্যাংকিং খাতে লুটেরাদের সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও পুরো খাত এখনো স্থিতিশীল হয়নি। অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এনবিএফআইগুলোর অবস্থা শোচনীয়। আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একীভূতকরণ (মার্জার) বা কনসোলিডেশন প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, ফিসকাল ম্যানেজমেন্ট বা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আমরা ঋণনির্ভর নীতির ফাঁদে পড়ে গেছি। অভ্যন্তরীণ রাজস্বের পুরোটাই চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে, ফলে উন্নয়নের জন্য কোনো ফিসকাল স্পেস নেই; পুরোটাই ঋণের ওপর নির্ভরশীল।
এই প্রেক্ষাপটে, নতুন যে সরকারই আসুক তাদের জন্য ৬ থেকে ৭টি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার বা প্রায়োরিটি এরিয়া রয়েছে। তাদের জন্য প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রাথমিক সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, রিজার্ভকে ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাও এই লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। নতুন সরকারের জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানো একটি অন্যতম কঠিন কাজ হবে, কারণ দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশের আশেপাশে। করছাড় যৌক্তিকীকরণ এবং প্রত্যক্ষ করের অনুপাত বৃদ্ধি করা এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। ভ্যাট ও কাস্টমস আইনের সংস্কার করে সেগুলোকে ব্যবসা ও রাজস্ববান্ধব করতে হবে। একইসাথে, ঋণ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে এবং অলাভজনক ঋণের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনার জন্য ঋণদাতাদের সাথে আলোচনা শুরু করতে হবে।
অর্থনীতির গতি ফেরাতে হলে রপ্তানি বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া ও পাদুকা, হালকা প্রকৌশল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো তিন থেকে চারটি সম্ভাবনাময় খাতকে নীতি সহায়তা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যেভাবে ইলেকট্রনিক্স ও মেশিনারি পণ্য রপ্তানি করে এগিয়েছে, আমাদেরও সেই পথে হাঁটার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বিনিয়োগ ছাড়া যেহেতু কর্মসংস্থান বা প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়, তাই নতুন সরকারকে বিনিয়োগ পরিবেশের আমূল সংস্কার করতে হবে এবং একটি পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কৌশল প্রণয়ন করতে হবে, যা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
একইভাবে, জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আমাদের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। নতুন সরকারকে একদিকে যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে হবে, তেমনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ ও মনোযোগ দিতে হবে। সর্বোপরি, আর্থিক খাতের সংস্কার সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) রয়েছে, যাদেরকে একীভূতকরণ অথবা অবসায়নের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য মৃতপ্রায় পুঁজিবাজার এবং বন্ড মার্কেটকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বিকল্প নেই।
পরিশেষে, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সামনে পথটি অত্যন্ত কঠিন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং তার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
লেখক: অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল এক সংকটময় অর্থনীতি। এই সংকট ছিল বহুমাত্রিক। একদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সমস্ত সূচক ২০২২ সালের এপ্রিল-মে মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে নিম্নগামী ছিল। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সুশাসন নেমে এসেছিল একেবারে তলানিতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের চিরাচরিত কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো, যা বছরের পর বছর ধরে নীতিগত অবহেলার কারণে প্রকট আকার ধারণ করেছিল, বিশেষ করে ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এমন এক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চারটি প্রধান অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছিল।
সরকারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ছিল সামষ্টিক অর্থনীতির পতন রোধ করা। ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৮ মাসে টাকার মান ৪১ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, যা একসময় ৩৬-৩৭ বিলিয়ন ডলার ছিল (করোনা মহামারির সময়ের ৪৮ বিলিয়ন বাদ দিয়ে), তা কমে আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী ১৮-১৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সরকারিভাবে মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ বলা হলেও বাজারের প্রকৃত অবস্থা ছিল আরও ভয়াবহ এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন ছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং প্রাথমিক সাফল্যও পায়। টাকা ছাপানো বন্ধ করা এবং সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কঠোর করার মাধ্যমে তারা মূল্যস্ফীতিকে প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এটি এখনও সহনীয় মাত্রার অনেক উপরে, কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা গেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে টাকার মানে বড় কোনো পতন ঘটেনি এবং ২০২৫ সালের মে মাসে সম্পূর্ণ ভাসমান বিনিময় হার চালু করার পরেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে রিজার্ভের ক্ষেত্রে। নেট রিজার্ভ ১৮-১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ সফল বলে বিবেচিত হতে পারে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ছিল অর্থনৈতিক সুশাসন পুনরুদ্ধার করা, যা ব্যাংকিং খাত এবং সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের আগে রাজনৈতিক মদদে ব্যাংক লুটপাট এবং আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা ছিল একটি নিয়মিত ঘটনা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নেতৃত্ব এই লুটতরাজ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। তবে একে আংশিক সাফল্যই বলতে হবে। কারণ, খেলাপি ঋণ (এনপিএল) আদায় বা পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো জটিল কাজগুলোতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। একইভাবে, সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব কমলেও, এই খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। তাই সুশাসনের পথে যাত্রা শুরু হলেও গন্তব্য এখনও বহু দূর।
সরকারের তৃতীয় অগ্রাধিকার ছিল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোকে, যেমন—বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) পুনরায় সচল করা। এই ক্ষেত্রে সাফল্য প্রায় শূন্য। সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ উভয়ই ছিল হতাশাজনক। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৪ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। সম্প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দ্বিগুণ হওয়ার খবর প্রচারিত হলেও, ৩০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের দুই-তৃতীয়াংশই হলো বিদ্যমান কোম্পানির পুনঃবিনিয়োগ বা আন্তঃকোম্পানি ঋণ। নতুন ‘গ্রিনফিল্ড’ বিনিয়োগ প্রায় আসেনি বললেই চলে, যা নতুন কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান সুদের হার এবং চাহিদা হ্রাসের কারণে রক্তক্ষরণ করছে, কিন্তু তাদের জন্য কোনো কার্যকর নীতি-সহায়তা দেখা যায়নি। ফলস্বরূপ, গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কম।
চতুর্থ অগ্রাধিকার ছিল প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা। এই ক্ষেত্রটি সবচেয়ে হতাশাজনক। গত ১৫ মাসে অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও, সেগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো সংগঠিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, বাণিজ্য সহজীকরণ, এবং ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য নীতি সংস্কারের মতো বিষয়গুলো বহু আগে থেকেই বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দ্বারা চিহ্নিত ছিল। এই অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো সাংবিধানিক বা বিচারিক সংস্কারের মতো রাজনৈতিকভাবে জটিল ছিল না। এমনকি আমলাতন্ত্রও এক্ষেত্রে বাধা হতো বলে মনে হয় না। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এই সুযোগটি কাজে লাগানো হয়নি, যা একটি বড় ব্যর্থতা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই মিশ্র পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক প্রভাব পড়বে ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের ওপর। বিশেষ করে নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের মতো বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই অত্যন্ত কৌশলী ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আরেকটি আশু চ্যালেঞ্জ হলো, সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। ফলে প্রথমেই বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের সফল হতে হবে।
উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে অর্থনৈতিক কাঠামো নতুন সরকার পাবে, সেখানে কিছু প্রাথমিক সাফল্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সংকট রয়ে গেছে। ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি বা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় কিছুটা উন্নতি হলেও মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের কাছাকাছি। সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে হলে এটিকে কমিয়ে আনা জরুরি। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে তা মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং টাকার অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত করে। রিজার্ভের ক্ষেত্রে নেট রিজার্ভ আগের চেয়ে (১৮ বিলিয়ন ডলার) ভালো অবস্থায় এলেও, আমরা যদি ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে যেতে চাই, তবে আমদানির যে চাহিদা তৈরি হবে, তার জন্য বর্তমান ২৮ বিলিয়ন ডলারের গ্রস রিজার্ভ যথেষ্ট নয়।
ব্যাংকিং খাতে লুটেরাদের সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও পুরো খাত এখনো স্থিতিশীল হয়নি। অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এনবিএফআইগুলোর অবস্থা শোচনীয়। আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একীভূতকরণ (মার্জার) বা কনসোলিডেশন প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, ফিসকাল ম্যানেজমেন্ট বা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আমরা ঋণনির্ভর নীতির ফাঁদে পড়ে গেছি। অভ্যন্তরীণ রাজস্বের পুরোটাই চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে, ফলে উন্নয়নের জন্য কোনো ফিসকাল স্পেস নেই; পুরোটাই ঋণের ওপর নির্ভরশীল।
এই প্রেক্ষাপটে, নতুন যে সরকারই আসুক তাদের জন্য ৬ থেকে ৭টি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার বা প্রায়োরিটি এরিয়া রয়েছে। তাদের জন্য প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রাথমিক সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, রিজার্ভকে ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাও এই লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। নতুন সরকারের জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানো একটি অন্যতম কঠিন কাজ হবে, কারণ দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশের আশেপাশে। করছাড় যৌক্তিকীকরণ এবং প্রত্যক্ষ করের অনুপাত বৃদ্ধি করা এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। ভ্যাট ও কাস্টমস আইনের সংস্কার করে সেগুলোকে ব্যবসা ও রাজস্ববান্ধব করতে হবে। একইসাথে, ঋণ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে এবং অলাভজনক ঋণের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনার জন্য ঋণদাতাদের সাথে আলোচনা শুরু করতে হবে।
অর্থনীতির গতি ফেরাতে হলে রপ্তানি বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া ও পাদুকা, হালকা প্রকৌশল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো তিন থেকে চারটি সম্ভাবনাময় খাতকে নীতি সহায়তা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যেভাবে ইলেকট্রনিক্স ও মেশিনারি পণ্য রপ্তানি করে এগিয়েছে, আমাদেরও সেই পথে হাঁটার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বিনিয়োগ ছাড়া যেহেতু কর্মসংস্থান বা প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়, তাই নতুন সরকারকে বিনিয়োগ পরিবেশের আমূল সংস্কার করতে হবে এবং একটি পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কৌশল প্রণয়ন করতে হবে, যা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
একইভাবে, জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আমাদের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। নতুন সরকারকে একদিকে যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে হবে, তেমনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ ও মনোযোগ দিতে হবে। সর্বোপরি, আর্থিক খাতের সংস্কার সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) রয়েছে, যাদেরকে একীভূতকরণ অথবা অবসায়নের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য মৃতপ্রায় পুঁজিবাজার এবং বন্ড মার্কেটকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বিকল্প নেই।
পরিশেষে, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সামনে পথটি অত্যন্ত কঠিন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং তার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
লেখক: অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে নিজেকে পরিবর্তনের দূত হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু তিনি এবং বিএনপির অতীত রেকর্ড প্রশ্নবিদ্ধ। এই বিষয়গুলো নিয়েই আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরকে।
১ দিন আগে
জানুয়ারির শেষ দিকের এক দুপুর। ঢাকার ব্যস্ত যানজটের ভেতর দিয়ে অটোরিকশা চালাতে চালাতে রুবেল চাকলাদারের কণ্ঠে ক্ষোভের চেয়ে যেন এক ধরনের অসহায়ত্বই বেশি ঝরে পড়ছিল। ৫০ বছর বয়সী রুবেল বলছিলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হঠানোর পর বাংলাদেশিরা বিরল সুযোগ পেয়েছিল। এই সুযোগ তারা হেলায় হারিয়েছে।
১ দিন আগে
দীর্ঘ ষোল বছর ধরে বাংলাদেশে যে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা জেঁকে বসেছিল, তা ছিল মূলত জনগণের সম্মতিবিহীন এক শাসন। এই দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে সেই বদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোনো নতুন বিষয় নয়।
২ দিন আগে