আপনার নেগ্রোনি নামিয়ে রাখুন, প্রাডা হ্যান্ডব্যাগ সরিয়ে দিন এবং হাতে তুলে নিন একটি পেপারব্যাক বই। পরেরবার কেউ যখন আপনার ছবি তুলতে ফোন বের করবে, তখন লিপস্টিক নয়, বরং পড়ার চশমা হাতে নিন। কারণ এখন বুদ্ধিমত্তাই নতুন আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
পপ তারকারা এখন বইয়ের ক্লাব চালু করছেন। ১৯৭০-এর দশকে যেখানে স্টুডিও-৫৪ ছিল সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্র, সেখানে এই দশকে দেখা যাচ্ছে ডুয়া লিপার অনলাইন সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস-৯৫। একই সঙ্গে অনেকে সাবস্ট্যাকে যোগ দিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখছেন। সম্প্রতি চার্লি এক্সসিএক্স ১ হাজার ৮০০ শব্দের একটি প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করেছেন, কেন একজন পপ তারকা হিসেবে তিনি এই বাস্তবতা এড়াতে পারেন না যে কিছু মানুষ তাকে বোকা প্রমাণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে সুপারমডেল কাইয়া গারবার, যার মা সিন্ডি ক্রফোর্ড, ফ্যাশন সপ্তাহের ব্যাকস্টেজে সময় কাটান দিদিয়ঁ, দুরাস ও কামুর মতো লেখকদের লেখা পড়ে, ভোগ ম্যাগাজিন নয়।
মাত্র তিন বছর আগে আমরা গোলাপি পোশাক পরে সিনেমা হলে গিয়েছিলাম ‘বার্বি’ দেখতে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে উনিশ শতকের জটিল শৈলীর ভিক্টোরিয়ান মাস্টারপিস ‘উদারিং হাইটস’ হলিউডের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নেটফ্লিক্স নতুনভাবে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ নির্মাণে বড় বাজি ধরছে, যেখানে এমা করিনকে এলিজাবেথ বেনেট চরিত্রে দেখা যাবে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে বুদ্ধিবৃত্তিকতা ও গ্ল্যামার আলাদা দুই টেবিলে বসে ছিল, যেন স্কুলের ক্যান্টিনে দুই ভিন্ন গোষ্ঠী—যেখানে শিক্ষকপ্রিয় হলে “কুল” দলে বসার সুযোগ থাকে না। কিন্তু এখন এই দুই জগতের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে এবং তারা একে অপরের দিকে ঝুঁকছে।
ট্রেন্ড বিশ্লেষক লুসি গ্রিনের মতে, এই পরিবর্তন বাস্তব এবং তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, দৃশ্যনির্ভর লাইফস্টাইলকেন্দ্রিক কনটেন্টের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা ব্র্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড, এখন আরও বেশি কিছু চায়। তারা জ্ঞান চায়, তারা গভীরে যেতে চায়। তারা পডকাস্ট, রেডিট, টিকটক ও ইউটিউব—সব জায়গায় বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে। যেন এক নতুন ধরনের সামাজিকতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ সিগারেট হাতে দাঁড়িয়ে ওয়াল্টার বেঞ্জামিন নিয়ে আলোচনা করাও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
ফ্যাশন জগতেও এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ ডিজাইনার লুইস ট্রটার যখন ইতালীয় বিলাসবহুল ব্র্যান্ড বোটেগা ভেনেটায় দায়িত্ব নেন, তখন তার কাজের প্রথম দিকের একটি ছিল নতুন বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মডেল নির্বাচন করা। তিনি প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড অনুসরণ না করে বেছে নেন লেখক জেডি স্মিথ এবং প্রবীণ ভাস্কর ও কবি বারবারা চেজ-রিবুডকে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বুদ্ধিবৃত্তিকতা এখন নান্দনিকতার অংশ হয়ে উঠছে।
যদি বিষয়টিকে সরলভাবে বলা হতো, তাহলে বলা যেত বুদ্ধিমত্তাই এখন নতুন শারীরিক আকর্ষণের জায়গা নিয়েছে। কিন্তু সরলীকরণের সময় শেষ, তাই বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে দেখা প্রয়োজন। আমরা এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছি, যেখানে ডুয়া লিপা বিলাসবহুল হোটেল কক্ষে সাজগোজ করা অবস্থায় ককটেল পোশাকে শুয়ে বই হাতে ছবি পোস্ট করেন, আর অভিনেতা জ্যাকব এলর্ডি বিমানবন্দরের বইয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে নাট্যকার সুজি মিলারের ‘প্রিমা ফেসি’ উল্টে দেখেন এবং পকেটে আরেকটি বই স্পষ্টভাবে রেখে দেন। অর্থাৎ বই ও চিন্তা এখন জনসমক্ষে ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল কারদাশিয়ান পরিবার থেকে। ২০১৮ সালে কিম কারদাশিয়ান ঘোষণা দেন যে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা ছিল দীর্ঘ এবং খুব আকর্ষণীয় নয় এমন একটি প্রক্রিয়া। গত দুই দশক ধরে কারদাশিয়ান পরিবার মানুষের আকাঙ্ক্ষার ধরণ নির্ধারণ করেছে এবং তা প্রভাবিত করেছে। আইনের দিকে তার এই ঝোঁক ছিল একটি প্রাথমিক পরীক্ষা, যেখানে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক গম্ভীরতা কি সেলিব্রিটি পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, বাণিজ্যিক আকর্ষণ নষ্ট না করে।
এর কয়েক বছর পর পড়াশোনা নিজেই জনপ্রিয় সংস্কৃতির দৃশ্যপটে প্রবেশ করতে শুরু করে। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ ধারাবাহিকের প্রথম সিজন প্রচারিত হয়। সেখানে তরুণ ও আকর্ষণীয় চরিত্রদের প্রায়ই সুইমিং পুলের পাশে বই হাতে দেখা যায়। সিডনি সুইনির চরিত্র অলিভিয়া পড়ছিলেন ফ্রিডরিখ নীৎশের Beyond Good and Evil এবং সিগমুন্ড ফ্রয়েডের Civilization and Its Discontents। অন্যদিকে ব্রিটানি ও’গ্রেডির চরিত্র পলা পড়ছিলেন ফ্রান্ত্জ ফ্যাননের The Wretched of the Earth।
একই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে মডেল ও অভিনেতাদের বই পড়ার ছবি ভাইরাল হতে শুরু করে। ২০১৯ সালে ইয়টে কেন্ডাল জেনারের হাতে একটি পেপারব্যাক বই দেখা যায়, এবং ২০২০ সালে এমিলি রাতাজকোভস্কিকে বিছানায় শুয়ে জোয়ান দিদিয়ঁ পড়তে দেখা যায়। এসব ছবিতে তাদের হাতে থাকা বইগুলো ঠিক ততটাই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে, যতটা তাদের পোশাককে দেখা হয়। এর ফলে বই পড়া শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক সংকেতে পরিণত হয়েছে, যা মানুষের পরিচয় ও রুচিকে প্রকাশ করে।
দীর্ঘদিন ধরে মানুষ তাদের কাজের মাধ্যমে চিন্তাশক্তি ব্যবহার করেছে, কিন্তু যদি প্রযুক্তি সেই কাজগুলো দখল করে নেয়, তাহলে মানুষ নিজেদের চিন্তাশক্তিকে নতুনভাবে ব্যবহার করতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা এই জটিল বিশ্বকে বোঝার জন্য জ্ঞানের দিকে ঝুঁকছে। এটি অনেকটা ভিক্টোরিয়ান যুগের মতো, যখন মানুষ অভূতপূর্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে অতীতের দিকে তাকিয়েছিল।
এই পরিসরে এমিলি রাতাজকোভস্কির দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রচলিত অবস্থাকে বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে। কারণ তিনি কেবল সুন্দর নন, বরং অত্যন্ত আকর্ষণীয়ও। অথচ তাকেই দেখা গেছে প্রবন্ধ প্রকাশ করতে, নারীবাদ ও ক্ষমতা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে এবং ২০২১ সালে My Body নামে একটি বেস্টসেলার বই প্রকাশ করতে। এই বইয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, একজন নারী একই সঙ্গে গম্ভীর লেখক হতে পারেন, আবার যৌন আকর্ষণের প্রতীক হিসেবেও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেন, এই দুই পরিচয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা প্রয়োজন নেই।
এই মানসিক পরিবর্তনের প্রতিধ্বনি আবার দেখা যায় ২০২৫ সালে। তখন অ্যাভাঁ-গার্দ পপ তারকা এফকেএ টুইগস, যিনি আগে তার পোল-ড্যান্সিং দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে একটি বক্তব্য দেন; সেখানে তিনি সরাসরি জনজীবনের “বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়”-এর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “চিন্তাবিদরা কোথায়?” এবং বুদ্ধিবৃত্তিকতাকে নাগরিক অধিকার, প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং জনসেবার একটি অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
এই প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিমত্তার আকর্ষণ বাড়া একটি অদ্ভুত সময়ের ঘটনা। আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন বুদ্ধিবিরোধী প্রবণতা স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে অভিজাত মনোভাব হিসেবে খারিজ করা হচ্ছে, প্রক্রিয়াকে বিরক্তিকর মনে করা হচ্ছে এবং তথ্যকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের দীর্ঘ, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং অসংলগ্ন বক্তৃতা বিশ্বজুড়ে আলোচনার ধরনকে বিকৃত করে তুলেছে।
এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। ইতিহাসে দেখা যায়, বুদ্ধিবিরোধী মনোভাব কর্তৃত্ববাদী শাসনের একটি মৌলিক ভিত্তি। আর তা মানুষের সেই কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়, যার মাধ্যমে তারা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন কমানো হচ্ছে, এবং Washington Post-এর মতো অনুসন্ধানী পত্রিকাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের মনোযোগকে পণ্যে পরিণত করে ধীরে ধীরে চিন্তাশক্তিকে ক্ষয় করছে। এই পরিস্থিতি আমাদের এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আমরা অনেকটা অসহায় বোধ করি, কিন্তু তবুও এই বাস্তবতাকে মেনে নিই। “এত গভীরভাবে ভাবার কিছু নেই”—এই ধরনের ধারণা এবং “সবাই একই রকম”—এই উদাসীন মনোভাব গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তবুও এই পরিস্থিতির মধ্যেই জনপ্রিয় সংস্কৃতির কিছু ধারা বিপরীত দিকে এগোচ্ছে। এই বৈপরীত্য অনেক সময় বিস্ময়কর মনে হয়। যেমন, একদিকে ট্রাম্প জাতিসংঘে জলবায়ু পরিবর্তনকে “সবচেয়ে বড় প্রতারণা” বলে উল্লেখ করছেন, অন্যদিকে একই সময়ে নিউইয়র্কে ফ্যাশন শোগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রোএনজা স্কুলার-এর প্রদর্শনীতে শো নোটের সঙ্গে ফরাসি নারীবাদী লেখালেখির একটি পাঠ তালিকা যুক্ত ছিল, যেখানে এলেন সিক্সুর The Third Body এবং লুস ইরিগারায়ের Speculum of the Other Woman অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে জোসেফ আল্টুজারা প্রতিটি আসনে ইয়োকো ওগাওয়ার The Memory Police বইটির একটি কপি রেখে দেন।
একদিন জানুয়ারিতে আমি একটি সংবাদ প্রতিবেদন পড়ি, যেখানে বলা হয় ট্রাম্প এক বক্তৃতায় চারবার গ্রিনল্যান্ডকে আইসল্যান্ডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন। এরপর আমি Vogue-এ গিয়ে পড়ি সেন্ট লরাঁর সর্বশেষ পুরুষদের ফ্যাশন প্রদর্শনী সম্পর্কে, যা ডিজাইনার অ্যান্থনি ভাকারেলোর জেমস বল্ডউইনের ১৯৫৬ সালের উপন্যাস Giovanni’s Room পড়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এই বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে দেখায়, একই সময়ে ভিন্নধর্মী প্রবণতা পাশাপাশি চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে ফ্যাশন বা গ্ল্যামারের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিকতার সম্পর্ক নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়, সেটি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। অনেক সময় এই দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে দেখা হলে মানুষ অবাক হয়। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই বিভাজন আগের মতো স্পষ্ট নেই। উদাহরণ হিসেবে ডুয়া লিপার লেখকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারগুলোর কথা বলা যায়, যা অত্যন্ত গভীর ও চিন্তাশীল। ডেভিড সজালয়ের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এমন একটি প্রশ্ন তোলেন—একটি গল্পে যেখানে পুরুষত্ব নিয়ে এত কথা বলা হয়েছে, সেখানে প্রধান চরিত্রের বাবাকে কেন অনুপস্থিত রাখা হয়েছে—যা অনেক সমালোচকও খেয়াল করেননি।
পপ তারকারা এখন বইয়ের ক্লাব চালু করছেন। ১৯৭০-এর দশকে যেখানে স্টুডিও-৫৪ ছিল সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্র, সেখানে এই দশকে দেখা যাচ্ছে ডুয়া লিপার অনলাইন সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস-৯৫।
রক অ্যান্ড রোল সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে তথাকথিত “গম্ভীরতা”-এর বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু জনপ্রিয় গানের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, পপ তারকারা বুদ্ধিহীন—এই ধারণা সঠিক নয়। বুকটকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হালি ব্রাউন বলেন, সেলিব্রিটিরা বই না পড়লে যেমন বোকা বলা হয়, তেমনি পড়লেও তাদের বোকা বলা হয়। ফলে মানুষ আসলে তাদের কাছে কী চায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি “দেখানোর জন্য পড়া” নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনার পক্ষেও নন। তার মতে, তরুণরা এখনো সেলিব্রিটি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত, এবং যদি এর মাধ্যমে তারা বাইরে বসে বই পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তবে সেটি ইতিবাচক।
এই পুরো বিষয়টি আসলে জটিল। লুসি গ্রিনের ভাষায়, জেনারেশন জেড এক ধরনের বৈপরীত্যে ভরা। তারা একদিকে মনে করে তারা অনলাইনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে, আবার অন্যদিকে সেই অনলাইনেই দীর্ঘ সময় কাটায়। তারা পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন, কিন্তু একই সঙ্গে দ্রুত ফ্যাশনের অন্যতম বড় ভোক্তাও। ফলে এই পরিবর্তনকে শুধু মানুষের বেশি পড়াশোনা করার প্রবণতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং সাংস্কৃতিক প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ গতিপথের বিপরীতে চলছে।
দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা যায়, ইংরেজিভাষী বিশ্বের অনেক দেশে পাঠাভ্যাস ধারাবাহিকভাবে কমছে। যুক্তরাজ্যে Reading Agency-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, গত এক দশকে প্রাপ্তবয়স্কদের অবসর সময়ে বই পড়ার হার ক্রমাগত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে National Endowment for the Arts জানিয়েছে, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে সাহিত্যপাঠ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অস্ট্রেলিয়াতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, একদিকে যেখানে বুদ্ধিবিরোধী প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির নির্দিষ্ট অংশে বুদ্ধিবৃত্তিকতার প্রতি নতুন আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে। এই দ্বৈত বাস্তবতাই বর্তমান সময়কে জটিল আর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পাঠাভ্যাসের এই অবনতির মুখে বই শিল্প এখন ফ্যাশনকে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে তারা প্রতিরোধমূলক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বইয়ের দোকান চেইন ওয়াটারস্টোনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস ডন্ট জানিয়েছেন, তরুণ পাঠকদের মধ্যে মুদ্রিত বইয়ের বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সাহিত্যধর্মী উপন্যাস এবং ক্লাসিক বইয়ের প্রতি ৩৫ বছরের নিচের পাঠকদের নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বই বিক্রেতারা বলছেন, অনেক ক্রেতাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দ্বারা আগে থেকেই প্রভাবিত হয়ে দোকানে আসেন। তারা অনলাইনে দেখা বইয়ের প্রচ্ছদ চিনতে পারেন, যদিও বইগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। লন্ডনের একজন বই বিক্রেতার ভাষায়, প্রচ্ছদের গুরুত্ব অনেক, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো এই ধারণা যে পড়া এখন একজন মানুষের পরিচয়ের অংশ, এটি আর নিছক একাকী একটি কাজ নয়।
এই কারণেই এখন বই পড়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। আপনি ইতোমধ্যেই সেই বইগুলো দেখেছেন। ট্রেনে ব্যবহারে ক্ষয়ে যাওয়া উদারিং হাইটস-এর কপি এত বেশি দেখা যাচ্ছে যে এটি যেন একটি মৌসুমি ফ্যাশন অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। বইয়ের ক্লাবগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা কখনো বারে, কখনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচনা শুধু কাহিনি নয়, বরং পরিচয় ও অনুভূতিকেও কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়।
এর পাশাপাশি রয়েছে বুকটক, টিকটকের একটি বিস্তৃত অংশ, যেখানে ব্যবহারকারীরা—বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা—উপন্যাস সুপারিশ করেন, কাল্পনিক চরিত্রের মৃত্যুতে আবেগ প্রকাশ করেন, প্রিয় অংশগুলো চিহ্নিত করেন এবং পুরোনো বইগুলোকে হঠাৎ করে বেস্টসেলার বানিয়ে ফেলেন। এমন এক সংস্কৃতিতে, যেখানে বাহ্যিকতা প্রাধান্য পায়, সেখানে বই হয়ে ওঠে এক ধরনের প্রমাণ—গভীরতার না হলেও, অন্তত গভীরতার আকাঙ্ক্ষার।
নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড, এখন আরও বেশি কিছু চায়। তারা জ্ঞান চায়, তারা গভীরে যেতে চায়। তারা পডকাস্ট, রেডিট, টিকটক ও ইউটিউব—সব জায়গায় বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে। যেন এক নতুন ধরনের সামাজিকতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ সিগারেট হাতে দাঁড়িয়ে ওয়াল্টার বেঞ্জামিন নিয়ে আলোচনা করাও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
যুক্তরাজ্যজুড়ে বই বিক্রেতারা লক্ষ্য করছেন, তরুণ ক্রেতারা এখন ঘরানার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন প্রতীকী দিকগুলোকে। একটি বই তাদের সম্পর্কে কী প্রকাশ করে, সেটি টেবিলে কেমন দেখায়, এবং এটি তাদের জীবনের সঙ্গে কীভাবে মানানসই হয়—এসব বিষয় এখন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডনের বুকবার নামের বইয়ের দোকান ও ওয়াইন বারের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিসি রায়ান বলেছেন, বই পড়া আবার সামাজিক হয়ে উঠছে। এটি কখনো প্রদর্শনমূলক, আবার কখনো সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা—দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। তাদের আয়োজনগুলো খুব দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। তার ভাষায়, মানুষ এখন তারা কী পড়ছে তা নিয়ে আলোচনা করতে চায় এবং এটিকে তাদের সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে দেখতে চায়।
স্বল্প মনোযোগের এই যুগে ফোনের প্রতি নির্ভরশীল না থাকা এখন এক ধরনের গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্রাউনের মতে, “ফোনের দাস না হওয়া এখন এক ধরনের শক্তির প্রকাশ।” তিনি সম্প্রতি স্পটিফাই ব্যবহার বন্ধ করেছেন এবং ১০ বছর বয়সে ব্যবহৃত আইপড আবার ব্যবহার শুরু করেছেন। তার মতে, মানুষ বুঝতে পারছে যে তাদের সেরা ধারণাগুলো আসে তখনই, যখন তারা সংক্ষিপ্ত কনটেন্টের বাইরে বাস্তব জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
প্রকাশনা শিল্প এই সুযোগটি দ্রুত কাজে লাগিয়েছে এবং প্রচলিত কাঠামোর বাইরে থাকা ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে এসেছে। সারা জেসিকা পার্কার সম্প্রতি বুকার পুরস্কারের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা বইয়ের জগৎকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেয়। প্যান্ডোরা সাইকস সাবস্ট্যাকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় বই-সংক্রান্ত নিউজলেটার Books and Bits-এর লেখক, যার পাঠকসংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি। সাহিত্য জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রের ফ্যাশন সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, এমন কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় ছিল না, যার মাধ্যমে তিনি একদিকে ফ্যাশন শোতে অংশ নিতে পারেন এবং অন্যদিকে বইয়ের পর্যালোচনা লিখতে বা লেখকদের সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।
বইয়ের ব্যাগের পরিবর্তনের দিকেও লক্ষ করা যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর। একসময় ডন্ট বুকসের সাধারণ টোট ব্যাগ বা নিউ ইয়র্কারের ক্যানভাস ব্যাগ ছিল এক ধরনের নীরব পরিচয়ের প্রতীক। এখন তা উচ্চ ফ্যাশনের একটি লাভজনক পণ্যে পরিণত হয়েছে।
তবে এই প্রবণতার মধ্যে কিছু উদ্বেগও রয়েছে, বিশেষ করে বুদ্ধিবৃত্তিক আকাঙ্ক্ষাকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের বিষয়টি নিয়ে। একটি ডিওর ব্যাগের দাম প্রায় ২,৪০০ পাউন্ড, যা এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। তবুও এটি অস্বীকার করা যায় না যে বই সবসময়ই নান্দনিক বস্তু হিসেবে মূল্যবান ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বহু আগে থেকেই ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ছিল সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। পেঙ্গুইন ক্লাসিকসের কমলা মলাট যেমন সহজে চেনা যায়, তেমনি কোনো ডিজাইনার ব্র্যান্ডের লোগোও।
বইয়ের প্রচ্ছদ একটি নকশাগত শিল্পবস্তু হিসেবে নতুন কিছু নয়। ১৯২৫ সালে The Great Gatsby-এর প্রথম সংস্করণের জন্য ফ্রান্সিস কুগাট যে প্রচ্ছদ তৈরি করেছিলেন—জ্বলন্ত শহরের ওপর ভাসমান চোখের সেই স্বপ্নময় চিত্র—তা এখন একটি নকশাগত ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৪ সালে এই বইয়ের একটি স্বাক্ষরিত প্রথম সংস্করণ হেরিটেজ অকশনসে ৪২৫,০০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা এর নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এই বিষয়টিকে শুধু বই বনাম ফোন—এই সরল বিভাজনে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলে তা যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং এতে বোঝাপড়ার সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ পাবে। লুসি গ্রিনের মতে, এখন অনলাইন কনটেন্ট এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞানের মূল্য বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়াবিদ, ফুটবলার, হকি খেলোয়াড় এবং পেশাদার স্কেটাররা এখন ফ্যাশন ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের নতুন প্রভাবক ও অংশীদার হিসেবে উঠে আসছেন। অর্থাৎ সংস্কৃতি এখন এমন মানুষদের দিকে ঝুঁকছে, যাদের মধ্যে বাস্তব দক্ষতা রয়েছে।
একসময় ইনস্টাগ্রাম ছিল আকাঙ্ক্ষার প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু এখন তা ধীরে ধীরে জায়গা হারাচ্ছে, এবং সাবস্ট্যাকের মতো প্ল্যাটফর্ম গুরুত্ব পাচ্ছে। সেখানে গভীরতা, ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বর এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এখানে চিন্তাশীলতাকে দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে একটি অর্থনৈতিক মূল্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পডকাস্টও দীর্ঘ আলোচনাকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির ভেতরে নিয়ে এসেছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়—বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই নতুন আকর্ষণ, নাকি তা কেবল তখনই আকর্ষণীয়, যখন এর সঙ্গে বাহ্যিক সৌন্দর্যও যুক্ত থাকে? আমরা কি আবার এমন একটি বাস্তবতায় ফিরে যাচ্ছি, যেখানে কেবল সুন্দর মানুষরাই গুরুত্ব পায়? এখানে পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর প্রভাব স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বুদ্ধিমতী নারীকে প্রায়ই অগোছালো, অমার্জিত বা কঠিন হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এই সৌন্দর্য-ও-বুদ্ধির দ্বৈত ধারণা সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ইতোমধ্যে গ্ল্যামারাস ব্যক্তিরা যখন নিজেদের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়ও যুক্ত করছেন, তখন তা কিছুটা বিরক্তিকর মনে হতে পারে—এটি স্বীকার করা যায়। কিন্তু একই সঙ্গে এর মধ্যে একটি নীরব পরিবর্তনের ইঙ্গিতও রয়েছে। কারণ তারা কোনো একটি গুণকে আড়াল না করে, বরং একাধিক পরিচয়কে একসঙ্গে ধারণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে নারীদের সামনে যে শর্ত রাখা হয়েছিল—একটি পরিচয় বেছে নিতে হবে—তা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা খাত জানিয়েছে, সবচেয়ে সক্রিয় পাঠকগোষ্ঠী তরুণ এবং নারী। বইপাঠের আসর, সরাসরি আয়োজন এবং বইয়ের ক্লাবগুলোতে ২০ ও ৩০-এর দশকের নারীদের উপস্থিতি বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের দুটি বড় সাহিত্যনির্ভর মুভি—Wuthering Heights এবং Pride and Prejudice, দুটিই নারী পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় উপন্যাস থেকে নেওয়া।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনীতির অবস্থানও প্রশ্নের মুখে আসে। একসময় তরুণদের জন্য রাজনীতি ছিল চিন্তার জগতে প্রবেশের একটি প্রধান পথ। তারা বিপ্লব নিয়ে আলোচনা করত, উনিশ শতকের সাহিত্য নয়। কিন্তু এখন রাজনীতি অনেকটাই সংঘর্ষপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তরুণদের এই ক্ষেত্র থেকে সরে আসা অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক রক্ষণশীলতার একটি শক্তিশালী ধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যেখানে মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারে, কিন্তু সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে হয় না। একটি বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে বই পড়া, উদ্ধৃতি দেওয়া এবং শেখার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের গুরুত্ব ও কৌতূহল প্রকাশ করতে পারছে, বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা ছাড়াই। যখন রাজনৈতিক আলোচনা ক্রমশ রূঢ় হয়ে উঠছে, তখন সংস্কৃতি নতুন জায়গায় জটিল চিন্তাকে ধারণ করছে।
মানবিক শাখার শিক্ষা যখন হুমকির মুখে, তখন শিক্ষা নিজেই এক ধরনের বিলাসে পরিণত হচ্ছে। টিকটকে “অত্যন্ত শিক্ষিত” হওয়া এখন এক ধরনের নতুন আকর্ষণীয় পরিচয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও এই পরিবর্তনের একটি অংশ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ তাদের কাজের মাধ্যমে চিন্তাশক্তি ব্যবহার করেছে, কিন্তু যদি প্রযুক্তি সেই কাজগুলো দখল করে নেয়, তাহলে মানুষ নিজেদের চিন্তাশক্তিকে নতুনভাবে ব্যবহার করতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা এই জটিল বিশ্বকে বোঝার জন্য জ্ঞানের দিকে ঝুঁকছে। এটি অনেকটা ভিক্টোরিয়ান যুগের মতো, যখন মানুষ অভূতপূর্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে অতীতের দিকে তাকিয়েছিল।
বর্তমান সময়ে বুদ্ধিমান হওয়াই এক ধরনের আকর্ষণ। এটি শুধু ব্যক্তিগত আকর্ষণের বিষয় নয়, বরং এমন এক আকর্ষণ যা আলোচনা তৈরি করে এবং সময়ের সঙ্গে মূল্য অর্জন করে। এমন এক বিশ্বে, যেখানে চিন্তার অবমূল্যায়ন হচ্ছে, সেখানে চিন্তাশীলতা নিজেই বিরল হয়ে উঠছে। আর যা বিরল, তা সবসময়ই বেশি মূল্য পায়। ২০০০-এর দশকে যেমন সীমিত সংস্করণের জুতার প্রতি আকর্ষণ ছিল, ২০২০-এর দশকে জ্ঞান ও তথ্য সেই জায়গা নিয়েছে। এটি পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে এটুকু নিশ্চিত যে এটি এখন আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হচ্ছে, আর সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য গার্ডিয়ান থেকে অনুবাদ করেছেন মাহবুবুল আলম তারেক