পণ্যবাজারে দুর্যোগের প্রভাব রাখুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০৭
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে পড়বে, এটা ধরেই নেওয়া হয়েছিল। দাবি করে বলা হচ্ছিল, প্রশাসন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে। বিশেষত কাঁচাবাজারে অস্বাভাবিক প্রভাব যেন না পড়ে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়ছে। এটা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রত্যয়ও ঘোষিত হয়েছে বাজেটে। নতুন মুদ্রানীতিতেও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্যার কারণে বাজারে অস্বাভাবিক প্রভাব পড়লে সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।

স্ট্রীমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিত্যপণ্যের দামের যেসব খবর এসেছে, তাতে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার প্রভাব সুস্পষ্ট বলেই মনে হয়। শুক্র ও শনিবারে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি বাড়ায় চাহিদার চাপে দাম বৃদ্ধির একটা সাধারণ প্রবণতা অবশ্য পরিলক্ষিত হয়। সপ্তাহের মধ্যভাগেও খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার, বাজার কী অবস্থায় রয়েছে। সর্বস্তরের মানুষ যেসব পণ্য প্রতিনিয়ত কেনে, সেগুলোর দামে সামান্য বৃদ্ধিও দুশ্চিন্তা জাগায়। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ টানা চার বছর উচ্চ মূল্যস্ফীতির আগুনে দগ্ধ হচ্ছে। অল্পসংখ্যক মানুষ হয়তো আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সেটা মোকাবিলা করে চলতে সক্ষম। জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। সেটা অসঙ্গত নয়। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে থাকা সিংহভাগ মানুষের আয় কিন্তু সঙ্গতিপূর্ণভাবে বাড়ছে না। এ খাতে কর্মচ্যুতিও গত দুই বছরে কম নয়। শ্রমবাজারে প্রবেশকারীরাও সহজে কাজ জোগাড় করতে পারছে না। বন্যার প্রভাবে পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও এদের পক্ষে তা সহজভাবে নেওয়া কঠিন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তারা স্বভাবতই জানাচ্ছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। সরকারকে এর মর্ম অনুধাবন করে পণ্যবাজারে নজরদারি জোরদার করতে হবে।

‘বড় বন্যা’ বলতে যা বোঝায়, তা কিন্তু হয়নি। উজানে ও দেশে অতিবৃষ্টির কারণে মূলত চট্টগ্রাম অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। পানি সহজে নামতে পারলে মানুষের এত দুর্গতি আর সম্পদের এত ক্ষয়ক্ষতিও হতো না। এর প্রভাবে পণ্যবাজার অস্থির হওয়াটা দুর্যোগপীড়িতদের জন্যও বাড়তি দুঃসংবাদ। তাদেরও একই বাজার থেকে নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষে তো তাদের জন্য জরুরি সব কিছু জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। দুর্যোগে রাজনৈতিক দল, বেসরকারি খাত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকেও তেমন উদ্যোগী হয়ে নামতে দেখা যাচ্ছে না। নামলেও তাদেরকে পণ্যসামগ্রী কিনতে হবে অস্থির হয়ে ওঠা বাজার থেকেই। সে কারণেও এ সময়ে পণ্যবাজার শান্ত রাখার উদ্যোগ প্রয়োজন।

দাম বৃদ্ধির একটা বড় কারণ সরবরাহ কমে যাওয়া। চট্টগ্রাম অঞ্চলে অতিবৃষ্টিজনিত দুর্যোগের কারণে কোন পণ্যের সরবরাহ কতটা কমতে পারে, সেটা কিন্তু অনুমেয়। এ অবস্থায় মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির দামে কতটা বৃদ্ধি ঘটতে পারে, সেটাও আমাদের ধারণার মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেও সরবরাহ বিঘ্নিত হতে দেখা যায়। পরিবহন খরচ বাড়ে। কেজিপ্রতি দামে তার কতটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক, সেটাও খতিয়ে দেখার বিষয়। কিন্তু প্রতিবেদনগুলো পড়ে মনে হচ্ছে, খুচরা পর্যায় পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা শিকারের প্রবণতা রয়েছে। আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা কম বলে মনে হচ্ছে অবশ্য। নিত্যপণ্যের আমদানি কার্যক্রম যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়। দুর্যোগের বাইরে থাকা দেশের বিরাট অঞ্চল থেকে ডিম, মাছ, মুরগি, সবজি ইত্যাদির সরবরাহ বাড়াতেও হবে। বাজার অস্থির হওয়ার সময়টায় পণ্য সরবরাহের সব স্তরে চাঁদাবাজি দমনেও দিতে হবে বিশেষ মনোযোগ। অতিবৃষ্টি ও বন্যার শংকা আরও কয়েক মাস থাকবে। পণ্যবাজারকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ তাই থাকবে সামনেও। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যটিও সম্পর্কিত।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত