স্ট্রিম সম্পাদকীয়

ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম এক ধাক্কায় ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৩৫৭ টাকা কমানো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেশের বাজারে ঘটবে—এটাই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক নীতি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই স্বাভাবিক ঘটনাই অনেক সময় অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এ দেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তা দ্রুত কার্যকর হয়। কিন্তু কমলে সেই সুফল ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে নানা অজুহাত, অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে আটকে যায়। সে কারণেই এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই কম দামে সাধারণ মানুষ গ্যাস কিনতে পারবেন তো?
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় করেছে। এটি নীতিগতভাবে প্রশংসার দাবিদার। এতে বোঝা যায়, বৈশ্বিক বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। কয়েক মাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বাজারে এলপিজির দাম একাধিক দফায় বেড়েছিল। এখন দাম কমার পর একই গতিতে তা কমানো হয়েছে। এটিও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। বিইআরসি যে মূল্য ঘোষণা করে, বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পাওয়া যায় যে খুচরা বিক্রেতারা ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেন। অনেক সময় ক্রেতারা জানেনই না সরকারি নির্ধারিত মূল্য কত। ঘোষণা সংবাদ সম্মেলন, টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাজারে গিয়ে ভোক্তা ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় ঘোষণার পরও বেশি দামে বিক্রির হাজার রকমের ছুতো।
এ কারণেই শুধু দাম নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। সেই দাম ক্রেতা পর্যায়ে কার্যকর করাও সরকারের বড় দায়িত্ব। বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। প্রতিটি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার দোকানে নির্ধারিত মূল্য তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে টানাতে হবে। অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তারা কোথায় অভিযোগ করবেন, তার সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও শাস্তির নজির তৈরি হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে।
আরও একটি বিষয় গুরুত্বের দাবি রাখে। এলপিজির বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। তাই প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা ও কমিশন কাঠামো কতটা স্বচ্ছ, সেটিও নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যদি ঘোষিত মূল্য আর বাস্তব বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বারবার বড় ব্যবধান তৈরি হয়, তবে তা বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা আর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার প্রমাণ হয়ে ওঠে।
এলপিজির দাম কমার এই সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক সূচনা। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণাটি কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছায় তার ওপর। মানুষ সংবাদে নয়, বাজারে স্বস্তি দেখতে চায়। সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগের পূর্ণ সফলতা তখনই পাওয়া যাবে, যখন ঘোষিত দামই হবে বাস্তবের দাম। ভোক্তার সেই অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কার্যকরভাবে যেন নাগরিকের পাশে দাঁড়ায়।

ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম এক ধাক্কায় ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৩৫৭ টাকা কমানো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেশের বাজারে ঘটবে—এটাই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক নীতি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই স্বাভাবিক ঘটনাই অনেক সময় অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এ দেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তা দ্রুত কার্যকর হয়। কিন্তু কমলে সেই সুফল ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে নানা অজুহাত, অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে আটকে যায়। সে কারণেই এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই কম দামে সাধারণ মানুষ গ্যাস কিনতে পারবেন তো?
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় করেছে। এটি নীতিগতভাবে প্রশংসার দাবিদার। এতে বোঝা যায়, বৈশ্বিক বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। কয়েক মাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বাজারে এলপিজির দাম একাধিক দফায় বেড়েছিল। এখন দাম কমার পর একই গতিতে তা কমানো হয়েছে। এটিও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। বিইআরসি যে মূল্য ঘোষণা করে, বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পাওয়া যায় যে খুচরা বিক্রেতারা ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেন। অনেক সময় ক্রেতারা জানেনই না সরকারি নির্ধারিত মূল্য কত। ঘোষণা সংবাদ সম্মেলন, টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাজারে গিয়ে ভোক্তা ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় ঘোষণার পরও বেশি দামে বিক্রির হাজার রকমের ছুতো।
এ কারণেই শুধু দাম নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। সেই দাম ক্রেতা পর্যায়ে কার্যকর করাও সরকারের বড় দায়িত্ব। বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। প্রতিটি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার দোকানে নির্ধারিত মূল্য তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে টানাতে হবে। অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তারা কোথায় অভিযোগ করবেন, তার সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও শাস্তির নজির তৈরি হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে।
আরও একটি বিষয় গুরুত্বের দাবি রাখে। এলপিজির বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। তাই প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা ও কমিশন কাঠামো কতটা স্বচ্ছ, সেটিও নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যদি ঘোষিত মূল্য আর বাস্তব বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বারবার বড় ব্যবধান তৈরি হয়, তবে তা বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা আর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার প্রমাণ হয়ে ওঠে।
এলপিজির দাম কমার এই সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক সূচনা। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণাটি কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছায় তার ওপর। মানুষ সংবাদে নয়, বাজারে স্বস্তি দেখতে চায়। সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগের পূর্ণ সফলতা তখনই পাওয়া যাবে, যখন ঘোষিত দামই হবে বাস্তবের দাম। ভোক্তার সেই অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কার্যকরভাবে যেন নাগরিকের পাশে দাঁড়ায়।
.png)
সরকারের ছয় মাস তার কাজ মূল্যায়নের যথেষ্ট সময় নয়। তবে নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত হয়ে আসা একটি সরকারের এক-দশমাংশ সময় সামান্যও নয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের মতো সময় দেশ পরিচালনা করেছে। সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী অপশাসনের পর তাদের কাজের ভালো-মন্দেও পরিস্থিতি বিশেষ রূপ নেয়।
১৮ ঘণ্টা আগেচলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান ছয় মাস বা এক বছরেও সম্ভব নয় বলে অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে সত্যতা রয়েছে। এজন্য সর্বনিম্ন দুই বছর লাগবে বলে তাঁর বক্তব্যও বাস্তবতার একটা প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের অনেকেও তাঁর মতো করে বলছেন।
১৬ আগস্ট ২০২৬সীতাকুণ্ডের একটি জাহাজভাঙা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় যেসব শ্রমিক মারা গেছেন, তাদের জন্য গভীর শোক জানানোর পাশাপাশি আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যদিও এভাবে মারা যাওয়ার ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। জাহাজ কাটার সময় বিপজ্জনক গ্যাস নিঃসরণের শিকা
১৫ আগস্ট ২০২৬বিবিএস বলছে, বিগত জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে, যা গত আট মাসে সর্বনিম্ন। জুনে এটা ছিল ৯ দশমিক ১৬; মে’তে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় মূল্যস্ফীতিই নিম্নমুখী বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি।
১৪ আগস্ট ২০২৬