সম্পাদকীয়

ঈদ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আর ব্যর্থতাও বিবেচ্য

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১৪: ১৫
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

ঈদ ব্যবস্থাপনায় সরকার বিশেষ তৎপর ছিল বলেই মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০টি বিশেষ নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ফলে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছিল। তবে সামগ্রিক চিত্র বলছে, কিছু মৌলিক সংকটের জায়গা এখনো বিদ্যমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ঈদ ব্যবস্থাপনায় ‘দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন’ আসার যে দাবি করেছেন, তা আংশিক সত্য বলেই প্রতীয়মান হবে। এবারের ঈদে ‘নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা’র দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, ঈদের ছুটির সাত দিনে (২৫ মে–৩১ মে) সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৯ জন, আহত হয়েছেন ১৩৫ জন। এদের একাংশ নিশ্চয়ই গুরুতর আঘাত পেয়েছে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করলে সেটা হবে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর যে নির্দেশনা ছিল, তা সড়কে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এটি বহুল আলোচিত যে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অদক্ষ ও দায়িত্বহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ আর সড়ক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন ছাড়া দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। স্বস্তির বিষয়, নৌ ও রেলপথে এবার বড় দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে।

কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ঘিরে এবারও কিন্তু দলীয় আধিপত্য দেখা গেছে। মানুষ এতে আশাহত হয়েছে। নতুন সরকারের জন্যও এটি স্বস্তিকর হওয়ার কথা নয়। দলীয় লোকদেরকে কিংবা ‘সমঝোতা’য় হাটের ইজারা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরুতে না পারলে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষিত হচ্ছে, তার প্রতিফলন পশুর হাট ব্যবস্থাপনায়ও থাকা উচিত। এগুলো সরকারের স্বচ্ছতা প্রদর্শনের সুযোগও বটে।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তদারকি এবং গাফিলতির দায়ে একাধিক কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা তাঁর আন্তরিকতার প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি তদারকি করছেন, এটি সাধারণভাবে প্রশংসা পাবে। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে কেন এভাবে তদারকি করতে হবে, সেই প্রশ্ন থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছর এভাবে তদারকি করবেন, এটি তো প্রত্যাশিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরং এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে, যেন এসব দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই সম্পাদিত হতে পারে। ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাটাও জরুরি।

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে অরাজকতা এবারের ঈদে অন্যতম প্রধান অব্যবস্থাপনা বলে অনেকের কাছে মনে হবে। মানুষ আশা করেছিল, এ ক্ষেত্রে এবার কিছুটা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হবে। কিন্তু ন্যূনতম দামও না পাওয়ায় চামড়া ফেলে দিয়েছেন অনেক ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী। মূল্যবান সম্পদের এমন অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাজে সমন্বয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সরকারের।

পরবর্তী ঈদ আসতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাত, পশুর বাজার ও চামড়া ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো গেলে তা হবে বিএনপি সরকারের জন্য এক মাইলফলক অর্জন। যথাযথ সংস্কার ও নজরদারির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে পারলে এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় উন্নতি আনা অসম্ভব নয়।

সম্পর্কিত