leadT1ad

দ্য ডিপ্লোম্যাটে দেওয়া সাক্ষাৎকার

আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’: তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর পক্ষে সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যখন তিনি যমুনা নদীর তীরে একটি রাজনৈতিক সভায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। তারেক রহমান তাঁর জনসভাগুলোতে যাওয়ার জন্য একটি বাস ব্যবহার করেছেন। সেখানে একটি ছোট টিম থাকে। এই সাক্ষাৎকারটি ওই বাসেই নেওয়া হয়।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, ফলে এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টানা ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানুষকে একত্র করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিল। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে এবং একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের নতুন আশা তৈরি হয়।

এই নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ জেন-জি। অর্থাৎ বাংলাদেশের তরুণরাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবে। অনেক জেন-জি ভোটার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলোতে।

ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ। ইনোভিশন কনসালটিং নামের একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন তারেক রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন জামায়াতের আমির প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

১৭ বছর লন্ডনে স্বেচ্চায় নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, যেসব মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেগুলো ছিল রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর পক্ষে সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যখন তিনি যমুনা নদীর তীরে একটি রাজনৈতিক সভায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।

তারেক রহমান তাঁর জনসভাগুলোতে যাওয়ার জন্য একটি বাস ব্যবহার করেছেন। সেখানে একটি ছোট টিম থাকে। এই সাক্ষাৎকারটি ওই বাসেই নেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকার শুরু হওয়ার সময় বাসটি খুব ধীরে চলছিল, কারণ রাস্তার দুই পাশে মানুষ তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল।

দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রচ্ছদ। স্ক্রিনশট: ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া
দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রচ্ছদ। স্ক্রিনশট: ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া

ডিপ্লোম্যাট: আপনাকে সাক্ষাৎকারে স্বাগতম। সর্বশেষ আপনি ২০০৬ সালে নির্বাচনের সময় জেলা পর্যায়ে সফর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ভার্চুয়াল যোগাযোগের পর এবার সরাসরি জেলা পর্যায়ে সফর করছেন। প্রায় ২০ বছর পর পার্থক্য কী দেখছেন?

তারেক রহমান: তখন আমার কর্মসূচিগুলো মূলত দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে হতো। সে সময় আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতাম। এখন সব বয়স ও সব শ্রেণির মানুষ অংশ নিচ্ছে। আমি দেখছি, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এটি আমার জন্য আনন্দের সময়। আমি উৎসাহী তরুণদের সঙ্গে দেখা করছি, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, সেলফি তুলছি। এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আমি সত্যিই এটি উপভোগ করছি।

ডিপ্লোম্যাট: দেশে জেন জি-নেতৃত্বাধীন দল রয়েছে। কিন্তু আপনি দেশে ফেরার পর জেন-জিদের আগ্রহ আপনার দিকেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এর কারণ কী?

তারেক রহমান: আমরা জেন জিদের চিন্তাভাবনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছি। আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং চাকরির বাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি, এসব জেন-জিদের সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। আমি ‘দ্য প্ল্যান’ নামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কথা শুনি, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তা, উদ্বেগ ও ধারণা তুলে ধরে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে আমি সত্যিই উপভোগ করি।

ডিপ্লোম্যাট: এই জনপ্রিয়তা কি আপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে?

তারেক রহমান: আমি জনপ্রিয়তাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি। আমি মনে করি, এটি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডিপ্লোম্যাট: কিন্তু জেন-জিদের একটি অংশ-জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আপনার বিরোধিতা করছে। তারা সংসদে ও রাজপথে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করবে। আপনি কতটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন?

তারেক রহমান: আমি কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, অন্যরাও তাই করছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব। এটুকুই জনগণের প্রতি আমার অঙ্গীকার। তারাই আমার শক্তি।

তারেক রহমান তাঁর জনসভাগুলোতে যাওয়ার জন্য একটি বাস ব্যবহার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমান তাঁর জনসভাগুলোতে যাওয়ার জন্য একটি বাস ব্যবহার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ডিপ্লোম্যাট: আপনি বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কথা বলছেন। এটি কি কল্পনাপ্রসূত নয়? বাংলাদেশ কি সস্তা শ্রম ও গার্মেন্টসের ওপর ভর করে বাস্তবসম্মতভাবে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি হতে পারবে?

তারেক রহমান: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্স, যা বিএনপি সরকারের সময় চালু হয়েছিল।

আমরা আইটি খাতের ওপর জোর দেব। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার এবং এসএমই খাতেও নজর দেওয়া হবে। খাদ্য খাতেও, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও আমরা বিবেচনা করছি।

ডিপ্লোম্যাট: কিন্তু বর্তমানে ৩৬ শতাংশ ব্যাংক ঋণ খেলাপি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এমন একটি দেশে ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন কীভাবে দেখেন?

তারেক রহমান: আপনি যে ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারের কথা বলছেন, সেগুলো হয়েছে আগের স্বৈরাচার শাসনামলে। সরকার নিজেই এসব অনিয়মকে উৎসাহিত করেছিল। এগুলো ছিল জনগণের অর্থ। কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি ছিল না। জনগণের প্রতি কোনো অঙ্গীকার না থাকায় তারা এসব করেছে।

ডিপ্লোম্যাট: কিন্তু আপনার সরকারও যে একই কাজ করবে না, তার নিশ্চয়তা কী?

তারেক রহমান: আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চাই। আমরা জনগণের সরকার হতে চাই। যদি আমরা জনগণের সরকার হই, তাহলে কীভাবে জনগণের অর্থ লুট হতে দিতে পারি? জনগণই আমাদের জবাবদিহির আওতায় রাখবে।

যদি শক্তিশালী আর্থিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। সবকিছুই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের বিষয়।

ডিপ্লোম্যাট: ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে যাবে। এতে বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাও ব্যর্থ হবে।

তারেক রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় তার নামেই রয়েছে—এটি একটি স্বল্পমেয়াদি সরকার। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকার ভিন্ন। এমন সরকারের হাতে জনগণের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকে। আমরা আইন-শৃঙ্খলাকে এমন অবস্থায় নিতে চাই, যাতে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। মানুষ যেন রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে। অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে আমরা সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও রাজনৈতিক পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করব। আমরা আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করব।

ডিপ্লোম্যাট: সিভিল সোসাইটির দু’জন সদস্যের প্রশ্ন ছিল—আপনি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাহলে কে আপনার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করবে? বাংলাদেশে ‘উইনার টেকস অল’ সংস্কৃতি রয়েছে। ক্ষমতায় এলে আপনি কি সব প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন?

তারেক রহমান: প্রথম প্রশ্নটির উত্তর দিই। বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। ২০০১ সালে আমাদের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল কিন্তু আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করিনি। গণতন্ত্র আমাদের দলীয় সংস্কৃতি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই আমাদের জবাবদিহির ভিত্তি।

দ্বিতীয় প্রশ্নে আমি পুরোপুরি একমত নই যে দেশে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, না হলে অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব হতো? তবে গত ১৭ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনে অনেক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্তিশালী হবে।

সিরাজগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ট্রিম ছবি
সিরাজগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ট্রিম ছবি

আমরা নিজেরাই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছি। সে কারণেই আমরা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিক পূর্ণ অধিকার নিয়ে সম্মান পাবে।

ডিপ্লোম্যাট: সমালোচনা রয়েছে যে শেখ হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ছিল ভারতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত—সবাই বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে। আপনার পররাষ্ট্রনীতি কী হবে?

তারেক রহমান: আমার দেশে ২০ কোটি মানুষ আছে। অন্তত ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান দরকার। আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে। আমরা যেসব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখি না কেন, জাতীয় স্বার্থই সবার আগে থাকবে।

আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। অর্থনীতিনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করব। পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও লাভের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলব।

ডিপ্লোম্যাট: আপনার জলবায়ু নীতিগুলো উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ঢাকায় বিপুল সংখ্যক জলবায়ু উদ্বাস্তু রয়েছে। এত বড় পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব?

তারেক রহমান: আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেব। বাস্তবতা হলো, আগে ২০ ফুট খনন করলেই পানি পাওয়া যেত, এখন ৩০০ ফুট খনন করেও পানি পাওয়া যায় না। তাহলে এটি কি খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী, নাকি অনিবার্য?

আগের সরকার সুন্দরবনে গোলপাতা লাগানোর প্রকল্প নিয়েছিল। সেখানে একটি চারা কিনতে খরচ দেখানো হয়েছিল ৮ টাকা, কিন্তু পরিবহন খরচ দেখানো হয় ১০ টাকা। এখানেই বোঝা যায় কীভাবে জনসাধারণের অর্থ অপব্যবহার হয়েছে। জলবায়ু খাতসহ সব খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। আমাদের শুরু করতেই হবে। আমরা দায়িত্বশীলভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা করব এবং গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড থেকেও অর্থ সংগ্রহ করব।

ডিপ্লোম্যাট: একটি প্রধান অঙ্গীকার বলুন, যা আপনি ক্ষমতায় এলে বাস্তবায়ন করবেন। পাঁচ বছর পর ব্যর্থ হলে আমরা আপনাকে জবাবদিহির আওতায় আনব।

তারেক রহমান: আমরা আমাদের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করব। এর মধ্যে সাতটি মূল অগ্রাধিকার রয়েছে—ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ইত্যাদি।

আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব—এটাই দেশের মানুষের প্রতি আমার অঙ্গীকার।

দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে অনুবাদ করেছেন আব্দুর রহমান খান সার্জিল

সর্বাধিক পঠিত
এই মুহূর্তে
Ad 300x250

সম্পর্কিত