বন্যায় কৃষির ক্ষতি সামাল দিতে হবে

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০: ৫৭
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

অতিবৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আরও কিছু অঞ্চলে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের পর জানা যাবে সেখানে কৃষির ক্ষতি কতটা। আক্রান্ত সব জায়গা থেকে পানি সরার আগ পর্যন্ত সঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ সম্ভব না হলেও সেটা অনুমান করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনও এসেছে সংবাদমাধ্যমে। ফসলি জমির পাশাপাশি মৎস্য, পশুসম্পদ খাতেও কম ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এসব ক্ষেত্রে জরুরি পুনর্বাসনের আবশ্যকতা রয়েছে। সেটা কেবল সংশ্লিষ্টদের কল্যাণের বিবেচনায় নয়, কৃষি অর্থনীতি ও কৃষিপণ্যের বাজারকে স্বাভাবিক ধারায় রাখার জন্যও এটা জরুরি।

দেশের আরও কিছু জেলা থেকেও অতিবৃষ্টির চাপে ফসলের মাঠে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর চিত্রও দ্রুত স্পষ্ট হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা, ক্ষতির পরিমাণ ও ধরণ সুস্পষ্টভাবে জেনে সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা জোগাতে হবে তাদেরকেও। মাঠে এখন আউশ ধান আর চলছে আমনের বীজতলা তৈরির কাজ। চাল উৎপাদনে আউশের অবদান সবচেয়ে কম হলেও এর ফলন মার খেলে খাদ্য নিরাপত্তায় সেটা কম বড় আঘাত হবে না। আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুনরায় তৈরি করে নেওয়া যাবে বলে অবশ্য মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোয় আমনের আবাদ বিলম্বিত হবে। অনেক কৃষক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমনের বীজতলা তৈরি করছেন। তাদের কতজন বিনিয়োগ করে অতিবৃষ্টিতে আয় হারালেন, সেটাও জানা প্রয়োজন। এ অবস্থায় প্লাবনসহিষ্ণু উপায়ে বীজতলা তৈরির কাজ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ে উত্তোলনযোগ্য জাতের আউশের আবাদ বাড়ানোর গুরুত্বও বুঝিয়ে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। হাওরে বোরো আবাদের ক্ষেত্রেও এটা বলা হচ্ছে বিরূপ অভিজ্ঞতার নিরিখে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে চলে গেছে বাংলাদেশের কৃষিকাজ, এটা মানতে হবে। অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মাঠে এ সময়ে ছিল গ্রীষ্মকালীন সবজি। নিচু পাহাড়ি অঞ্চলে কিছু মশলার উৎপাদনও হচ্ছিল। কোথাও কোথাও আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতিতেও আছেন কৃষক। এ সমস্ত কিছু বিবেচনায় নিয়ে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা জোগাতে হবে কৃষি বিভাগকে।

এটা নতুন সরকারের জন্য ‘বাড়তি চাপ’ বলে বিবেচিত হলেও এমন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলে একই ধরনের দুর্যোগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উজানে অতিবৃষ্টিজনিত ঢল তখন বেশি করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। এবার অবশ্য পূর্বাভাস যথেষ্টই দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনসাধারণকে তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুত করাটাও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। কৃষি খাতে নতুন ধারায় প্রস্তুতি গ্রহণও এখন হতে হবে বড় এজেণ্ডা। দেশের একাংশেও আকস্মিকভাবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেলে তা পূরণ করে উৎপাদনে ঘাটতি হতে না দেওয়াটা তো চ্যালেঞ্জের। বেশ কিছু অঞ্চলে অবশ্য পরিমিত বৃষ্টিই হয়েছে আর তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন। বিপর্যয়ের বাইরে থাকা অঞ্চলগুলোয় সব ধরনের ফসলের আবাদ জোরদার করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে এ পরিস্থিতিতে। সেটা করা গেলে কৃষিপণ্যের ‘সাপ্লাই চেইন’ বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হবে না। আমদানি না করেও পণ্যবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে নতুন করে এবং খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির প্রবণতাও শঙ্কা জাগাচ্ছে। তা ছাড়া সামনে দীর্ঘ সময় জুড়ে রয়েছে অতিবৃষ্টি, ঢল ও নদনদী স্ফীত হয়ে ফসলহানির শঙ্কা। সেটা মাথায় রেখে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে খাদ্য মজুদও জোরদার করতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত