leadT1ad

খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট, ভোটের মাঠে প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ি

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ২৫
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনবলের তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের। ৯টি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রায় বঞ্চিত। আসন্ন ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে এই স্বাস্থ্য সংকটই এখন নির্বাচনী আলোচনার প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ৭ লাখ ১৪ হাজার ১১৯ জন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত অপ্রতুল। ১৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রস্তাবিত থাকলেও সচল মাত্র ১১২টি। ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। ৩৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৬টিতেই কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে জনবল সংকটে। ১৬৭টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮২ জন। ৩০৮টি নার্স পদের বিপরীতে আছেন ১৪৩ জন এবং ৩৯টি মিডওয়াইফ পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৫ জন। রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে স্থায়ী চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন।

পার্বত্য এই অঞ্চলে দেশের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর ৯৩ শতাংশ শনাক্ত হয়। প্রতি এক হাজার জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুর হার ১৯ দশমিক ৯৫। এছাড়া অপুষ্টি, সংক্রামক রোগ এবং মাদকজনিত সমস্যা জেলার বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘দুর্গমতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। আমরা শূন্যপদ পূরণ ও টেলিমেডিসিন সেবা চালুর চেষ্টা করছি।’

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা এই স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন। বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘আমার সময়ে অবকাঠামো ও ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ বছরের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য খাত আজ ধ্বংসের মুখে।’

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সমিরণ দেওয়ান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাউসার অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং মাতৃত্বকালীন সেবা সহজলভ্য করার ওপর জোর দেন।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি হেমব্রত চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ভাষা ও দূরত্বের কারণে চিকিৎসা নিতে পারছে না। আমাদের দাবি, পর্যাপ্ত ডাক্তার, ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা বাড়ানো হোক।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত