রাবিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ‘বিচারিক হত্যা’ আখ্যা, বিতর্ক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ২৪
রাবিতে প্রদর্শিত বিতর্কিত পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে প্রদর্শিত একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নভোকালচার নামে সংগঠনের টানানো ওই পোস্টারে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবি দিয়ে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বা বিচারিক হত্যার শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নভোকালচার নামে সংগঠনটির পরিচালক আবার রাবি ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতা এই পোস্টারে রাকসুর অর্থায়নের অভিযোগও তুলেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে গত ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ‘জুলাই চিরন্তন’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। একই সময়ে নভোকালচারের উদ্যোগে প্যারিস রোডে পোস্টার টানানো হয়। সেখানেই আলোচিত পোস্টারটি ছিল।

ওই পোস্টারে থাকা ছবির মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া বাকি সবাই জামায়াতে ইসলামীর নেতা। তারা হলেন– জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাদের মধ্যে গোলাম আযম ছাড়া সবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আর ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযম পরে বন্দী অবস্থায় মারা যান।

বিষয়টি নিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আমার বা আমাদের “রাকসু ফি”র টাকায় শিবিরের ন্যারেটিভ প্রচার হবে কেন? এবার রাকসুর বাজেট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পুরো টাকাটাই এসেছে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া ‘রাকসু ফি’ থেকে। কিন্তু গত সাড়ে ৯ মাসে এই টাকায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়া আর কী হয়েছে? বাংলাদেশের কোথাও একাত্তরের রাজাকারদের নর্মালাইজেশন মানা সম্ভব না।’

ছাত্রদলের সহসভাপতি ও রাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীরের অভিযোগ, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাকসু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা। কিন্তু গত ৯ মাসে তাদের শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে দেখতে পাইনি। বরং তারা নিজেদের (ছাত্রশিবির) প্রতিটি প্রোগ্রাম রাকসুর ব্যানারে ও ফান্ডে আয়োজন করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

তবে ওই পোস্টারে রাকসুর ফান্ড ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখান করে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, এটি রাকসুর নয়, নভোকালচারের টাকায় করা হয়েছে।

তবে তার দৃষ্টিতে পোস্টারে ভুল কিছু দেখানো হয়নি জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগে সময়ে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে একের পর এক নেতাদের ‘রাজাকার বানিয়ে’ ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি ৫ আগস্টের পর ওইসব মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রমাণিত হয়েছে।

নভোকালচারের ডিরেক্টর ও রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ওই নেতাদের মধ্যে কাউকে নিয়ে বিতর্ক বা প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই একসঙ্গে দেখানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে মূল বিষয় ব্যক্তি নয়, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের ধারণা। যদি অন্য কোনো সময়ের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিচার নিয়ে কাজ করা হতো, তাহলে সেই সময়ের ঘটনাও একইভাবে তুলে ধরা হতো। শুধু ছবি দেখে পুরো বিষয়টি বিচার করলে উদ্দেশ্য বোঝা যাবে না।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত