দুই নেতার চোখে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল, ব্যর্থ সংস্কার

বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন ও এনসিপি নেতা আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার–দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। জুলাই ব্যর্থ হয়নি, বরং এটি সফল একটি গণঅভ্যুত্থান। কিন্তু জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে মোটামুটি ব্যর্থই বলতে হবে।

রাশেদ খাঁন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তিনি নুরুল হক নূরের গণ অধিকার ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থীর ভাষ্যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইকে ধারণ করতে পারেনি। যে কারণে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো সংস্কার হয়নি। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেছেন, ২০১৮ সালে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের আন্দোলন একটি ধারাবাহিক আন্দোলন ছিল। ২০১৫ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট আরোপের পর আন্দোলন হয়েছে। ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন– এগুলো বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হলেও, তা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনাস্থার প্রতীক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় নিজেদের অংশীদ্বার মনে করতে পারেনি তারা।

এসব আন্দোলনে নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছিল তৎকালীন সরকার জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো মূলত নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াই ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন হয়েছে।

আলাউদ্দীন মোহাম্মদের মতে, এই ব্যবস্থার সব রক্ষক রাষ্ট্রটাকে একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে রেখে পালিয়ে যায়। ২০২৪ সালে সাধারণ মানুষের বিজয় হলেও, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সেই জায়গায় যারা দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের জন্য এটা ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ– সেই সিস্টেমটাকে পুনরুদ্ধার করা। সিস্টেমটা পুরোনো ছিল। কিন্তু মানুষের প্রত্যাশা ছিল নতুন। প্রত্যাশা ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নতুনভাবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রত্যাশার আলোকে কাজ করবে, তাহলে এগুলোকে ঢেলে সাজানোর কাজটা ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর। কারণ, রাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের নিজস্ব বোঝাপড়ার জায়গা থেকে একেকটি রাজনৈতিক দল একেকটি অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের জোট অংশীদ্বাররা ঐকমত্য কমিশনে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার বিষয়টি উপেক্ষা করে পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যেই সমাধান খুঁজেছে।

আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের সরকারের শত সমালোচনা ও দুর্বলতা সত্ত্বেও তারা ভঙ্গুর সিস্টেমকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ঢেলে সাজানোর জন্য যে সংস্কার এজেন্ডা, সেটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছিল কোটা সংস্কারের জন্য। পরে সেটার নাম হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। যখন আন্দোলনটা ধীরে ধীরে বাড়ছিল, তখন তার বিরুদ্ধে সরকার, ক্ষমতাসীন দলের লেজুর সংগঠন, পুলিশ, র‍্যাব, এমনকি মিলিটারির একাংশকেও লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেকে শহীদ হয়েছেন। যত বেশি লাশ পড়েছে, ততই আন্দোলন জোরদার হয়েছে। একপর্যায়ে এসে সেটা এক দফার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতেই আন্দোলনটা হয়েছিল জানিয়ে এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়টি পরে খুব জোরালোভাবে উঠেছে। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতার পরিবর্তন না হলে তো এটা হবে না। নিকট ভবিষ্যতেও এটি আশা করা কঠিন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত