leadT1ad

রাজশাহী-২

ডিগ্রি পাস করেও অটোরিকশা চালান হাবিবুর, চান কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ১৫
রাজশাহী-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু এবং জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। স্ট্রিম কোলাজ

ডিগ্রি পাস করে এখন হাতে অটোরিকশার হ্যান্ডেল। যে বয়সে কোনো অফিসে কাজ করার কথা ছিল, সেই বয়সে হাবিবুর রহমান শহরের রাস্তায় রিকশার চাকা ঘুরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি বলেন, ‘ভোট এলেই সবাই স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু স্বপ্ন আর সত্যি হয় না। কেউ তো এতদিন ধরে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারল না।’ রাজশাহীর এই শিক্ষিত যুবকের দীর্ঘশ্বাসই এখন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ভোটের মাঠের আসল চিত্র।’

রাজশাহী শহরে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। নিরুপায় হয়ে হাবিবুর রহমানের মতো অনেক উচ্চশিক্ষিত যুবক এখন রিকশা বা অটোরিকশাকেই উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা কী, জানতে চাইলে হাবিবুর বললেন, ‘আমার আর কী চাওয়া ভাই? এই যে ডিগ্রি পাস করেও অটোরিকশা চালাচ্ছি। আমার তো কোনো কাজ নাই। কেউ তো এতদিন ধরে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারল না। এবার দেশে পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সেই চাওয়াটাই যেন পূরণ হয়।’

বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোর আগে প্রার্থীরা বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজশাহী জুট মিল ও রাষ্ট্রায়ত্ত রেশম কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হাইটেক পার্কের মাধ্যমে ১৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্নও দেখানো হয়েছিল। কিন্তু হাইটেক পার্ক হলেও সেখানে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান হয়নি, গড়ে ওঠেনি বড় কোনো শিল্প-কারখানাও। এবারের নির্বাচনেও ভোটারদের প্রধান দাবি—‘কর্মসংস্থান’। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন, আর শিল্পায়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন গ্যাস সংযোগ ও নৌপথে সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির সাবেক এমপি ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াতে ইসলামীর নতুন মুখ ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এছাড়াও এবি পার্টির মু. সাঈদ নোমান, নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলম, লেবার পার্টির মেজাবাউল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রচারণায় মিনু ও জাহাঙ্গীরকেই বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বেকারত্ব এ শহরের বড় ক্ষত। নির্বাচিত হলে হাইটেক পার্ককে আরও কর্মমুখর করব এবং একটি নতুন ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করব। শিল্পায়ন না হলে বেকারত্ব কমবে না।’

গ্যাসের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের গাড়িতেই সাতদিন ধরে গ্যাস নেই। বিগত ১৬ বছরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা করা হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে এই সংকট উত্তরণে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখব।’

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সদিচ্ছা থাকলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমি নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজশাহীকে এগিয়ে নেব।’

হাইটেক পার্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান কথা দিয়েছেন অচল প্রায় হাইটেক পার্কটিকে কর্মমুখর করার। আমরা বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণীর জন্য দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু মনে করেন, ইপিজেড করার আগে নৌপথে সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। এতে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে। পাশাপাশি শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ না পেলে ব্যবসা-বাণিজ্য এগোবে না।

রাজশাহীর ৪ লাখের কাছাকাছি ভোটার এখন ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায়। হাবিবুর রহমানের মতো হাজারো শিক্ষিত যুবকের ভাগ্যের চাকা এবার কোনো প্রার্থীর হাতে ঘোরে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত