গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এখন আলোচনার তুঙ্গে। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ‘নীরব’ ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে চমক দেখাতে চায় জাতীয় পার্টি।
এ আসনে ধানের শীষের হাল ধরেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির গ্রামবিষয়ক সম্পাদক আনিছুজ্জামান খান বাবু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম। দীর্ঘদিন আন্দোলনের মিত্র থাকলেও নির্বাচনী ময়দানে তাঁরা এখন প্রতিপক্ষ।
বিএনপির সদর উপজেলা সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাবু বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, এবার ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। আওয়ামী লীগের দোসরদের মানুষ আর গ্রহণ করবে না।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা বলেন, ‘জামায়াত এখন গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের পর মানুষ এবার সৎ ও যোগ্য প্রার্থী চায়। আমরা কেন্দ্রভিত্তিক গণসংযোগ চালাচ্ছি এবং জনগণের অবস্থান আমাদের পক্ষে ইতিবাচক।’
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রশীদ সরকার গত দ্বাদশ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হেরে গিয়েছিলেন। এবার আওয়ামী লীগ সরাসরি মাঠে না থাকায় তাদের ভোটারদের সমর্থন নিজের দিকে টানতে তলে তলে তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির একজন সমর্থক জানান, আওয়ামী লীগের ‘নীরব’ ভোট ব্যাংক কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে জাতীয় পার্টি। গোপনে তারা সেরকমই তৎপরতা চালাচ্ছে।
সাধারণ ভোটারদের দাবি, বিগত তিনটি নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ভোটার আতিকুর রহমান বলেন, ‘আগে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের গণহত্যার বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের পরিবেশ পেলে এবার আমরা দেখেশুনে সৎ প্রার্থীকে ভোট দেব।’
গাইবান্ধা-২ আসনের ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালে লুৎফর রহমান (আওয়ামী লীগ), ১৯৯১ ও ১৯৯৬-এর জুনে আব্দুর রশীদ সরকার (জাপা) এবং ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মাহাবুব আরা বেগম গিনি (আওয়ামী লীগ) এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারির স্বল্পকালীন সংসদে বিএনপির সাইফুল আলম সাজা নির্বাচিত হয়েছিলেন, যিনি পরবর্তীতে বারবার দল বদল করে বর্তমানে জাতীয় পার্টিতে রয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪-এর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ সারোয়ার কবির জয়ী হলেও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দিলে তিনি পদ হারান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবার এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৭২ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৮১ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে, তা নিয়ে এখন পুরো গাইবান্ধায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।