আদালতে ভাগ্য খুলছে নুসরাত তাবাসসুমের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে অন্য কোনো ঝামেলা না থাকলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনিই দলটির সদস্য হচ্ছেন।

এদিকে, দলীয় মনোনয়ন পেলেও আইনি জটিলতায় বাদ পড়েছেন এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার কমিশনারের উপস্থিতিতে এই শুনানি হয়।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেছেন, আমরা সর্বোচ্চ আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তা মেনে নেব। কোনো আপিল করব না।

সোমবার সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দেন। প্রার্থিতা পেতে নুসরাত এই রিট করেছিলেন।

এনসিপির মনোনয়ন পান মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলে শেষ সময়ের ১৯ মিনিট পরে যাওয়ায় নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের আদেশ কমিশন মেনে নিলে নুসরাত তাবাসসুমেরই এনসিপি থেকে সংসদ সদস্য সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনোনয়নপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি ভিন্ন কথা। তারা জানান, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হলে আর কোনো আসনই বাদ থাকবে না। এনসিপি দলীয় কোটায় একটিসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ১৩ আসনের কোটা পূর্ণ হয়ে যাবে। মনিরা শারমিনের পক্ষে আর সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

গত ২২ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার সময় নির্ধারিত থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম ৪টা ১৯ মিনিটে জমা দেন। বিলম্বে জমা দেওয়ার কারণে ইসি তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেন নুসরাত।

অন্যদিকে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় গত ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

মনিরা শারমিনের বিষয়ে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তাঁর মনোনয়ন বাতিল থাকল। অবশ্য ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা বলেছেন মনিরা শারমিন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। সেই হিসাবে পদত্যাগের পর মাত্র সাড়ে চার মাস পার হয়েছে।

সম্পর্কিত