জ্বালানি খাতে অরাজকতা বন্ধে অডিটের দাবি এবি পার্টির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫৫
এবি পার্টির সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি

দেশীয় জ্বালানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত, আমদানিনির্ভরতা কমানো, ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল বন্ধ এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সব বড় চুক্তির জাতীয় অডিটের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির দাবি, বিদ্যুৎ-সংকটের মূল কারণ কয়লা নয় বরং আমদানই-নির্ভর জ্বালানি নীতি ও বেসরকারিকরণ।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি খাতে অরাজকতা ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল বন্ধের দাবিতে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশের’ পরিবর্তে ‘সবার আগে লুটপাটতন্ত্র’ কায়েমের চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণের উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে একটি লুটপাটের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের মূল সমস্যা কয়লা নয়; বরং আমদানিনির্ভরতা ও বেসরকারিকরণের রাজনৈতিক অর্থনীতি। দেশে আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছর ব্যবহারের উপযোগী কয়লা মজুদ থাকা সত্ত্বেও পরিবেশের অজুহাতে তা ব্যবহার না করে এলএনজি, আমদানিকৃত কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে।’

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্বের অনেক শিল্পোন্নত দেশ দীর্ঘদিন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে। পরিবেশ সুরক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়া বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, গ্যাস সরবরাহকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলেই ৬৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিলের সমস্যা সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তা কোথায়? একইভাবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ গেলে ভবিষ্যতে সরকার কতটা কার্যকরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এবি পার্টি মনে করে, বিদ্যুৎ-সংকট এখন শুধু উৎপাদন সক্ষমতার সংকট নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় সংকট।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আবদুল ওয়াহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসিরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত