যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর ৪৭ দিন পর মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৪৯
ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন। আহত হওয়ার ৪৭ দিন পর শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

সালাউদ্দিন উপজেলার বোনারপাড়া শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। গত ২১ জুন বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে ঘটনার দিন উপজেলা চত্বরে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় স্থানীয় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ, কর্মী সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের পক্ষে কথা বলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা শুরু হলে স্থানীয় নেতারা মীমাংসা করে দেন। এরপর সবাই উপজেলা চত্বর ছাড়েন।

তারা আরও জানান, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উপজেলা সংলগ্ন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিন। ওই সময় যুবদল নেতা মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০/১২ জন সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। শিবির নেতা সাইফুল্লাহ এগিয়ে গেলে রাস্তার ওপর ফেলে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আর সালাউদ্দিনকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে বগুড়ায় জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পরদিন নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। আর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে জেলা যুবদল।

সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুল, আশরাফ, রবিউল, শাহ আলমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিহত সালাউদ্দিনের বাবা সামছুল হোদা দুদু বলেন, গণঅভ্যুত্থানে এত রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করার পরও আমার ছেলেকে প্রাণ দিতে হলো। এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না। সরকারের কাছে দাবি, আমার মতো আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত