লুটেরাদের ব্যাংক ফেরতের সিদ্ধান্ত শ্রমিকের পিঠে ছুরিকাঘাত: আখতার হোসেন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ২০: ১৪
জাতীয় শ্রমিকশক্তির সমাবেশে আখতার হোসেন। সংগৃহীত ছবি

যারা ব্যাংক লুট করেছে, সেই লুটেরাদের সরকার আবার ব্যাংক ফিরিয়ে দিচ্ছে। লুটেরাদের ব্যাংক ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিকের পিঠে ছুরিকাঘাত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিকশক্তি আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন আখতার।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়। অথচ সরকার ব্যাংক রেজুলেশন আইনের মাধ্যমে লুটেরাদের হাতে আবারো ব্যাংকের মালিকানা তুলে দিচ্ছে। যে লুটেরারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্তে ব্যাংক ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত। লুটেরাদের কাছে ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।’

এ সময় আখতার হোসেন শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের ব্যাংক খাত লুটপাটকারী এবং সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সমাবেশে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হলেও তাদের অধিকার এখনো অবহেলিত। নিম্নমানের মজুরির কারণে শ্রমিকরা তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং তাদের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ না পেয়ে আবারো শ্রমের ঘানি টানতে বাধ্য হচ্ছে। শ্রমিকের এই বংশানুক্রমিক দারিদ্র্যের বৃত্ত ভাঙতে হবে।’

শ্রমিকদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দাবি করে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের মর্যাদা দিতে ভুলে যাই। অনেক মালিক শ্রমিকদের তুচ্ছার্থে “তুই” সম্বোধন করেন, যা তাদের প্রতি চরম অসম্মান। এছাড়া মুচি ও মেথর সম্প্রদায়কে এখনো দেশের কিছু জায়গায় হোটেলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না কিংবা আলাদা প্লেটে খাবার দেওয়া হয়। মর্যাদাগত এই বিভাজন আমরা আর দেখতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্য দূর করা। সেই চেতনাকে ধারণ করে প্রশাসনিক, আইনগত ও সাংবিধানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদী উপাদান নির্মূল করতে না পারলে সত্যিকারের মুক্তি আসবে না।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাহজারুল ইসলাম ফকির।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত