leadT1ad

গাইবান্ধা-৩

জাতীয় পার্টির একসময়ের দুর্গে এবার বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

ডা. মইনুল ইসলাম সাদিক ও মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। ছবি: সংগৃহীত

একসময়ের জাতীয় পার্টির (জাপা) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির সমীকরণ আমূল পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে নিষ্ক্রিয় থাকায় এখানে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। দুই দলের প্রার্থী এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল ইসলাম সাদিক। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। পলাশবাড়ী পৌরসভার পাশাপাশি ১৯টি ইউনিয়ন (পলাশবাড়ী ৮টি ও সাদুল্লাপুর ১১টি) নিয়ে গঠিত এই জনপদে দুই প্রার্থীই এখন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. ছালাম মিয়া বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার পর মানুষ এখন ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি এবং ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এই আসনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।’

এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণ ভোটার ও সাধারণ মানুষের ‘প্রতিরোধের’ আকাঙ্ক্ষা। ভোটাররা বলছেন, যারা সুশাসন দেবে এবং যাদের দ্বারা সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তাদেরই তারা বেছে নেবেন। তরুণ ভোটার কায়সার আহমেদ বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে যারা সব সময় পাশে থাকবে, আমরা তাদেরই নির্বাচিত করব।’ আরেক ভোটার নিশাত তাজমিন মনে করেন, এবারের নির্বাচন হবে তারুণ্যের এবং জয় হবে যোগ্য প্রার্থীর।

সাধারণ ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের পর মানুষ এখন সচেতন। কোনো দল যদি আবারও জুলুম করার পরিকল্পনা করে, তবে ব্যালটের মাধ্যমে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।

গাইবান্ধা-৩ আসনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ১৯৮৪ সালে গঠিত এই আসনে ১৯৮৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত ড. টিএম ফজলে রব্বী চৌধুরী। জাতীয় পার্টির আমলে তাঁর ব্যক্তি ইমেজের কারণে আসনটি দলটির দখলে ছিল। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের ডা. ইউনুস সরকার নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষকলীগের উম্মে কুলসুম স্মৃতি নির্বাচিত হলেও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, এই আসনে দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৯৬ জন। এর মধ্যে পলাশবাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ জন এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৩ জন ভোটার রয়েছেন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫ লাখেরও বেশি ভোটারের রায় কার পক্ষে যায়, তা নিয়ে এখন দুই উপজেলাজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত