বিএনপি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে, তবে চাঁদাবাজির: হাসনাত
স্ট্রিম সংবাদদাতাবগুড়া

নির্বাচনের আগে বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশে সেই কর্মসংস্থান হয়নি। বরং বিএনপি সরকার চাঁদাবাজি নিশ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। আপনারা কি কোনো কর্মসংস্থান পেয়েছেন? আমার কোনো ভাই কি চাকরি পেয়েছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি অবশ্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে। সিএনজি স্টেশনে চাঁদাবাজি নিশ্চিত করেছে। বাস স্টেশনে চাঁদাবাজি নিশ্চিত করেছে। হাটে-বাজারে চাঁদাবাজি নিশ্চিত করেছে।’
মেগা প্রকল্প নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, বিএনপি সরকার মেগা প্রকল্পে যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবার মেগা প্রকল্প ও ‘মেগা দুর্নীতির’ দিকে যাচ্ছে।
বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে হাসনাত বলেন, গত ছয় মাসে বগুড়ায় কী পরিবর্তন হয়েছে? কয়েকটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন ছাড়া নতুন কোনো মিল-কারখানা বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে কি না, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন চালু হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সালাউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর টেনশন নেই। বরং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশে গুম-খুন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ সময় কুমিল্লায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তানের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
১১ দল ঘোষিত লংমার্চের দাবির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
এর আগে লংমার্চের বহরটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানান। লংমার্চে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। মাটিডালীর পথসভা শেষে গাড়িবহরটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, কর্নেল অলি আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপিসহ ১১ দলীয় নেতারা।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। রংপুরের কর্মসূচিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে। জাতীয় দাবির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের তিস্তা ইস্যুও এবারের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।







