জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে একাধিক বিষয়ে জামায়াতের আপত্তি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৯: ০৬
সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অধিকাংশ অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গণভোট এবং পুলিশ প্রশাসনের নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীর তীব্র বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এসব তথ্য জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা দুই দিনব্যাপী ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি। তবে ১৮ থেকে ২০টি বিষয়ে একমত হতে পারিনি। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সার্চ কমিটি বাতিল করে সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়োগ দেওয়ার যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, আমরা তার ঘোর বিরোধিতা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা জুলাই চেতনার পরিপন্থী। গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই আন্দোলনের মূল আদর্শই থাকে না। এ ছাড়া আইজিপি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান পদ্ধতি বাদ দিয়ে সরকারের ইচ্ছামতো নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবের আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বিচার ও সংস্কার নিশ্চিত করতে গত সরকারের আমলে গুম কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বেশ কিছু অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল। এখন সরকার যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে এগুলো বাতিল করতে চায়, তবে তা জনগণ মেনে নেবে না। কোনো আইন এখতিয়ার বহির্ভূত কি না, তা কেবল আদালত নির্ধারণ করতে পারেন, সরকার নিজে নয়।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। গণভোটের রায় অবশ্যই মানতে হবে, কারণ এটি জনগণের সরাসরি রায়। আমরা লক্ষ করছি, সরকার এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় অনেক তাড়াহুড়ো করছে। এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ অল্প সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা চাই জনস্বার্থ রক্ষা করে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালা হোক।”

নেতারা জানান, যেসব বিষয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আরও আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী কোনো আপস করবে না বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, সংসদীয় বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের লক্ষ্যে এই দুই দিনের বৈঠক করেছে।

সম্পর্কিত