স্ট্রিম সংবাদদাতা

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের শুরুতে সনাতনীদের ধর্মগ্রন্থ গীতা থেকে পাঠ না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিন দিন আগে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান দিবসটি উদযাপনের ব্যাপারে মোবাইল ফোনে পরামর্শ চাইলে তিনি এমন নির্দেশনা দেন।
ইউএনও নাঈমা খান বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে জেলার অন্যসব উপজেলার অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনের পাশাপাশি গীতা থেকে পাঠ হচ্ছে, জানার পর তিনি তানোরের অনুষ্ঠানেও শেষ পর্যন্ত তা রেখেছেন। যদিও তখন এলাকার সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন কিছুটা পরে। অনুষ্ঠান শেষে তাঁর এমন নির্দেশনার বিষয়টি জানাজানি হলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
তানোরের ডাকবাংলো মাঠে এবারের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কুচকাওয়াজ শেষে গীতা পাঠ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কয়েকজনের কথা বলার ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্থানীয় একজন ব্যক্তি ইউএনওর কাছে জানতে চাইছেন, গীতা পাঠ করা যাবে না এমন নির্দেশনা এমপি সাহেব দিয়েছিলেন? জবাবে ইউএনও বলছেন, জেলায় এবং অন্যান্য উপজেলাতেও (গীতাপাঠ) হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওই ব্যক্তি তখন বলতে থাকেন, ‘এটা তো রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম। আপনারা (জামায়াতের নেতা) শহীদ মিনারে যাচ্ছেন, ফুল দিচ্ছেন—আর গীতা পাঠ করতে দেবেন না? তাহলে হিন্দুদের মনোনয়ন দিলেন কেন?’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নাঈমা খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত পরশু দিন এমপি স্যারের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছিল ইনভাইট করার জন্য। তখন তিনি আমাকে মৌখিকভাবে বলেছিলেন, গীতা পাঠ তো বিগত সরকারের একটা প্রোগ্রাম, আপনারা এইগুলা প্রোগ্রাম রাখবেন না। আমি আবার খবর নিয়ে দেখলাম যে গীতা পাঠ তো সব জায়গায় হবে। পরে আমি গতকাল এমপি স্যারের প্রতিনিধিকে জানিয়েছি এবং আজ গীতা পাঠ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রোগ্রামের শেষে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে যে, উনি (এমপি) গীতা পাঠের কথা নিষেধ করেছিলেন কিনা। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে সব জায়গায় হয়েছে, আমরাও করিয়েছি। আমাদেরই একজন স্টাফ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, তিনি অনুবাদসহ পাঠ করেছেন।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময় এসেছে। তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চিন্তা করে কী তেলাওয়াত করবে তা ঠিকঠাক করেছে। যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এল, তখন থেকেই শুধু কোরআন তেলাওয়াত হতো, বাকিগুলো তেলাওয়াত হতো না। ফ্যাসিস্ট সরকার মাঝে কী করেছিল আমার জানা নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে শপথ নিলাম সেদিন জাতীয় সংসদে, সেখানে শুধু কোরআন তেলাওয়াত হয়েছে। আর কিছু তেলাওয়াত হয়নি। আমি জাতীয় সংসদ অনুসরণ করব, সংবিধান অনুসরণ করব। জাতীয় সংসদ অনুসরণ করে দেশ চলবে, এটাই তো ভালো। এটার অর্থ কে কী বুঝল সেটা তো আমি বলতে পারব না। তানোরে গীতা পাঠ হয়েছে কি না তা-ও জানি না। আমি ঢাকা থেকে এসে গিয়েছি দেরি করে। আমার সামনে তেলাওয়াত হয়নি।’
অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের এমন দৃষ্টিভঙ্গির নিন্দা জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। তিনি বলেন, ‘এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অবদান আছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তাই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের শুরুতে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ হবে, এটাই আমরা আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে সবার অবদান আছে বলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদেও কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্বপর্যন্ত চার ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে জাতীয় সংসদ শুরু হয়েছে। পঁচাত্তরের পরে এটা পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি যে প্রত্যেকটা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আগে চার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে। সংসদ ছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানে কিন্তু এটা হয়, এটা প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা থেকে পাঠ বন্ধ রাখার নির্দেশনা অযৌক্তিক। আমরা এমন বিষয়ের নিন্দা জানাই।’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের শুরুতে সনাতনীদের ধর্মগ্রন্থ গীতা থেকে পাঠ না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিন দিন আগে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান দিবসটি উদযাপনের ব্যাপারে মোবাইল ফোনে পরামর্শ চাইলে তিনি এমন নির্দেশনা দেন।
ইউএনও নাঈমা খান বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে জেলার অন্যসব উপজেলার অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনের পাশাপাশি গীতা থেকে পাঠ হচ্ছে, জানার পর তিনি তানোরের অনুষ্ঠানেও শেষ পর্যন্ত তা রেখেছেন। যদিও তখন এলাকার সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন কিছুটা পরে। অনুষ্ঠান শেষে তাঁর এমন নির্দেশনার বিষয়টি জানাজানি হলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
তানোরের ডাকবাংলো মাঠে এবারের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কুচকাওয়াজ শেষে গীতা পাঠ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কয়েকজনের কথা বলার ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্থানীয় একজন ব্যক্তি ইউএনওর কাছে জানতে চাইছেন, গীতা পাঠ করা যাবে না এমন নির্দেশনা এমপি সাহেব দিয়েছিলেন? জবাবে ইউএনও বলছেন, জেলায় এবং অন্যান্য উপজেলাতেও (গীতাপাঠ) হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওই ব্যক্তি তখন বলতে থাকেন, ‘এটা তো রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম। আপনারা (জামায়াতের নেতা) শহীদ মিনারে যাচ্ছেন, ফুল দিচ্ছেন—আর গীতা পাঠ করতে দেবেন না? তাহলে হিন্দুদের মনোনয়ন দিলেন কেন?’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নাঈমা খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত পরশু দিন এমপি স্যারের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছিল ইনভাইট করার জন্য। তখন তিনি আমাকে মৌখিকভাবে বলেছিলেন, গীতা পাঠ তো বিগত সরকারের একটা প্রোগ্রাম, আপনারা এইগুলা প্রোগ্রাম রাখবেন না। আমি আবার খবর নিয়ে দেখলাম যে গীতা পাঠ তো সব জায়গায় হবে। পরে আমি গতকাল এমপি স্যারের প্রতিনিধিকে জানিয়েছি এবং আজ গীতা পাঠ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রোগ্রামের শেষে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে যে, উনি (এমপি) গীতা পাঠের কথা নিষেধ করেছিলেন কিনা। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে সব জায়গায় হয়েছে, আমরাও করিয়েছি। আমাদেরই একজন স্টাফ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, তিনি অনুবাদসহ পাঠ করেছেন।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময় এসেছে। তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চিন্তা করে কী তেলাওয়াত করবে তা ঠিকঠাক করেছে। যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এল, তখন থেকেই শুধু কোরআন তেলাওয়াত হতো, বাকিগুলো তেলাওয়াত হতো না। ফ্যাসিস্ট সরকার মাঝে কী করেছিল আমার জানা নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে শপথ নিলাম সেদিন জাতীয় সংসদে, সেখানে শুধু কোরআন তেলাওয়াত হয়েছে। আর কিছু তেলাওয়াত হয়নি। আমি জাতীয় সংসদ অনুসরণ করব, সংবিধান অনুসরণ করব। জাতীয় সংসদ অনুসরণ করে দেশ চলবে, এটাই তো ভালো। এটার অর্থ কে কী বুঝল সেটা তো আমি বলতে পারব না। তানোরে গীতা পাঠ হয়েছে কি না তা-ও জানি না। আমি ঢাকা থেকে এসে গিয়েছি দেরি করে। আমার সামনে তেলাওয়াত হয়নি।’
অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের এমন দৃষ্টিভঙ্গির নিন্দা জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। তিনি বলেন, ‘এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অবদান আছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তাই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের শুরুতে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ হবে, এটাই আমরা আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে সবার অবদান আছে বলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদেও কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্বপর্যন্ত চার ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে জাতীয় সংসদ শুরু হয়েছে। পঁচাত্তরের পরে এটা পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি যে প্রত্যেকটা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আগে চার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে। সংসদ ছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানে কিন্তু এটা হয়, এটা প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা থেকে পাঠ বন্ধ রাখার নির্দেশনা অযৌক্তিক। আমরা এমন বিষয়ের নিন্দা জানাই।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
২ ঘণ্টা আগে
আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, ‘এবার রাজাকাররা স্মৃতিসৌধে আসছে। এটা মনে হচ্ছে যে আমরা একটা লজ্জাজনক অবস্থায় পড়ে গেছি। একটা বেইজ্জতির মধ্যে পড়ে গেছি।’
২ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্র সংস্কার যদি সংসদ বা পার্লামেন্টে বাস্তবায়ন না হয়, তবে তা রাজপথে বা মাঠে গড়াবে এবং অপরাধীদের বিচার হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
৫ ঘণ্টা আগে
অসাম্প্রদায়িক এবং শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনও পর্যন্ত অধরা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
৫ ঘণ্টা আগে