জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

‘প্রেশার কুকার’ দেখে যে কারণে সরি হইতে হইল

কাউসার হামিদ জাওয়াদ
কাউসার হামিদ জাওয়াদ

স্ট্রিম গ্রাফিক

ঈদের তৃতীয় দিন। এলাকার সিনেমা হলের অ্যাপে টিকেট বুক করতে গিয়া দেখি সব সিনেমার টিকেট সোল্ড আউট। খালি ‘প্রেশার কুকার’-এর সিট কিছু ফাঁকা আছে। সব সিনেমা দেখার নিয়ত থাকলেও টু বি অনেস্ট, ‘প্রেশার কুকার’ ছিল লিস্টে সবার নিচে।

দাঁড়ান… দাঁড়ান! মব ক্রিয়েট করার আগে কারণটা শুইনা নেন।

প্রেশার কুকারে কোনো মেজর স্টারকাস্ট নাই। পোস্টারে খালি চার নায়িকার ছবি। এক্সপেরিমেন্টাল বা আর্ট মুভির একটা ভাইব পাইতেছিলাম। এই টাইপের সিনেমা আমার পছন্দ না। প্রিটেনশাস লাগে! তাই ভাবছিলাম, সবার শেষে দেখব। তো যা-ই হোক, প্রেশার কুকারই দেখতে গেলাম।

কিন্তু মুভি শেষ কইরা যখন হল থেকে বের হইতেছি, মনে মনে সরি বলছি। প্রেশার কুকার দেখার পর কেন মনে মনে সরি বললাম, আজকের লেখার টপিক এটাই।

[সিনেমাবিষয়ক লেখা টাইপ করার আগের শপথ পাঠ: আমি শপথ করিতেছি যে এই লেখাতে আমি কোনো স্পয়লার দিব না। যাহা লিখিব, সাটলি (subtly) লিখিব।]

এইটা কি আর্ট ফিল্ম

নাম আর পোস্টার দেখে অনেকের কাছেই মনে হইতে পারে প্রেশার কুকার মেবি একটা আর্ট ফিল্ম। আর্ট ফিল্ম বলতে বাংলাদেশের মানুষ যা বোঝে, আমি সেটাই মিন করতেছি এইখানে।

আসলে তা না। তাইলে এইটা কেমন টাইপের সিনেমা?

আমার কাছে প্রেশার কুকারের জরাঁ ডিফাইন করা একটু টাফই মনে হইছে।

এইটা কি ক্রাইম থ্রিলার? হ্যাঁ । প্রেশার কুকারে প্রচুর ক্রাইম এবং ক্রাইমের দুনিয়ার মানুষদের সাথে আমাদের দেখা মেলে। এই সিনেমার মেইন পটভূমি ঢাকা শহর এবং এই শহরবাসীর চরিত্রের অন্ধকারাচ্ছন্ন এরিয়া। সিনেমার মেজর ক্যারেক্টাররা সবাই কোনো না কোনোভাবে সেই অন্ধকারের বাসিন্দা।

এই সিনেমাতে ড্রামা আছে? আছে । সোশ্যাল ড্রামা। ঢাকা শহরের বিভিন্ন শ্রেণির ফ্যামিলির টানাপোড়ন আছে এই সিনেমাতে। আছে ফ্যামিলির বাইরের মানুষদের সাথে সম্পর্কের ডায়নামিক্স। নিম্নবিত্ত, আপার-মিডল ক্লাস, উচ্চবিত্ত। সব শ্রেণির মানুষের আলাদা ক্রাইসিসের জায়গা থাকে। প্রেশার কুকারের স্টোরিলাইনে সবাইকে জায়গা দেয়া হইছে।

পোস্টারে খালি ফিমেল ক্যারেক্টারদের দেখা যাইতেছে, এইটা কি তাইলে ফেমিনিস্ট সিনেমা? হ্যাঁ । কারণ, এই সিনেমা পুরাই ফিমেল ক্যারেক্টারদের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে দেখানো হইছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন শ্রেণির নারীদের দৈনন্দিন জীবনে ক্রাইসিস উঠে আসছে সিনেমার গল্পে।

এইবার কাহিনিটা বলি

ছবি: প্রেশার কুকারের পোস্টার
ছবি: প্রেশার কুকারের পোস্টার

প্রেশার কুকার মূলত চার নারীর গল্প। চারজনের লাইফ আলাদা। ঘরে ও ঘরের বাইরের জীবনের স্ট্রাগল, সমাজে নিজের জায়গা খুঁজতে থাকা এই নারীদের সবাই নিজের আলাদা জায়গা বানায় নেওয়ার চেষ্টায় মত্ত। তারা সবাই ঢাকার সমাজে আলাদা শ্রেণিতে বিলং করে। কারোর সাথে কারো ডিরেক্ট কানেকশন নাই। কিন্তু নিজেদের লাইফের জার্নিতে একের পর এক ঘটনা তাদের এক সুতার কানেকশনে নিয়া আসে। নিজের কর্ম এবং কানেকশনের মধ্য দিয়া তাদের প্রত্যেকের এক্সপেরিয়েন্স আরেকজনের জীবনে প্রভাব ফেলে। মাল্টিলেয়ারড একটা স্টোরিলাইনের জন্য এমনটা সম্ভব হইছে।

কাহিনিতে নতুন কী আছে

প্রেশার কুকারের স্টোরিটেলিং খুবই ইউনিক। হাইপারলিংক স্টোরিটেলিংঅলা সিনেমাতে একইসাথে আলাদা আলাদা স্টোরিলাইন চলতে দেখা যায়। কিন্তু প্রতিটা স্টোরিলাইন একে অপরের সাথে কানেক্টেড। এক স্টোরিলাইনের ঘটনা অন্য স্টোরিলাইনে প্রভাব ফেলে। ফলে, প্রেশার কুকার সিনেমা একরৈখিক ভাবে না আগায়া আস্তে আস্তে প্রতিটা লেয়ার খুলছে।

চ্যাপ্টারভিত্তিক স্টোরিটেলিং প্রেশার কুকার সিনেমার আরেকটা ইন্টারেস্টিং দিক। বাংলা সিনেমাতে তো এইটা কমন জিনিস হয়ে গেছে মোটামুটি। কিন্তু রায়হান রাফী জিনিসটারে অন্য লেভেলে নিয়া গেছেন এই সিনেমাতে। সিনেমাতে চ্যাপ্টারগুলা ইউজ করা হয় অডিয়েন্সকে কাহিনির সাথে আরও এংগেইজ করার জন্য। অডিয়েন্সকে আগে থিকাই জানায়া দেয়া পরের সেগমেন্টে সে কী দেখতে যাইতেছে এবং ক্যারেক্টারদের ট্রানজিশনটা কই থেকে কই হইতেছে।

ছবি: রায়হান রাফী
ছবি: রায়হান রাফী

প্রেশার কুকারের প্রতিটা চ্যাপ্টার রায়হান রাফীর নিজের সিনেমাগুলার নামে। ‘পরান: দা লাভ স্টোরি’, ‘সুড়ঙ্গ: দা বিট্রেয়াল’, ‘তুফান: রাইস’, ‘তাণ্ডব: ক্যাওস’, ‘প্রেশার কুকার: কার্মা’—সিনেমার পাঁচটা চ্যাপ্টার। সিনেমার প্রতিটা ট্রানজিশনকে নিজের সিনেমাগুলার থিমের সাথে মিলানো হয়ত খুবই অপ্রাসঙ্গিক এবং অগুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। কিন্তু দেখতে চাইলে এটাকেই অনেক ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা হিসাবে রিড করা যায়। অডিয়েন্সকে পুরা নতুন একটা ভিউয়িং এক্সপেরিয়েন্স দেয়ার চেষ্টা।

মডার্ন স্পোর্টসে মানিবল (Moneyball) নামে একটা কনসেপ্ট আছে। এই কনসেপ্টের মেইন আইডিয়া হইতেছে, বড় নামের প্লেয়ারের পেছনে না ছুইটা দলে ভ্যালু প্রভাইড করতে পারে এরকম প্লেয়ারদের দলে সাইন করা, যারা প্রচলিত অর্থে স্টার প্লেয়ার না। প্রেশার কুকারে আর্টিস্ট সিলেকশনের ক্ষেত্রে এই কনসেপ্টের সফল ব্যবহার দেখা যায়। বড় সুপারস্টারের পেছনে ইনভেস্ট না করে পারফর্ম্যান্সে ভ্যালু অ্যাড করতে পারে এরকম স্ট্রং ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের সিনেমাতে সাইন করাইছেন রাফী।

সুপারস্টার হিরো ছাড়া ক্যাম্নে কী করছে?

বাংলাদেশে রিসেন্ট টাইমে কমার্শিয়াল ঘরানার সিনেমাতে সুপারস্টার হিরো ছাড়া সিনেমা বানানোর রিস্ক নিতে দেখা গেছে, এরকম নজির অনেক কম। প্রেশার কুকারে রায়হান রাফী এই ডেয়ারটা নিছেন। নামের ওজনের দিক থিকা চিন্তা করলে নাজিফা তুষি, বুবলি এবং মারিয়া শান্ত এই সিনেমাতে বড় নাম, যাদের নায়িকা হিসাবে মানুষ চিনে। কিন্তু সুপারস্টার হিরোর শিওর শট ফর্মুলার অনুপস্থিতির ব্যাপারটা ব্যাকাপ দেয়া হইসে কীভাবে?

মডার্ন স্পোর্টসে মানিবল (Moneyball) নামে একটা কনসেপ্ট আছে। এই কনসেপ্টের মেইন আইডিয়া হইতেছে, বড় নামের প্লেয়ারের পেছনে না ছুইটা দলে ভ্যালু প্রভাইড করতে পারে এরকম প্লেয়ারদের দলে সাইন করা, যারা প্রচলিত অর্থে স্টার প্লেয়ার না। প্রেশার কুকারে আর্টিস্ট সিলেকশনের ক্ষেত্রে এই কনসেপ্টের সফল ব্যবহার দেখা যায়। বড় সুপারস্টারের পেছনে ইনভেস্ট না করে পারফর্ম্যান্সে ভ্যালু অ্যাড করতে পারে এরকম স্ট্রং ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের সিনেমাতে সাইন করাইছেন রাফী।

স্নিগ্ধা চৌধুরী বড় স্ক্রিনে একজন ডেব্যুট্যান্ট, এটা বুঝাই যায় নাই। সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে সিনিয়র আর্টিস্টদের সিলেকশন ছিলো ব্রিলিয়ান্ট। চঞ্চল চৌধুরী, ফজলুর রহমান বাবু, গাজী রাকায়েত, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর এবং আজিজুল হাকিম। স্ক্রিনটাইম কম হলেও প্রত্যেকের পারফর্ম্যান্স ছিলো আউটস্ট্যান্ডিং। বিশেষ করে আজিজুল হাকিমরে নেগেটিভ রোলে অভিনয় করতে দেখবো এইটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ফজলুর রহমান বাবু এবং মিশা সওদাগরকে নতুনভাবে দেখা গেছে এই সিনেমাতে। সুপারস্টার হিরোর পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ না করায় প্রোডাকশন টিম প্রতিটা চরিত্রের জন্য পারফেক্ট আর্টিস্ট খুঁইজা নেয়ার ভালো একটা সুযোগ পাইছে।

আর একটা গানের কথা ভুলতেই পারতেছি না। অংকন কুমারের ‘বড়াই করে’। সিনেমাহলে এটা শুনতে শুনতে মনে হইতেছিল এতো কষ্ট কেনো লাগে? অন্ধকারে বসেই দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেলছি চিকেন ফ্রাই আর মাইন্টেন ডিউ খাইতে খাইতে। এই গানটার কথা মনে থাকবে।

সিনেমাটোগ্রাফি আর মিউজিক কেমন

সব জায়গায় জ্ঞানী কথাবার্তা বলাটা কঠিন। তাই আগেই বলে নিতেছি সিনেমাটোগ্রাফি আমি একটু কম বুঝি। তবে যতটুকু বুঝি, তা থেকে বলতে পারি ‘প্রেশার কুকার’-এর সিনেমাটোগ্রাফি বেশ ভালো হইছে। একটু ঘুরায়া-প্যাঁচায়া ব্যাপারটা এক্সপ্লেইন করার চেষ্টা করি।

কালার গ্রেডিং সিনেমার সবচেয়ে ক্রুশাল অ্যাসপেক্টগুলার একটা। ‘প্রেশার কুকার’ নামটাই আলাদা একটা মিনিং ক্যারি করে। ঢাকা শহরকে রায়হান রাফী প্রেশার কুকারের সাথে তুলনা করছেন। চাইলেই কেউ এই শহর ছেড়ে বের হতে পারে না, আবার শহরও কাউকে সহজে ছেড়ে দেয় না। সিনেমার ক্যারেক্টাররা লিড ফেটে বের হওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কুকারের ভেতরে আটকে পড়া সিটির মতো হাঁসফাঁস করতে থাকে।

ছবি: প্রেশার কুকারের সীন
ছবি: প্রেশার কুকারের সীন

সিনেমার কালার গ্রেডিং আর কালার প্যালেট— স্টোরির এই গুমোট, ক্লস্ট্রোফোবিক ফিলটা পারফেক্টলি তুলে ধরছে। আর ঢাকার এই চাপা পরিবেশের বাইরে যেমন গ্রামের মাদ্রাসায় ছেলেকে দেখতে যাওয়ার মতো টেনশন রিলিজের মোমেন্টগুলোও কালার টোনের পরিবর্তনের মাধ্যমে আলাদাভাবে চোখে পড়ে।

সিনেমাটোগ্রাফিতে ক্যামেরা নিয়া এক্সপেরিমেন্ট করার চেষ্টা এবং তার সাকসেসফুল এক্সিকিউশন চোখে পড়ার মতো। সিনেমার শুরুই হয় একটা লং টেকে। পেছনের গ্লাস থেকে গাড়ির ভেতরের সিন শ্যুট করাটা ইউনিক লাগছে।

ন্যারেশন টেকনিকের আরেকটা জায়গাও আলাদাভাবে চোখে পড়ে। ফজলুর রহমান বাবু, ওরফে পুলিশ অফিসার, টেবিলে বসে ব্রেকফাস্ট করতে করতে একটা ফোনকলের অডিও শুনতে থাকে। একই সময়ে, তার সামনে সেই ফোনকলের কনভার্সেশনটাও ভিজ্যুয়ালি দেখানো হয়। জিনিসটাকে শুধু অডিও ডায়লগে সীমাবদ্ধ না রেখে, একটা অডিও-ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্সে পরিণত করা—এই জায়গাটা বেশ মজা হইছে।

এবার আসি মিউজিকের কাছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অনেক সুন্দরভাবে ইউজ হইছে সিনেমাতে। সিনেমার বিল্ডআপ ফেজে ক্যারেক্টারদের ভেতর প্রচুর ডায়লগের বিনিময় অনেক সময় ফিল্মকে ঝুলায়া দেয়। প্রেশার কুকারে লম্বা ডায়লগগুলার মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ট্রানজিশনগুলা অনেক স্মুদ করছে। আর একটা গানের কথা ভুলতেই পারতেছি না। অংকন কুমারের ‘বড়াই করে’। সিনেমাহলে এটা শুনতে শুনতে মনে হইতেছিল এতো কষ্ট কেনো লাগে? অন্ধকারে বসেই দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেলছি চিকেন ফ্রাই আর মাইন্টেন ডিউ খাইতে খাইতে। এই গানটার কথা মনে থাকবে।

সারা দেশ থিকা ঢাকায় পাড়ি জমানো মানুষরা রাজধানীর একটা আলাদা পরিবেশ এবং রিয়ালিটি দাঁড় করাইছে। এই রিয়ালিটির গুমোট ভাব, প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম, মানুষের সম্পর্কগুলার বিবিধ ডাইমেনশন সিনেমাতে উইঠা আসছে। বাংলাদেশের পপুলেশনের অর্ধেক হওয়ার পরেও বাংলাদেশি মেয়েদের প্রতিদিনের লাইফ এক্সপেরিয়েন্স এবং সামাজিক যে ক্রাইসিসগুলা ফর্মুলা কমার্শিয়াল সিনেমাগুলাতে আসে না। প্রেশার কুকার এই জায়গাটা ফিলআপ করছে এইবারের ঈদে। অ্যাকচুয়াল ঢাকা এই সিনেমাতে উইঠা আসছে।

এইটা কি বাংলাদেশি সিনেমা হইতে পারছে

বাংলা সিনেমা তো অনেক আছে, কিন্তু সেইগুলা বাংলাদেশি সিনেমা হইয়া উঠতে পারে না সব সময়। প্রেশার কুকার বাংলাদেশি সিনেমা হইয়া উঠতে পারছে। কারণ, গল্পটা আসলেই রাজধানীর। সারা দেশ থিকা ঢাকায় পাড়ি জমানো মানুষরা রাজধানীর একটা আলাদা পরিবেশ এবং রিয়ালিটি দাঁড় করাইছে। এই রিয়ালিটির গুমোট ভাব, প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম, মানুষের সম্পর্কগুলার বিবিধ ডাইমেনশন সিনেমাতে উইঠা আসছে। বাংলাদেশের পপুলেশনের অর্ধেক হওয়ার পরেও বাংলাদেশি মেয়েদের প্রতিদিনের লাইফ এক্সপেরিয়েন্স এবং সামাজিক যে ক্রাইসিসগুলা ফর্মুলা কমার্শিয়াল সিনেমাগুলাতে আসে না। প্রেশার কুকার এই জায়গাটা ফিলআপ করছে এইবারের ঈদে। অ্যাকচুয়াল ঢাকা এই সিনেমাতে উইঠা আসছে।

সিনেমার শুটিংও দেশের ভেতরে হইছে। বেশিরভাগ ঢাকাতেই। সিনেমার প্রোডাকশন এবং আর্টিস্ট সবাই বাংলাদেশি। অযথা বিদেশি আর্টিস্ট এবং টেকনিশিয়ানদের সাইন করা একটা ট্রেন্ডে পরিণত হইছে ঢাকাই সিনেমাতে, যা থিকা প্রেশার কুকার মুক্ত। ফলে, প্রেশার কুকার আরও লোকাল এবং অথেনটিক একটা এক্সপেরিয়েন্স হইতে পারছে।

বেশ টনটনা একটা সিনেমা হইলেও লেংথের দিক থেকা প্রেশার কুকার বেশি লম্বা হয়া গেছে। সিনেমাটা আরও কম সময়ে গুছায়া উঠতে পারলে হয়তো বেটার হইতো। ইন্টারমিশনের পরের থেকে স্টোরিলাইন গুটাইতে গুটাইতে এন্ডিং পর্যন্ত যাওয়ার প্রসেসটা অনেক স্লো মনে হইছে আমার কাছে। পাঁচটা চ্যাপ্টারের তিনটা সেকেন্ড হাফে রাখাই মেবি এই স্লোনেসের মেইন রিজন।

আসলেই স্যাড হইছিলাম

কিছু ব্যাপারে স্যাড হইছি প্রেশার কুকার দেখতে গিয়া। মনের দুঃখ ভেতরে চাইপা রাখতে চাই না, তাই বলতেছি কথাগুলা…

প্রোটাগনিস্টদের চারজন সমান স্ক্রিনটাইম পায় নাই। জানি এইটা এন্থোলোজি ফিল্ম না, বরং স্টোরিটেলিংয়ের আলাদা একটা অ্যাপ্রোচ। কিন্তু বুবলি এবং স্নিগ্ধা চৌধুরীর ক্যারেক্টার আরও বেশি স্ক্রিনটাইম ডিজার্ভ করতো বইলা মনে হইছে আমার কাছে।

বেশ টনটনা একটা সিনেমা হইলেও লেংথের দিক থেকা প্রেশার কুকার বেশি লম্বা হয়া গেছে। সিনেমাটা আরও কম সময়ে গুছায়া উঠতে পারলে হয়তো বেটার হইতো। ইন্টারমিশনের পরের থেকে স্টোরিলাইন গুটাইতে গুটাইতে এন্ডিং পর্যন্ত যাওয়ার প্রসেসটা অনেক স্লো মনে হইছে আমার কাছে। পাঁচটা চ্যাপ্টারের তিনটা সেকেন্ড হাফে রাখাই মেবি এই স্লোনেসের মেইন রিজন।

সবশেষে

প্রেশার কুকার রায়হান রাফীর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সাহসী এক্সপেরিমেন্টগুলোর একটা। হয়তো ১০০% পারফেক্ট না, কিন্তু ফ্রেশ একটা পার্সপেক্টিভ এই সিনেমা দিতে পারছেন রাফী। প্রেশার কুকার প্রমাণ করছে, একাধিক ফিমেল প্রটাগনিস্ট এবং মাল্টি লেয়ার স্টোরিলাইন নিয়াও বাংলাদেশে কমার্শিয়াল সিনেমা বানানো যায়। বাংলাদেশি সিনেমা যদি নতুন ভাষা খুঁজতে চায়, প্রেশার কুকার সেই চেষ্টার উল্লেখযোগ্য একটা স্টেপ। প্রেশার কুকার দেখা শেষ কইরা সিনেমা হল থিকা যখন আমি বের হইছি, পয়সা উসুল ফিল পাইয়া বেশ খুশি মনেই বাসায় গেছি।

সম্পর্কিত