
চার দশকের দীর্ঘ আর বন্দ্যাশ্রয়ী অপেক্ষা। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকের খরা যেন কাটতেই চাইছিল না। অবশেষে ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ হোসেনের ব্রোঞ্জ জয়ের ৪০ বছর পর সেই খরা কাটল। তবে ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা কাবাডির চেনা আঙিনায় নয়—ইতিহাসটা লেখা হলো তুলনামূলক অপ্রচলিত খেলা উশু থেকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জিন্নাত আক্তারের হাত ধরে এশিয়ান গেমসে নতুন এক দিগন্তের সূচনা ঘটল।
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় চলমান এশিয়ান গেমসে ২২ সেপ্টেম্বর নারীদের ৫২ কেজি ইভেন্টের সেমিফাইনালে উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন জিন্নাত। ১৬ জন প্রতিযোগীর এই ইভেন্টে সেমিফাইনালে নাম লেখানোর মাধ্যমেই পদক তালিকায় বাংলাদেশের নাম তোলা নিশ্চিত হয়ে যায়।
বাই পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন জিন্নাত। সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার থারিসা ডি ফ্লোরেন্টিনা নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় ডিসকোয়ালিফাইড হন। ফলে লড়াকু পারফরম্যান্সের আগেই সেমিফাইনালের টিকিট পান বাংলাদেশি এই উশুকা। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ডি উয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন জিন্নাত। এই ম্যাচ জিতলেই রূপা নিশ্চিত করে স্বর্ণের লড়াইয়ে নামবেন তিনি।
উশু আসলে কেমন খেলা?
যে উশু দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই ইতিহাস রচিত হলো, খেলাটি আসলে কেমন?
চীনের ঐতিহ্যবাহী এই মার্শাল আর্ট মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত—তাওলু ও সান্দা। তাওলু অংশে কোনো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না; এটি মূলত শারীরিক কসরত, গতি, ভারসাম্য এবং তলোয়ার বা লাঠির মতো অস্ত্রের শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণের একক প্রদর্শনী।
তবে জিন্নাত আক্তার যে ইভেন্টে ইতিহাস গায়ে জড়িয়েছেন, সেই ‘সান্দা’ মূলত পূর্ণাঙ্গ রিং ফাইটিং। নির্দিষ্ট ওজন শ্রেণিতে ফুল-কন্টাক্ট এই লড়াইয়ে ঘুষি, কিক এবং প্রতিপক্ষকে আছাড় দিয়ে মাটিতে ফেলে পয়েন্ট আদায় করতে হয়। রিংয়ের কয়েক মিনিটের এই রণক্ষেত্রে শুধু গায়ের জোর নয়, চোখের পলকে আক্রমণ এড়িয়ে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষিপ্রতা আর কৌশলেই নির্ধারিত হয় জয়-পরাজয়। আর সেই নিখুঁত কৌশলেই এবার এশিয়ার মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়ালেন জিন্নাত।
.png)






