
টানা পাঁচ সেশনের বেশি সময় ধরে ব্যাট করার পর শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। ম্যাচের ১৮২তম ওভার চলছে, তাওহীদ হৃদয়ের নামের পাশে ২৯৮ রান। ওভারের প্রথম বলটি মিডঅন দিয়ে ঠেলে দুই রান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন তিনি। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ৩০০।
হেলমেট খুলে বাঁধভাঙা উল্লাসের পর সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন হৃদয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই তাঁর প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি।
পচেফস্ট্রুমের এনডব্লিউসি ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের আরও একটি প্রমান রাখলেন হৃদয়। এই মাঠেই ২০২০ সালের যুব বিশ্বকাপ জিতেছিল তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিলেন ২০৪ রানে অপরাজিত থেকে। আগের দিন ছয় উইকেটে ৪৭১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ ‘এ’। দিনের শেষ বলে ৮৭ রানে আউট হয়েছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
চতুর্থ দিন সকালে হৃদয়ের সঙ্গী হন নাঈম হাসান। তবে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এনটুলির বলে ১৬ রান করে বোল্ড হন নাঈম। এরপর নতুন ব্যাটার হাসান মুরাদও ১১ রানে সিমন্ডসের বলে বোল্ড হলে ট্রিপল সেঞ্চুরির পথে হৃদয়ের সামনে তৈরি হয় নতুন শঙ্কা।
তবে নবম উইকেটে হৃদয়ের সঙ্গে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান রেজাউর রহমান রাজা। প্রোটিয়া পেসারদের সামলে এক প্রান্তে ধৈর্য ধরে টিকে থাকেন তিনি। অন্য প্রান্তে হৃদয়কে দেন রান বাড়ানোর স্বাধীনতা।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের বিরুদ্ধে হাত খুলে খেলতে থাকেন হৃদয়। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ছুঁয়ে ফেলেন আড়াই শ রানের মাইলফলক। এরপর রাজাকে সঙ্গী করে বাংলাদেশের সংগ্রহ নিয়ে যান ৬০০ রানের ওপারে।
৩০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে অবশ্য হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে আসে বাড়তি সতর্কতা। প্রোটিয়া বোলারদের সামলে একে একে এগিয়ে যান ইতিহাসের দিকে। শেষ পর্যন্ত ১৮২তম ওভারে দুই রান নিয়ে পূরণ করেন বহু প্রতীক্ষিত ট্রিপল সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল মাত্র দুটি। ২০০৭ সালে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রকিবুল হাসান। এর ১৩ বছর পর ২০২০ সালে তামিম ইকবাল খেলেছিলেন ৩৩৪ রানের ইনিংস।
এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখালেন তাওহীদ হৃদয়। আর যেখান থেকে একসময় যুব বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি নিয়ে ফিরেছিলেন, সেই পচেফস্ট্রুমেই খেললেন নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ইনিংস।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় ৩৩৩ রানে ব্যাট করছিলেন হৃদয়।
.png)






