কাজী মাকতাবার পান্থ

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কমনওয়েলথ গেমসের শুটিংয়ের বাইরে বাংলাদেশের সাফল্য নেই। এই আসরে বাংলাদেশ পদক জিতেছে মোটে আটটি—দুটি সোনা, চারটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ। প্রথম পদকটি এসেছিল নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে, ১৯৯০ সালে। আর সর্বশেষটি ২০১৮ সালে, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথে।
২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথের পর আর কোনো পদকে পায়নি বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। ২০২২ সালের বার্মিংহাম ও ২০২৬ গ্লাসগো—টানা দুই আসরেই তারা দেশে ফিরেছেন ব্যর্থতা নিয়ে। এই দুই আসরেই কমনওয়েলথ গেমসে শুটিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়নি।
শুটিংয়ের অনুপস্থিতি আর বাংলাদেশের পদকশূন্যতার বিষয়টি কি নিছকই কাকতালীয়? না, এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে এমন যোগসূত্র, যেটি না থাকলেই সম্ভবত দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা বেশি খুশি হতেন। কারণ কমনওয়েলথে বাংলাদেশ যে আটটি পদক জিতেছে, তার সবগুলোই শুটিংয়ে। অর্থাৎ শুটিংয়ের বাইরে কমনওয়েলথে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই। অথচ এর ব্যতিক্রমটাই কাম্য ছিল সবার। সব ইভেন্টেই ভালো করবে বাংলাদেশ—এটাই তো সবার চাওয়া।
পদকের সব গল্পই শুটিংয়ে
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় কমনওয়েলথ ছিল সম্ভবত ১৯৯০ সালের অকল্যান্ড কমনওয়েলথ। প্রথমবারের মতো সেই আসর থেকে পদক এসেছিল দেশে। একটি নয়, দুটি। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল প্লেয়ার্সে জুটি বেঁধে সোনা জিতেছিলেন আতীকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার। ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তল প্লেয়ার্সে তাদের হাত ধরেই আসে ব্রোঞ্জ।
এরপর ২০০২ ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা জেতেন আসিফ হোসেন খান। ২০০৬ সালে মেলবোর্নে আসিফ হোসেন খান ও অঞ্জন কুমার সিংহের জুটি জেতে রুপা। ২০১০ সালে দিল্লিতে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল প্লেয়ার্সে আসিফ হোসেন খান ও আবদুল্লাহ হেল বাকী পান ব্রোঞ্জ। ২০১৪ গ্লাসগোতে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপা জেতেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। চার বছর পর গোল্ড কোস্টেও একই ইভেন্টে রুপা জেতেন তিনি। ওই আসরে ৫০ মিটার পিস্তলে আরেকটি রুপা এনে দেন শাকিল আহমেদ।
কমনওয়েলথে ব্যক্তিগত অর্জনে আলোর দিশারী আসিফ হোসেন খান ও আবদুল্লাহ হেল বাকী। দুজনেরই রয়েছে তিনটি করে পদক। কিন্তু তাদের পর আর কোনো বাংলাদেশি কমনওয়েলথে পদক জিততে পারেননি।
অতঃপর কেবলই হতাশা
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত এবারের কমনওয়েলথে ৭৪ দেশের প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন ১৫ জন, যাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, বক্সিং ও জিমন্যাস্টিকসে অংশ নেন তারা। তবে পদক আসেনি কোনোটিতেই।
বাংলাদেশ কি তবে এখন বড় আন্তর্জাতিক আসরে পদকের জন্য যায়, নাকি শুধুই অংশগ্রহণের জন্য? এই প্রশ্নটি রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক ফেডারেশনের সদস্য ও তিনবারের পদকজয়ী শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকীর সামনে। উত্তরে তিনি জানান, আগের আসরগুলোর সঙ্গে এবারের বড় পার্থক্য ছিল প্রস্তুতির সময়ের ব্যবধানে।
বাকী বলেন, ‘প্রত্যেকটি কমনওয়েলথ গেমসের আগে আমাদের প্রায় ছয়-সাত মাসের ক্যাম্প বা ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তবে এবার অ্যাথলেটরা সময় পেয়েছিলেন মাত্র তিন মাসের মতো।’ এই সময় যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের তো নিয়মিত অনুশীলন করতেই হয়। এর পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট গেমস বা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বিশেষ প্রশিক্ষণও দরকার। সেটা পাঁচ-ছয় মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরও হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এবারের প্রস্তুতিটা পর্যাপ্ত ছিল না।’
কুইক ফিক্স থেকে বের হতে হবে
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আফরোজের কাছে প্রস্তুতির সময় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্ট্রিমকে জানান, কমনওয়েলথে অংশ নেওয়া অ্যাথলেটদের প্রস্তুতির সময় একেক ফেডারেশনের জন্য একেক রকম ছিল। বড় আসরে ভালো করতে হলে শুধু ক্যাম্প করলেই হবে না, একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, সঠিক অ্যাথলেট নির্বাচন ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বও রয়েছে।
কম সময়ে কি ভালো ফলাফল করা সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘আমরা খুব কুইক ফিক্স রেজাল্ট চাই। আমাদের যে অবস্থা, তাতে এখন ভাগ্যক্রমে ভালো না হলে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে খেলোয়াড় নেওয়া হলেও তাদের সারা বছর ‘নার্চার’ করার ব্যবস্থা নেই।
ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘আপনাকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে—আপনি কোন অলিম্পিকে কিংবা কোন এশিয়ান গেমসে মেডেল চান। সেই হিসেবে ১০ বছর আগে থেকে আপনাকে একজন অ্যাথলেট তৈরি করতে হবে।’
সব সম্ভাবনা কি শুটিংয়েই
বিওএ সহসভাপতি শুটিংয়ের বাইরে জিমন্যাস্টিকস ও বক্সিংয়েও বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছেন। ইমরোজ আফরোজ বলেন, গ্লাসগো কমনওয়েলথে জিমন্যাস্টিকসে দলীয় ইভেন্টে ২৭ দলের মধ্যে ভারতের ঠিক পিছনে অষ্টম অবস্থানে শেষ করেন শিশির, রাজীব ও রাফিরা। ল্যান্ডিং আরও নিখুঁত হলে আরও ভালো ফল সম্ভব ছিল। বক্সিংয়ে রাকিব কোয়ার্টার ফাইনালে হারলেও সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, গত দুই আসরে শুটিং না থাকার বিষয়টি বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। গত দুই কমনওয়েলথে শুটিং না থাকার কারণ হিসেবে বাকী বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফায়ারআর্মস বহনসহ কিছু সমস্যার কথা বিবেচনা করে শুটিংকে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে ২০৩০ আসরে ইভেন্টটি আবার ফিরবে—এমন আশার কথা শোনালেন তিনি। বাকী বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি, পরের কমনওয়েলথ গেমসে শুটিং অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক বেশি। প্রায় ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বলেই আমার বিশ্বাস।’
বিওএ সহসভাপতি ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘শুটিং ও আর্চারি না থাকায় বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। তবে দায় শুধু এই দুটি খেলার অনুপস্থিতির নয়। অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারকে মাল্টি-স্পোর্টস গেমসের মাদার স্পোর্টস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এই দুটি খেলায় দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।’
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
খেলোয়ার তৈরিতে বিওএর ভূমিকা নিয়ে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘খেলোয়াড় তৈরি ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা মূলত সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের দায়িত্ব। বিওএ মাল্টি-স্পোর্টস গেমসের ক্ষেত্রে সমন্বয় করে এবং সরকার অর্থায়ন করলে প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণের ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখে।’
দীর্ঘমেয়াদি বাজেটের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘সরকার যদি প্রতি বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ করে, তখন স্পোর্টসকে এগিয়ে নিতে পারবেন না। স্পোর্টসের উন্নয়নে অন্তত তিন বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে।’
আবদুল্লাহ হেল বাকীও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রতিভা খুঁজে তাদের তৈরি করতে ন্যূনতম আট থেকে ১০ বছরের পরিকল্পনা দরকার।’
পুষ্টি, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাতেও ঘাটতি
পুষ্টি ও অবকাঠামো নিয়ে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরি করতে পর্যাপ্ত পুষ্টির উৎসও জরুরি। বর্তমান বাজারের হিসাবে ক্যাম্পের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক মানের পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যায়।’ এছাড়া ছোট বয়সেই অ্যাথলেট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমির অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য ফেডারেশন, মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। ২০৩০ বা ২০৩২ সালের বড় আন্তর্জাতিক আসরে পদক আনতে হলে আমাদের এখন থেকেই সঠিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কমনওয়েলথ গেমসের শুটিংয়ের বাইরে বাংলাদেশের সাফল্য নেই। এই আসরে বাংলাদেশ পদক জিতেছে মোটে আটটি—দুটি সোনা, চারটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ। প্রথম পদকটি এসেছিল নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে, ১৯৯০ সালে। আর সর্বশেষটি ২০১৮ সালে, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথে।
২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথের পর আর কোনো পদকে পায়নি বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। ২০২২ সালের বার্মিংহাম ও ২০২৬ গ্লাসগো—টানা দুই আসরেই তারা দেশে ফিরেছেন ব্যর্থতা নিয়ে। এই দুই আসরেই কমনওয়েলথ গেমসে শুটিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়নি।
শুটিংয়ের অনুপস্থিতি আর বাংলাদেশের পদকশূন্যতার বিষয়টি কি নিছকই কাকতালীয়? না, এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে এমন যোগসূত্র, যেটি না থাকলেই সম্ভবত দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা বেশি খুশি হতেন। কারণ কমনওয়েলথে বাংলাদেশ যে আটটি পদক জিতেছে, তার সবগুলোই শুটিংয়ে। অর্থাৎ শুটিংয়ের বাইরে কমনওয়েলথে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই। অথচ এর ব্যতিক্রমটাই কাম্য ছিল সবার। সব ইভেন্টেই ভালো করবে বাংলাদেশ—এটাই তো সবার চাওয়া।
পদকের সব গল্পই শুটিংয়ে
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় কমনওয়েলথ ছিল সম্ভবত ১৯৯০ সালের অকল্যান্ড কমনওয়েলথ। প্রথমবারের মতো সেই আসর থেকে পদক এসেছিল দেশে। একটি নয়, দুটি। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল প্লেয়ার্সে জুটি বেঁধে সোনা জিতেছিলেন আতীকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার। ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তল প্লেয়ার্সে তাদের হাত ধরেই আসে ব্রোঞ্জ।
এরপর ২০০২ ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা জেতেন আসিফ হোসেন খান। ২০০৬ সালে মেলবোর্নে আসিফ হোসেন খান ও অঞ্জন কুমার সিংহের জুটি জেতে রুপা। ২০১০ সালে দিল্লিতে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল প্লেয়ার্সে আসিফ হোসেন খান ও আবদুল্লাহ হেল বাকী পান ব্রোঞ্জ। ২০১৪ গ্লাসগোতে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপা জেতেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। চার বছর পর গোল্ড কোস্টেও একই ইভেন্টে রুপা জেতেন তিনি। ওই আসরে ৫০ মিটার পিস্তলে আরেকটি রুপা এনে দেন শাকিল আহমেদ।
কমনওয়েলথে ব্যক্তিগত অর্জনে আলোর দিশারী আসিফ হোসেন খান ও আবদুল্লাহ হেল বাকী। দুজনেরই রয়েছে তিনটি করে পদক। কিন্তু তাদের পর আর কোনো বাংলাদেশি কমনওয়েলথে পদক জিততে পারেননি।
অতঃপর কেবলই হতাশা
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত এবারের কমনওয়েলথে ৭৪ দেশের প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন ১৫ জন, যাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, বক্সিং ও জিমন্যাস্টিকসে অংশ নেন তারা। তবে পদক আসেনি কোনোটিতেই।
বাংলাদেশ কি তবে এখন বড় আন্তর্জাতিক আসরে পদকের জন্য যায়, নাকি শুধুই অংশগ্রহণের জন্য? এই প্রশ্নটি রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক ফেডারেশনের সদস্য ও তিনবারের পদকজয়ী শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকীর সামনে। উত্তরে তিনি জানান, আগের আসরগুলোর সঙ্গে এবারের বড় পার্থক্য ছিল প্রস্তুতির সময়ের ব্যবধানে।
বাকী বলেন, ‘প্রত্যেকটি কমনওয়েলথ গেমসের আগে আমাদের প্রায় ছয়-সাত মাসের ক্যাম্প বা ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তবে এবার অ্যাথলেটরা সময় পেয়েছিলেন মাত্র তিন মাসের মতো।’ এই সময় যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের তো নিয়মিত অনুশীলন করতেই হয়। এর পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট গেমস বা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বিশেষ প্রশিক্ষণও দরকার। সেটা পাঁচ-ছয় মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরও হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এবারের প্রস্তুতিটা পর্যাপ্ত ছিল না।’
কুইক ফিক্স থেকে বের হতে হবে
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আফরোজের কাছে প্রস্তুতির সময় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্ট্রিমকে জানান, কমনওয়েলথে অংশ নেওয়া অ্যাথলেটদের প্রস্তুতির সময় একেক ফেডারেশনের জন্য একেক রকম ছিল। বড় আসরে ভালো করতে হলে শুধু ক্যাম্প করলেই হবে না, একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, সঠিক অ্যাথলেট নির্বাচন ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বও রয়েছে।
কম সময়ে কি ভালো ফলাফল করা সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘আমরা খুব কুইক ফিক্স রেজাল্ট চাই। আমাদের যে অবস্থা, তাতে এখন ভাগ্যক্রমে ভালো না হলে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে খেলোয়াড় নেওয়া হলেও তাদের সারা বছর ‘নার্চার’ করার ব্যবস্থা নেই।
ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘আপনাকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে—আপনি কোন অলিম্পিকে কিংবা কোন এশিয়ান গেমসে মেডেল চান। সেই হিসেবে ১০ বছর আগে থেকে আপনাকে একজন অ্যাথলেট তৈরি করতে হবে।’
সব সম্ভাবনা কি শুটিংয়েই
বিওএ সহসভাপতি শুটিংয়ের বাইরে জিমন্যাস্টিকস ও বক্সিংয়েও বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছেন। ইমরোজ আফরোজ বলেন, গ্লাসগো কমনওয়েলথে জিমন্যাস্টিকসে দলীয় ইভেন্টে ২৭ দলের মধ্যে ভারতের ঠিক পিছনে অষ্টম অবস্থানে শেষ করেন শিশির, রাজীব ও রাফিরা। ল্যান্ডিং আরও নিখুঁত হলে আরও ভালো ফল সম্ভব ছিল। বক্সিংয়ে রাকিব কোয়ার্টার ফাইনালে হারলেও সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, গত দুই আসরে শুটিং না থাকার বিষয়টি বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। গত দুই কমনওয়েলথে শুটিং না থাকার কারণ হিসেবে বাকী বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফায়ারআর্মস বহনসহ কিছু সমস্যার কথা বিবেচনা করে শুটিংকে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে ২০৩০ আসরে ইভেন্টটি আবার ফিরবে—এমন আশার কথা শোনালেন তিনি। বাকী বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি, পরের কমনওয়েলথ গেমসে শুটিং অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক বেশি। প্রায় ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বলেই আমার বিশ্বাস।’
বিওএ সহসভাপতি ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘শুটিং ও আর্চারি না থাকায় বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। তবে দায় শুধু এই দুটি খেলার অনুপস্থিতির নয়। অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারকে মাল্টি-স্পোর্টস গেমসের মাদার স্পোর্টস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এই দুটি খেলায় দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।’
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
খেলোয়ার তৈরিতে বিওএর ভূমিকা নিয়ে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘খেলোয়াড় তৈরি ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা মূলত সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের দায়িত্ব। বিওএ মাল্টি-স্পোর্টস গেমসের ক্ষেত্রে সমন্বয় করে এবং সরকার অর্থায়ন করলে প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণের ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখে।’
দীর্ঘমেয়াদি বাজেটের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘সরকার যদি প্রতি বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ করে, তখন স্পোর্টসকে এগিয়ে নিতে পারবেন না। স্পোর্টসের উন্নয়নে অন্তত তিন বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে।’
আবদুল্লাহ হেল বাকীও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রতিভা খুঁজে তাদের তৈরি করতে ন্যূনতম আট থেকে ১০ বছরের পরিকল্পনা দরকার।’
পুষ্টি, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাতেও ঘাটতি
পুষ্টি ও অবকাঠামো নিয়ে ইমরোজ আফরোজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরি করতে পর্যাপ্ত পুষ্টির উৎসও জরুরি। বর্তমান বাজারের হিসাবে ক্যাম্পের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক মানের পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যায়।’ এছাড়া ছোট বয়সেই অ্যাথলেট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমির অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য ফেডারেশন, মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। ২০৩০ বা ২০৩২ সালের বড় আন্তর্জাতিক আসরে পদক আনতে হলে আমাদের এখন থেকেই সঠিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’
.png)

ভারত ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। তবে দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে সিরিজ নিয়ে নতুন সংশয় দেখা দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে ফিফা। শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও তাঁর পদত্যাগের দাবি নিয়ে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
৪ ঘণ্টা আগে
সার্বিয়ার পোজারেভাচ শহরে আয়োজিত ‘রুদার ৩৫-এ গ্র্যান্ড মাস্টারস’ দাবা প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের ফিদে মাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়া।
২০ ঘণ্টা আগে
লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে রোজারিওতে মারা যান তিনি।
০৮ আগস্ট ২০২৬