স্ট্রিম ডেস্ক

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে শুরু হলো সাম্বার উৎসব। হলুদ জার্সির ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে এল পরিচিত সুর - 'ওলে, ওলে, ব্রাজিল!' অনেক দিন পর সমর্থকদের চোখেমুখে এমন তৃপ্তি। কারণ শুধু জয় নয়, ফেরাটাও। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিতের পাশাপাশি এই ম্যাচে নিজের চেনা রূপেও ফিরেছে ব্রাজিল।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র আর হাইতির বিপক্ষে বিবর্ণ দ্বিতীয়ার্ধের পর প্রশ্ন উঠছিল কার্লো আনচেলত্তির দলকে নিয়ে। এই ব্রাজিল কি আসলেই বিশ্বকাপ জেতার মতো দল? সেই প্রশ্নের জবাব এল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। এরই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক তারকা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ রক্ষণের ভুলের সুযোগ নেন ভিনি। সেন্টার-ব্যাক ম্যাকেনাকে চাপে ফেলেন তরুণ সেলেসাও উইঙ্গার রায়ান; বলের দখল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করতে ভুল করেননি ভিনি। এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়ে গেছেন তিনি।
২২ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠিয়েছিলেন ভিনি, কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কেড়ে নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্কটিশ ডিফেন্ডার হেনড্রির পায়ে হালকা স্পর্শ লেগেছিল তাঁর। সিদ্ধান্তটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক। তবে এতে ভিনির মনোযোগ এতটুকু টলেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের দারুণ এক ক্রসে লাফিয়ে উঠলেন, কোঁকড়া চুলের ঢাকা মাথাটা এগিয়ে দিলেন, নিখুঁত হেড। স্কটল্যান্ডের গোলকিপার চেয়ে দেখলেন শুধু। বল জালে, গোল ব্যবধান হলো ২-০। সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপনে মাতলেন ভিনি। কর্নার কিক স্পটে সাম্বার ঢঙে একটু নাচলেনও।
ভিনির দ্বিতীয় এই গোলটি নিছক একটি গোলের চেয়ে বেশি কিছু। বিশ্বকাপ শুরুর আগে কোচ আনচেলত্তিকে ভিনি কথা দিয়েছিলেন, এবার হেডে গোল করবেন। মাত্র পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চির এই ফরোয়ার্ডের কথা শুনে কোচ নাকি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে সেই হাসির জবাব দিলেন ভিনি নিজেই - 'কোচ বলেছিলেন, কাজটা প্রায় অসম্ভব। তবে এটাও বলেছিলেন, হেডে গোল করতে পারলে একটা উপহার দেবেন। আমি এখন সেই উপহারের অপেক্ষায় আছি।'
বিরতির পরও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি এতটুকু। ৬০ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের বাড়ানো বল থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ম্যাথিউস কুনিয়া, এই বিশ্বকাপে তাঁর তৃতীয় গোল। স্কোরলাইন তখন ৩-০, গ্যালারিতে উৎসব শুরু হয়ে গেছে আরও আগেই।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে ৭৬ মিনিটে। প্রায় আড়াই বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়, 'ওলে, ওলে, নেইমার' ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে গ্যালারি।
গোল না পেলেও মাঠে নিজের উপস্থিতি দারুণভাবেই জানান দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯০ মিনিটে তাঁর একটি শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন স্কটিশ গোলরক্ষক। কিন্তু ততক্ষণে বার্তাটা পৌঁছে গেছে, নেইমার ফিরেছেন।
তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সি’র চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠল ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। ২৯ জুন হিউস্টনে 'এফ' গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। যেখানে ব্রাজিলের সামনে পড়তে পারে এশিয়ান জায়ান্ট জাপান।
এই বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে চার গোল ও এক অ্যাসিস্ট ভিনিসিয়ুসের, তিন ম্যাচেই ম্যাচসেরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড় গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল করলে ট্রফি ছাড়া ঘরে ফেরেনা সেলেসাওরা। ১৯৭০-এ জেয়ারজিনহো, ১৯৯৪-এ রোমারিও, ২০০২-এ রোনালদো ও রিভালদো। এবার সেই তালিকায় নাম উঠালেন ভিনি।
এটা নিছক কাকতালীয়, নাকি নতুন কোনো গল্পের শুরু - সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে মায়ামির রাত শেষে ব্রাজিল সমর্থকদের কণ্ঠে একটাই আহ্বান— নাচো ভিনি, নাচো।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে শুরু হলো সাম্বার উৎসব। হলুদ জার্সির ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে এল পরিচিত সুর - 'ওলে, ওলে, ব্রাজিল!' অনেক দিন পর সমর্থকদের চোখেমুখে এমন তৃপ্তি। কারণ শুধু জয় নয়, ফেরাটাও। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিতের পাশাপাশি এই ম্যাচে নিজের চেনা রূপেও ফিরেছে ব্রাজিল।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র আর হাইতির বিপক্ষে বিবর্ণ দ্বিতীয়ার্ধের পর প্রশ্ন উঠছিল কার্লো আনচেলত্তির দলকে নিয়ে। এই ব্রাজিল কি আসলেই বিশ্বকাপ জেতার মতো দল? সেই প্রশ্নের জবাব এল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। এরই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক তারকা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ রক্ষণের ভুলের সুযোগ নেন ভিনি। সেন্টার-ব্যাক ম্যাকেনাকে চাপে ফেলেন তরুণ সেলেসাও উইঙ্গার রায়ান; বলের দখল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করতে ভুল করেননি ভিনি। এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়ে গেছেন তিনি।
২২ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠিয়েছিলেন ভিনি, কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কেড়ে নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্কটিশ ডিফেন্ডার হেনড্রির পায়ে হালকা স্পর্শ লেগেছিল তাঁর। সিদ্ধান্তটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক। তবে এতে ভিনির মনোযোগ এতটুকু টলেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের দারুণ এক ক্রসে লাফিয়ে উঠলেন, কোঁকড়া চুলের ঢাকা মাথাটা এগিয়ে দিলেন, নিখুঁত হেড। স্কটল্যান্ডের গোলকিপার চেয়ে দেখলেন শুধু। বল জালে, গোল ব্যবধান হলো ২-০। সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপনে মাতলেন ভিনি। কর্নার কিক স্পটে সাম্বার ঢঙে একটু নাচলেনও।
ভিনির দ্বিতীয় এই গোলটি নিছক একটি গোলের চেয়ে বেশি কিছু। বিশ্বকাপ শুরুর আগে কোচ আনচেলত্তিকে ভিনি কথা দিয়েছিলেন, এবার হেডে গোল করবেন। মাত্র পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চির এই ফরোয়ার্ডের কথা শুনে কোচ নাকি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে সেই হাসির জবাব দিলেন ভিনি নিজেই - 'কোচ বলেছিলেন, কাজটা প্রায় অসম্ভব। তবে এটাও বলেছিলেন, হেডে গোল করতে পারলে একটা উপহার দেবেন। আমি এখন সেই উপহারের অপেক্ষায় আছি।'
বিরতির পরও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি এতটুকু। ৬০ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের বাড়ানো বল থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ম্যাথিউস কুনিয়া, এই বিশ্বকাপে তাঁর তৃতীয় গোল। স্কোরলাইন তখন ৩-০, গ্যালারিতে উৎসব শুরু হয়ে গেছে আরও আগেই।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে ৭৬ মিনিটে। প্রায় আড়াই বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়, 'ওলে, ওলে, নেইমার' ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে গ্যালারি।
গোল না পেলেও মাঠে নিজের উপস্থিতি দারুণভাবেই জানান দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯০ মিনিটে তাঁর একটি শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন স্কটিশ গোলরক্ষক। কিন্তু ততক্ষণে বার্তাটা পৌঁছে গেছে, নেইমার ফিরেছেন।
তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সি’র চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠল ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। ২৯ জুন হিউস্টনে 'এফ' গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। যেখানে ব্রাজিলের সামনে পড়তে পারে এশিয়ান জায়ান্ট জাপান।
এই বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে চার গোল ও এক অ্যাসিস্ট ভিনিসিয়ুসের, তিন ম্যাচেই ম্যাচসেরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড় গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল করলে ট্রফি ছাড়া ঘরে ফেরেনা সেলেসাওরা। ১৯৭০-এ জেয়ারজিনহো, ১৯৯৪-এ রোমারিও, ২০০২-এ রোনালদো ও রিভালদো। এবার সেই তালিকায় নাম উঠালেন ভিনি।
এটা নিছক কাকতালীয়, নাকি নতুন কোনো গল্পের শুরু - সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে মায়ামির রাত শেষে ব্রাজিল সমর্থকদের কণ্ঠে একটাই আহ্বান— নাচো ভিনি, নাচো।
.png)

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেওয়া বাংলাদেশ এখনো স্বাগতিকদের চেয়ে ৬৭ রানে এগিয়ে রয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) আগের দিনের ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়। তানজিদ হা
৮ ঘণ্টা আগে
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৮ রানের জবাবে শনিবার (১৫ আগস্ট) তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে হাসান মাহমুদের পেসে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার
১৩ ঘণ্টা আগে
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে প্রথম সেশনেও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আধিপত্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৮ রানের জবাবে শনিবার (১৫ আগস্ট) তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৮ উইকেটে ৪১৭ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। এর মাধ্যমে ২১৯ রানের বিশাল লিড পেয়েছে সফরকারীরা। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব
১৪ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে স্বাগতিক পেসারদের বাউন্স ও সুইং সামলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্য প্রথম সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ তামিম। এটি তাঁরও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। নিজের এ অর্জন মা-বাবাকে উৎসর্গ করেছেন তামিম।
১৪ আগস্ট ২০২৬