ad

সিলেট টেস্ট: জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫ উইকেট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১৫: ১৮
পাকিস্তানের উইকেট পতনে বাংলাদেশিদের উল্লাস। সংগৃহীত ছবি

সিলেট টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫ উইকেট। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে পাকিস্তান দল ৫ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান সংগ্রহ করে। রিজওয়ান ১৫ ও সালমান ২৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।

পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৩৭ রান ও বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ২ উইকেটে ১০১ রান তুলে বেশ ভালোভাবেই প্রতিরোধই গড়েছিল সফরকারীরা।

তবে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় সেশনে এসে টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেয় নাহিদ ও তাইজুল। অধিনায়ক শান মাসুদের লড়াই সত্ত্বেও দ্বিতীয় সেশনের শেষভাগে জোড়া উইকেট শিকার করে ম্যাচ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর পাকিস্তানের ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। বিরতির পর বাংলাদেশি পেসার ও স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে বেশ কিছু বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ওডিআই স্টাইলে রান তোলার গতি সচল রাখেন বাবর। বিশেষ করে নাহিদ রানাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি দারুণ চার মেরে তিনি ইনিংসের কিছু প্রেসার রিলিজ কমানোর কাজ ও করছিলেন। বাবর ও শানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের নিজেদের দিকে নিচ্ছিল।

কিন্তু টাইগারদের অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম এই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন। দারুণ খেলতে থাকা বাবর আজমকে সাজঘরে ফেরান তিনি। তাইজুলের একটি টার্ন করা ফ্লাইটেডের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিস টাইমিং করেন বাবর। বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। ৫২ বলে ৪৭ রান করে অর্ধশতকের ঠিক ৩ রান আগে আউট হন বাবর আজম। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসা সৌদ শাকিলও মাত্র ৬ রান করে বেশি সময় স্থায়ীও হতে পারেননি, নাহিদের বলে এডজ হয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি ।

বাবর বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক তুলে নেন অধিনায়ক শান মাসুদ। বাউন্ডারি মেরে স্কোরবোর্ড সচল রাখার দায়িত্ব নেন তিনি। তবে পাকিস্তানের ইনিংসের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলা অধিনায়ক শান মাসুদকে ৭১ রানে ফিরিয়ে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। শানের ডিফেন্সিভ শট ফরওয়ার্ড শর্ট লেগে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের দুর্দান্ত এক লো-ক্যাচে পরিণত হলে স্তব্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানের অধিনায়ক ও ড্রেসিংরুম। ১১৬ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৭১ রান করা শান মাসুদের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।

এর আগে সেশনের শুরুতে ওপেনার আবদুল্লাহ ফজলকে সাজঘরে ফেরান গতি তারকা নাহিদ রানা। নাহিদ রানার একটি গতিশীল ও বাড়তি বাউন্সের বলে পরাস্ত হন আবদুল্লাহ ফজল। বলটি ফজলের ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় স্লিপ অঞ্চলে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মাহমুদুল হাসান জয় কোনো ভুল না করে দারুণ একটি ক্যাচ লুফে নেন। ২৮ বলে মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন ফজল। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইসকে ২১ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। ৪৯ বলে ২১ রান করে রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে লাইনে পরাস্ত হন আজান এবং আম্পায়ার এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত দেন।

নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার। সালমান আগা কিছু বাউন্ডারি মেরে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় সেশনের শেষ নাগাদ ৫ উইকেটে ২০০ রান তুলে ধুঁকছে পাকিস্তান। ম্যাচ জিততে সফরকারীদের এখনো প্রয়োজন ২৩৭ রান, আর বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৫টি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (চতুর্থ দিন, দ্বিতীয় সেশন শেষে):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০ ও ২য় ইনিংস: ৩৯০/১০

পাকিস্তান ১ম ইনিংস ২৩২/১০

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ২০০/৫ (শান মাসুদ ৭১, বাবর আজম ৪৭, সালমান আঘা ২৫*, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৫*; তাইজুল ইসলাম ২/৬২, নাহিদ রানা ২/৪৩)।

Ad 300x250

সম্পর্কিত