বদলে যাওয়া পানামার ফুটবলে অনুপ্রেরণা ‘ডালাস কাপ’

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

ছবি: ক্যাসকোভিজো৩৬০ডটকম

২০০৮ সালের আগেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব একটা আলোচনায় ছিল না উত্তর আমেরিকার দেশ পানামা। অর্ধকোটির কম জনসংখ্যার দেশটি এক দশকের মধ্যেই জায়গা করে নেয় ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। দেশটির এই উত্থানের পেছনে কাজ করে ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘ডালাস কাপ’। পানামার সংবাদমাধ্যম লা প্রেনসার মতে, সেই টুর্নামেন্টই ছিল পানামার ফুটবলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সেই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় পানামার ক্লাব চোরিয়ো এফসির অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি পরিচিত না হলেও দলটি একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। সেমিফাইনালে তারা সোলার অনূর্ধ্ব-১৮ একাডেমিকে ৩-০ গোলে হারায়। ফাইনালে শ্যাটাক সেন্ট মেরিজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে চোরিয়ো। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ছিল অপরাজিত।

ডালাস কাপকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট ধরা হয়। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সময় অংশ নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, সাও পাওলোর মতো ক্লাব। চোরিয়োর সেই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প ছিল না। এটি দেখিয়ে দিয়েছিল, পানামায় প্রতিভার অভাব নেই। প্রয়োজন ছিল শুধু কাঠামো, উন্নত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ।

পরে পানামার ফুটবলে যুব একাডেমি, রিজার্ভ লিগ ও পেশাদার কাঠামো আরও শক্তিশালী হতে থাকে। বিশ্লেষকের মতে, সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রতীক ছিল ২০১০ সালের ডালাস কাপ।

২০১৮ বিশ্বকাপে তিন ম্যাচের কোনোটিতে জয় পায়নি পানামা। সেবারের নিষ্প্রভ অভিষেকের ৮ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে ‘দ্য ক্যানালেরোসরা’। এবার প্রতিবেশী দেশের আসরে নিশ্চয়ই ভালো কিছু সুযোগ খুঁজবেন থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের শিষ্যরা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৩তম পজিশনে থাকা দেশটির প্রধান কোচ হিসেবে ড্যানিশ ফুটবলার থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন আগে ইংলিশ ক্লাব লিডসের ডাগআউট সামলেছেন।

মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের পরেই কনকাকাফ অঞ্চলে পানামা এখন অন্যতম শক্তিশালী দল। বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে চার ম্যাচের সবকটি জিতে তারা ফাইনাল রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে। সেখান থেকে ৬ ম্যাচে সমান সংখ্যক ম্যাচে জয় ও ড্র নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে।

পানামা এবার পড়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ‘হেভিওয়েট’ গ্রুপ ‘এল’-এ। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ১৮ জুন ঘানা, ২৪ জুন ক্রোয়েশিয়া এবং ২৮ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে পানামা।

প্লেয়ার টু ওয়াচ

এবার বিশ্বকাপে পানামিয়ানদের চোখ থাকবে স্ট্রাইকার জশ ফাজারডোর দিকে, যিনি তাদের জাতীয় দলের হয়ে ১৭ গোল করেছেন। আর দেশটির ২৭ বছর বয়সী রাইট উইঙ্গার জশ লুইস রদ্রিগুয়েজও জাতীয় দলের হয়ে আটটি গোল করেছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তিনি তিন গোল করেছেন।

গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া স্পষ্ট ফেবারিট। তবে পানামাকে ‘আন্ডারডগ’ ভাবা হবে বোকামি। ১৮ জুন ঘানার বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে পানামা ২৪ বা ২৮ তারিখের যেকোনো একটি বড় ম্যাচে অঘটন ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে পারে।

সূত্র: ইএসপিএন, লা প্রেনসার, ক্যাসকোভিজো৩৬০ডটকম

সম্পর্কিত