কাজী মাকতাবার পান্থ

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিশ্বজয়ের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আনন্দে মেতে উঠেছে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল। একই রাতে হাজার মাইল দূরের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে ফিলিস্তিনি শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ শেষে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই। কখনো সোনালি ট্রফিটি হাতে নিয়ে দেখছে, আবার কখনো চুমু খাচ্ছে। বড় ভাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—এমন অর্জনে ছোট্ট কেইন ইয়ামালের কাছে এর চেয়ে বড় গর্বের আর কী হতে পারে! পুরো মেটলাইফ স্টেডিয়ামজুড়ে কখনো ফুটবল নিয়ে, আবার কখনো গোলবারের নেটের টুকরো নিয়ে তার দৌড়াদৌড়ির এমন মিষ্টি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে সেই রাতের আনন্দের গল্প শুধু নিউজার্সিতেই আটকে ছিল না। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ধ্বংসস্তূপে ঘেরা গাজার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা গেছে স্পেনের জয়ে কেইন ইয়ামালের মতোই উচ্ছ্বসিত কিছু ফিলিস্তিনি শিশুকে। যে শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে যুদ্ধ, তাদের মুখেও যেন এই ফুটবল জয় এনে দিয়েছিল এক টুকরো হাসি। দুটি ভিন্ন ভূখণ্ড, দুটি ভিন্ন বাস্তবতা—তবুও একই রাতে একটিই অনুভূতি যেন আনন্দের এক পরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে স্পেনের এই সংযোগ কিন্তু হঠাৎ তৈরি হয়নি। এই তো কিছুদিন আগে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময় ছাদখোলা বাসে লামিন ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে মেতেছিলেন উল্লাসে। গাজায় ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসন ও চলমান যুদ্ধের সময় যখন বিশ্বের নামী ক্রীড়াতারকারা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, ঠিক তখনই ইয়ামালের সেই প্রতীকী বার্তা ফিলিস্তিনিদের নজর কেড়েছিল এবং তাদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার দেওয়ালে ইয়ামালের পতাকা হাতে আঁকা গ্রাফিতি কিংবা স্পেনের প্রতি গাজাবাসীদের সমর্থনের বহু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু ইয়ামাল নন, রাষ্ট্র হিসেবে স্পেনও গাজার মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ্যে বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি স্পেন গাজা থেকে ২০ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে তাদের পরিবারসহ চিকিৎসার জন্য দেশটিতে নিয়ে গেছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
এ নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছিলেন, ‘কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশুরই গাজার মতো এমন বিভীষিকা সহ্য করা উচিত নয়।’ তিনি এটিকে স্পেনের ‘নৈতিক দায়িত্ব’ বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার অধিকারের পক্ষেও জোরালো বক্তব্য দেন।
ফুটবল ট্রফি জেতায়, গোলের হিসাব রাখে কিংবা রেকর্ড গড়ে নতুন ইতিহাস লেখে—কত কিছুই না করে। তবে কখনো কখনো ফুটবল এসবের চেয়েও বড় কিছু হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে একটি প্রবাদ খুব পরিচিত—‘ফুটবল ইজ মোর দ্যান আ গেম’। আর একজন খেলোয়াড়ের মানবিক অবস্থান, একটি দেশের সহমর্মিতা কিংবা একটি নিপীড়িত দেশের পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন—এসবও মানুষের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।
তাই স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয়ের রাতটিকে কেবল ফুটবল ইতিহাসের রাত বললে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ একই রাতে এক শিশুর মুখে ফুটেছিল বড় ভাইয়ের বিশ্বজয়ের হাসি, আর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কিছু শিশুর মুখে ফুটেছিল নিজেদের অন্ধকার দুনিয়ায় কিছুক্ষণের জন্য আলোর ঝিলিক।
হয়তো এটাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি হয়তো সব ক্ষত সারাতে পারে না, কিংবা যুদ্ধটাও থামাতে পারে না; কিন্তু কখনো কখনো ভেঙে পড়া পৃথিবীর মাঝেও মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে ফুটবল।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিশ্বজয়ের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আনন্দে মেতে উঠেছে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল। একই রাতে হাজার মাইল দূরের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে ফিলিস্তিনি শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ শেষে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই। কখনো সোনালি ট্রফিটি হাতে নিয়ে দেখছে, আবার কখনো চুমু খাচ্ছে। বড় ভাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—এমন অর্জনে ছোট্ট কেইন ইয়ামালের কাছে এর চেয়ে বড় গর্বের আর কী হতে পারে! পুরো মেটলাইফ স্টেডিয়ামজুড়ে কখনো ফুটবল নিয়ে, আবার কখনো গোলবারের নেটের টুকরো নিয়ে তার দৌড়াদৌড়ির এমন মিষ্টি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে সেই রাতের আনন্দের গল্প শুধু নিউজার্সিতেই আটকে ছিল না। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ধ্বংসস্তূপে ঘেরা গাজার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা গেছে স্পেনের জয়ে কেইন ইয়ামালের মতোই উচ্ছ্বসিত কিছু ফিলিস্তিনি শিশুকে। যে শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে যুদ্ধ, তাদের মুখেও যেন এই ফুটবল জয় এনে দিয়েছিল এক টুকরো হাসি। দুটি ভিন্ন ভূখণ্ড, দুটি ভিন্ন বাস্তবতা—তবুও একই রাতে একটিই অনুভূতি যেন আনন্দের এক পরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে স্পেনের এই সংযোগ কিন্তু হঠাৎ তৈরি হয়নি। এই তো কিছুদিন আগে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময় ছাদখোলা বাসে লামিন ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে মেতেছিলেন উল্লাসে। গাজায় ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসন ও চলমান যুদ্ধের সময় যখন বিশ্বের নামী ক্রীড়াতারকারা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, ঠিক তখনই ইয়ামালের সেই প্রতীকী বার্তা ফিলিস্তিনিদের নজর কেড়েছিল এবং তাদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার দেওয়ালে ইয়ামালের পতাকা হাতে আঁকা গ্রাফিতি কিংবা স্পেনের প্রতি গাজাবাসীদের সমর্থনের বহু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু ইয়ামাল নন, রাষ্ট্র হিসেবে স্পেনও গাজার মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ্যে বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি স্পেন গাজা থেকে ২০ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে তাদের পরিবারসহ চিকিৎসার জন্য দেশটিতে নিয়ে গেছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
এ নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছিলেন, ‘কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশুরই গাজার মতো এমন বিভীষিকা সহ্য করা উচিত নয়।’ তিনি এটিকে স্পেনের ‘নৈতিক দায়িত্ব’ বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার অধিকারের পক্ষেও জোরালো বক্তব্য দেন।
ফুটবল ট্রফি জেতায়, গোলের হিসাব রাখে কিংবা রেকর্ড গড়ে নতুন ইতিহাস লেখে—কত কিছুই না করে। তবে কখনো কখনো ফুটবল এসবের চেয়েও বড় কিছু হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে একটি প্রবাদ খুব পরিচিত—‘ফুটবল ইজ মোর দ্যান আ গেম’। আর একজন খেলোয়াড়ের মানবিক অবস্থান, একটি দেশের সহমর্মিতা কিংবা একটি নিপীড়িত দেশের পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন—এসবও মানুষের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।
তাই স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয়ের রাতটিকে কেবল ফুটবল ইতিহাসের রাত বললে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ একই রাতে এক শিশুর মুখে ফুটেছিল বড় ভাইয়ের বিশ্বজয়ের হাসি, আর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কিছু শিশুর মুখে ফুটেছিল নিজেদের অন্ধকার দুনিয়ায় কিছুক্ষণের জন্য আলোর ঝিলিক।
হয়তো এটাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি হয়তো সব ক্ষত সারাতে পারে না, কিংবা যুদ্ধটাও থামাতে পারে না; কিন্তু কখনো কখনো ভেঙে পড়া পৃথিবীর মাঝেও মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে ফুটবল।

স্প্যানিশ ফরওয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় অর্জনকে ব্রাজিলের নেইমারকে উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ফুটবলে নিজের প্রেরণা ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারকে ভুললেন না স্পেনের উইঙ্গার।
১৮ ঘণ্টা আগে
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ফাইনালের এই মহামঞ্চে গোলপোস্ট থেকে আক্রমণ ভাগ, সব অংশের খেলোয়ারদেরই ছিল দাপট।
২০ ঘণ্টা আগে
টানটান উত্তেজনা, লাল কার্ডের নাটকীয়তা আর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের চোখ ধাঁধানো গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সিংহাসন কেড়ে নিয়েছে স্পেন। এমন থ্রিলিং ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন অসহায় আত্মসমর্পণের কারণ কী? স্পেনই বা কী কৌশলে এভাবে বোতলবন্দি করে রাখল মেসি অ্যান্ড কোং কে? উত্তরটা অতটাও জটিল নয়।
১ দিন আগে
বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারে ছিল স্পেনেরই জয়জয়কার। সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারই উঠেছে স্পেনের তারকাদের হাতে। তবে গোলের মঞ্চে সবাইকে পেছনে ফেলে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
২০ জুলাই ২০২৬