ad

কোনোমতে জাপান বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

মার্টিনেল্লির গোলের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের উল্লাস। ছবি : রয়টার্স

নকআউটের শুরুতেই যে ব্রাজিলের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, সেটা ম্যাচের আগেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন সেলেসাও বস কার্লো আনচেলত্তি। পরিকল্পনাও নিশ্চয় সেভাবেই করেছিলেন। এরপরও জাপানের ‘বাস-পার্কিং’ ডিফেন্সে ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা যেন বেজেই গিয়েছিল।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বদলি এই ফরোয়ার্ডের গোলেই ঘাম ঝরিয়ে জাপানকে হারিয়েছে সেলেসাওরা। ২-১ গোলের ব্যবধানে এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আনচেলত্তির দল।

সোমবার (২৯ জুন) হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের পায়ে। তবে জাপানের অর্ধে আক্রমণে একেবারেই ছন্দহীন ছিল ভিনিসিয়ুস-রায়ানরা। অন্যদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ম্যাচজুড়ে সেলেসাওদের ভুগিয়েছে জাপান।

ম্যাচের আগে জাপানের কেন্তে শিওগাই বলেছিলেন, ব্রাজিল আর আগের মতো শক্তিশালী নয়; বর্তমানে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা তাদের চেয়ে এগিয়ে। জবাবে আনচেলত্তি বলেছিলেন, প্রতিপক্ষের মন্তব্য নয়, তাদের খেলার ধরন নিয়েই ভাবছেন তিনি। মাঠেই সেই জবাব দিয়েছেন ব্রাজিল ফ্যানদের প্রিয় ‘ডন কার্লো’। তবে কাজটা মোটেও সহজ হয়নি ব্রাজিলের।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে জাপানের রক্ষণভাগ। মাঝমাঠেও ব্রাজিলকে স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি হাজিমে মোরিয়াসুর দল। ২৯ মিনিটে সেই চাপেরই ফল পায় জাপান। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান কাইশু সানো। মোটেই ভুল করেননি তিনি। দারুণ এক শটে এশিয়ান জায়ান্টদের এগিয়ে নেন তিনি।

গোল হজমের পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ালেও বিরতির আগে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। জাপানের জমাট রক্ষণে আটকে যান কুনিয়া, পাকেতা ও ভিনিসিয়ুসরা।

দ্বিতীয়ার্ধে সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসেবে লুকাস পাকেতার জায়গায় এনড্রিককে মাঠে নামান সেলেসাও কোচ। এনড্রিকের গতিময় উপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণে ধার বাড়ে। এর সুফলও আসে দ্রুত। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের ক্রস থেকে হেডে সেলেসাওদের সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ কাসেমিরো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার দশম গোল।

প্রথম গোলের দুই মিনিট পরই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোরালো শট জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকির আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। এরপর ম্যাচে একের পর এক আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। তবে রক্ষণে অনড় ছিল জাপান।

নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলে ভাবছিলেন সমর্থকরা, ঠিক তখনই সেলেসাওদের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন বদলি ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে সুজুকিকে পরাস্ত করেন তিনি। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।

এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আগে গোল হজম করেও ম্যাচ জিতল সেলেসাওরা। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও বিদায় নিতে হলো জাপানকে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত