১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিসংক্রান্ত আদেশ স্থগিতের নির্দেশনা
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টিও অধিকতর পর্যালোচনার অনুরোধ করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের মাধ্যমে আমদানির বিষয়ে এনবিআরের জারি করা আদেশটি অধিকতর পর্যালোচনার জন্য আপাতত স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর এনবিআরের কাস্টমস (রপ্তানি ও বন্ড) শাখা এক অফিস আদেশে বন্ড সুবিধার আওতায় থাকা রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে নতুন শর্ত আরোপ করে।
ওই আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়ে সুতা আমদানি করতে হবে। আমদানি করা সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে।
এনবিআরের ওই সিদ্ধান্তের পেছনে স্থানীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর যুক্তি দেখানো হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল এনবিআর। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহের বিষয়টিও সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করে আসছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠন দুটির অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কাঁচামাল আমদানির ব্যয় ও জটিলতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর মতে, স্থানীয় বাজারে সুতার দাম তুলনামূলক বেশি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক স্পিনিং মিল পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় উৎস থেকে ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা এবং ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত একসঙ্গে কার্যকর হলে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
চিঠির অনুলিপি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রপ্তানি-সংক্রান্ত শাখাগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
.png)
-7c29dd-256x144.webp)





