পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
সিলেট

দুই টেস্টে জিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে উৎসবে মাতেন তাইজুলরা। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিজে পাকিস্তানের শেষ জুটি। তাইজুল ইসলাম বল হাতে নিতেই তাঁর নামে গগনবিদারী চিৎকার। গ্যালারিকে নিরাশ করেননি তিনি। উড়িয়ে মারতে গেলেন খুররম শাহজাদ। বাউন্ডারি লাইনে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমালেন তানজিদ হাসান তামিম। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে উল্লাসে মাতল বাংলাদেশ।

শেষ দিনে বুধবার (২০ মে) সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারাল টাইগাররা। সিরিজ জিতল ২-০ ব্যবধানে। এই নিয়ে টানা দুবার টেস্টে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় কোনো টেস্ট দল, যারা পাকিস্তানকে টানা দুবার হোয়াইটওয়াশ করল। এর আগে ২০২৪ সালে ঘরের মাঠ রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল নাজমল হোসেন শান্তর দল।

বাংলাদেশের নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিতল টানা চার টেস্ট। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জেতার নজির ছিল। এই জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে টেবিলের পাঁচে উঠে এলো বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অনেক পথ বাকি থাকলেও, আপাতত ইংল্যান্ড, ভারতের উপরে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন মুশফিকরা।

স্পিনার তাইজুল ইসলাম ক্যারিয়ারের ১৮তম ফাইফারে ৬ উইকেট নিয়েছেন ১২০ রানে। নাহিদ রানার ঝুলিতে ৭১ রান খরচায় ২ উইকেট।

জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সদস্যদের উৎসব। ছবি: সংগৃহীত
জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সদস্যদের উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

বড় জয়ের আভাস ছিল আগের দিন থেকেই। বৃষ্টিতে ১৫ মিনিট বিলম্বে শুরু হওয়া শেষ দিনের খেলায় বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়াচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। প্রথম ঘণ্টার বিরতির পর বদলে গেল সব। শরীরী ভাষায় বারুদ নিয়ে দ্রুতই মুড়ে দিল প্রতিপক্ষকে। ৪৩৭ রানের রেকর্ড তাড়ায় পাকিস্তান থামল ৩৫৮ রানে।

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তান করেছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৫ ও সাজিদ খান ৮ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করেন। প্রথম সেশন ছিল উত্তেজনা আর স্নায়ুযুদ্ধের। পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার ওপর চড়াও হন সাজিদ খান। বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আশা জাগান তিনি। সঙ্গে সাবলীল ব্যাটিংয়ে শতকের দিকে এগোচ্ছিলেন রিজওয়ান।

বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বোলিং পরিবর্তন করেও জুটি ভাঙতে পারছিলেন না। তবে প্রথম আক্রমণে এসে ৫২ রানের অষ্টম জুটি ভাঙেন তাইজুল। সাজিদ ৩৪ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তখনো অন্য প্রান্ত আগলে রিজওয়ান ৯৪ রানে ছিলেন। শতক থেকে মাত্র ৬ রান দূরে শরীফুল ইসলামের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে পরাস্ত হন রিজওয়ান। বল ব্যাটকে চুমু দিয়ে লেগে মিরাজের তালুতে যায়। রিজওয়ানের বিদায়ে পাকিস্তানের জয়ের সব আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

এরপর ক্রিজে মোহাম্মদ আব্বাস ও খুররম শাহজাদ এলেও সুবিধা করতে পারেননি। বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল খুররমকে তুলে একাই পাকিস্তানকে মুড়িয়ে দেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮; পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০; পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩৫৮। (মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪, শান মাসুদ ৭১, সালমান আলী আগা ৭১, বাবর আজম ৪৭; তাইজুল ইসলাম ৬/১২০, নাহিদ রানা ২/৭১)।

সম্পর্কিত