খাদ্যের দাম বাড়ায় বড় চাপে নিম্নআয়ের মানুষ: সিপিডি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২১: ২৬
‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপ। সংগৃহীত ছবি

খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সংস্থাটির আয়োজিত সংলাপে এ কথা জানানো হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ব্যয়ের বড় অংশ খাদ্যে চলে যাওয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ তাদের ওপর পড়ছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সঞ্চয়ের মতো প্রয়োজনীয় ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে। তিনি জানান, উৎপাদন ব্যয়, বাজারজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অদক্ষতা, মজুতদারি ও প্রতিযোগিতার অভাব খাদ্যের দাম বাড়ার জন্য দায়ী।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর জানান, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখনো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। প্রকৃত মজুরি না বাড়ায় এবং ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার সঞ্চয় ভেঙে বা ঋণের ওপর নির্ভর করে খরচ চালাচ্ছে।

সিপিডির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবার তাদের মোট ব্যয়ের ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্যে ব্যয় করে। অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবার ব্যয় করে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বর্তমানে ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রায় ৫৯ শতাংশই খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল।

গবেষণায় ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছয়টি পণ্যের ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত নির্দিষ্ট কিছু নগর আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল। এই অতিনির্ভরতার ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং মূল্য অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরবরাহ শৃঙ্খল যত দীর্ঘ হয়, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির হারও তত বাড়ে। কাঁচা মরিচের ক্ষেত্রে এ হার ১১৬ শতাংশ, চালে ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ এবং আলুতে ৫০ শতাংশ। তবে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও রুই মাছের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলক কম।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা উচ্চমূল্যের প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকট, ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ ও মজুতদারিকে চিহ্নিত করেছেন।

অন্যদিকে শ্রম, সার, পরিবহন ও পশুখাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদক মূল্য বাড়লেও কৃষকের প্রকৃত আয় কমেছে; এমনকি মুরগি ও গরুর মাংস উৎপাদনে খামারিদের নিট বিপণন মার্জিন ঋণাত্মক।

ফখরুদ্দিন আল কবীর বলেন, কেবল মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী না করে উৎপাদন ব্যয় ও বাজার কাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিপিডি সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানো, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও নিয়মিত মূল্যতথ্য প্রকাশ, কোল্ড চেইন অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে।

সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডলসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞগণ অংশ নেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত