বন্ধ কারখানা সচলে গ্যারান্টি চায় ব্যাংকগুলো

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২০: ৪২
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি দাবি করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সভায় ব্যাংকগুলোর প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা (সিআরও) এবং প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তারা (সিবিও) এই দাবি তুলে ধরেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান তাঁর যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন বৈঠকে বন্ধ কারখানা সচল করার কথা বলে আসছেন। গত ২৫ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো আবার চালু করতে শিগগির প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হবে।

সরকারও সম্প্রতি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তহবিল গঠন এবং একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রোববার অংশীজনদের মতামত নিতে সভা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সেখানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরেন। শিগগির এই তহবিল ও নীতিমালা ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সভা সূত্র জানায়, ব্যাংকাররা বন্ধ কারখানা সচল করতে দেওয়া ঋণ যদি পুনরায় খেলাপি বা ‘খারাপ ঋণে’ পরিণত হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো যেন তার ক্ষতিপূরণ পায়, সেজন্য সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি চান।

নতুন করে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিরাপত্তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি জামানত নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা। একইসঙ্গে কারখানাগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরামর্শক বসানোর সুযোগ চান ব্যাংকাররা।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল, প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বন্ধ কল-কারখানা সচলের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কম সুদে ঋণের জন্য বিশেষ একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের অর্থায়নে নাকি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে এ তহবিল হবে সে বিষয় ছাড়াও আরও কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তার সিদ্ধান্ত নিতে ১৯ সদস্যের কমিটি কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটিতে চার নির্বাহী পরিচালক, ছয় পরিচালক, পাঁচ অতিরিক্ত পরিচালক এবং একজন করে যুগ্ম-পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেসব ভালো শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে, তা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতি, অর্থ পাচারসহ বড় অপরাধে জড়িত না– এ রকম কারখানাকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়নে গড়ে ওঠা বন্ধ কারখানার তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে।

সম্পর্কিত