রাকসুকে ব্যঙ্গ করে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৪৩
ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলায়’ বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলায়’ বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) প্রতিনিধিদের ব্যঙ্গ করে ‘ভাউচার মেলা’ করেছে ছাত্রদল। রাকসুর তহবিল থেকে তোলা অর্থের ব্যয় দেখাতে ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত পর্যন্ত এই মেলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বরে মেলায় বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শনী করা হয়।

জানা যায়, রাকসুর ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা খরচের বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল।

এ অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে সংগঠনটি। পরে মাইকিং করে ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, রাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের নাম ব্যবহার করে আটটি স্টল সাজানো হয়েছে। প্রতিটি স্টলে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও বিভিন্ন লেখা দিয়ে ব্যানার টাঙানো রয়েছে।

মেলায় ‘বেলচা ক্রয় ভাউচার’ লেখা একটি ব্যানার। ছবি: সংগৃহীত
মেলায় ‘বেলচা ক্রয় ভাউচার’ লেখা একটি ব্যানার। ছবি: সংগৃহীত

স্টলগুলোতে ‘ভিপি-জিএসের নাস্তার বিল সম্পর্কিত ভাউচার’, ‘সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার’, ‘সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন বাবদ ভাউচার’, ‘ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টর ভাড়া ভাউচার’, ‘কাওয়ালী দলের ভাউচার’, ‘বেলচা ক্রয় ভাউচার’, ‘নেপাল ট্যুর ভাউচার’, ‘রাকসু গেম ভাউচার’ ও ‘ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়া ভাউচার’ নামে ব্যানার দেখা যায়।

মেলার প্রবেশপথে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ লেখা ব্যানার। ভেতরে টাকার লকারের আদলে একটি ছবি স্থাপন করে সেখানে লেখা হয়েছে ‘সবার হিসাব মিলে, আমার হিসাব মিলে না’। এ ছাড়া রাকসু প্রতিনিধিদের ব্যঙ্গ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গানও বাজানো হচ্ছে।

আয়োজকদের দাবি, রাকসুর প্রতিনিধিরা তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করলেও তার বিপরীতে প্রয়োজনীয় ভাউচার জমা দিতে পারছেন না। তাই ব্যঙ্গাত্মকভাবে ভাউচারের বিভিন্ন নমুনা প্রদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি। রাকসুর প্রতিনিধিদের ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে বলেও জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন খবর যেন বাইরে না যায়, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আয়োজন করেছে। তাঁদের যদি কোনো ভুয়া ভাউচার লাগে, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাউচার সোসাইটি তার ব্যবস্থা করবে এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।’

বিজয়-২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফৈরদৌস হাসান বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি, রাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে ভাউচার জমা দেননি। এখন যেহেতু তাঁদের ভাউচার লাগবে, এসব খরচ দেখানোর জন্যই ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

রাকসুকে ব্যঙ্গ করে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’